- দীর্ঘ ৭ বছরের বিরতি ভেঙে সিনেমায় ফিরছেন গোবিন্দ
- ক্ষমার দুয়ার সবসময় খোলা: ৬টি ইস্তিগফার ও তওবার দোয়া
- আন্তর্জাতিক বাজারে বাড়ল তেলের দাম
- বিশ্বকাপ ফুটবলে আজ আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড মহারণ, ফাইনালের টিকিট কার হাতে?
- আমরা জুলাই শহীদদের কাছে চিরঋণী: জামায়াত আমির
- ফের পেছালো হাদি হত্যার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল
- বৃহস্পতিবার ফটিকছড়িতে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল, মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ ঘোষণা
- এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের সুখবর দিলেন শিক্ষামন্ত্রী
- সরকারি চলচ্চিত্র অনুদান ও বাছাই কমিটি পুনর্গঠন, দায়িত্ব পেলেন যারা
- সব পার্ক ও খেলার মাঠ হবে দখলমুক্ত: প্রধানমন্ত্রী
ক্ষমার দুয়ার সবসময় খোলা: ৬টি ইস্তিগফার ও তওবার দোয়া
মানুষ ভুল করবে— এটাই তার স্বভাব। কিন্তু একজন মুমিনের শ্রেষ্ঠ গুণ হলো, ভুলের পর সে নিজের রবের দিকে ফিরে আসে, তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে এবং আন্তরিক তওবা করে। আল্লাহ তাআলা তাওবাকারীদের ভালোবাসেন এবং তার রহমতের দরজা কখনো বন্ধ করেন না। আল্লাহ তাআলা বলেন—
وَتُوبُوا إِلَى اللَّهِ جَمِيعًا أَيُّهَا الْمُؤْمِنُونَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ
‘হে মুমিনগণ! তোমরা সবাই আল্লাহর কাছে তওবা করো, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো।’ (সুরা আন-নুর: আয়াত ৩১)
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন—
إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ التَّوَّابِينَ وَيُحِبُّ الْمُتَطَهِّرِينَ
‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবাকারীদের ভালোবাসেন এবং যারা পবিত্রতা অর্জন করে তাদেরও ভালোবাসেন।’ (সুরা আল-বাকারা: আয়াত ২২২)
রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজেও নিষ্পাপ হওয়া সত্ত্বেও প্রতিদিন বহুবার আল্লাহর কাছে ইস্তিগফার করতেন। তিনি বলেছেন—
يَا أَيُّهَا النَّاسُ تُوبُوا إِلَى اللَّهِ وَاسْتَغْفِرُوهُ، فَإِنِّي أَتُوبُ فِي الْيَوْمِ إِلَيْهِ مِائَةَ مَرَّةٍ
‘হে মানুষ! তোমরা আল্লাহর কাছে তওবা করো এবং তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো। আমি প্রতিদিন একশত বার আল্লাহর কাছে তওবা করি।’ (মুসলিম ২৭০২)
নিচে সহিহ হাদিসে বর্ণিত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্তিগফার তুলে ধরা হলো।
১. রাসুলুল্লাহ (সা.) অধিক পরিমাণে যে ইস্তিগফার পড়তেন—
سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ
উচ্চারণ: ‘সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি, আস্তাগফিরুল্লাহা ওয়া আতুবু ইলাইহি।’
অর্থ: ‘আমি আল্লাহর প্রশংসাসহ তার পবিত্রতা ঘোষণা করছি। আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তার কাছেই তওবা করছি। (মুসলিম ৯৭৫)
২. রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর অধিক পাঠ করা আরেকটি ইস্তিগফার
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর চেয়ে আর কাউকে এত বেশি এ দোয়া পড়তে দেখিনি।
أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ
উচ্চারণ: ‘আস্তাগফিরুল্লাহা ওয়া আতুবু ইলাইহি।’
অর্থ: ‘আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই এবং তার কাছেই তওবা করি।’ (ইবনু হিব্বান ৯২৮)
৩. লাইলাতুল কদরের শ্রেষ্ঠ দোয়া
হজরত আয়েশা (রা.) জিজ্ঞাসা করেছিলেন— লাইলাতুল কদর পেলে কী দোয়া পড়বেন? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন—
اللَّهُمَّ إِنَّكَ عَفُوٌّ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّي
উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন, তুহিব্বুল আফওয়া, ফা’ফু আন্নি।’
অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমাশীল, ক্ষমা করতে ভালোবাসেন। তাই আমাকে ক্ষমা করে দিন।’ (ইবনু মাজাহ ৩৮৫০)
রমজানের শেষ দশকে এ দোয়া বেশি বেশি পড়া সুন্নত। তবে বছরের যেকোনো সময়ও এটি পড়া যাবে।
৪. এক মজলিসে ১০০ বার পড়া ইস্তিগফার
হজরত ইবনু ওমার (রা.) বলেন, আমরা গুণে দেখতাম— রাসুলুল্লাহ (সা.) এক বৈঠকে একশতবার পর্যন্ত এ দোয়া পড়তেন।
رَبِّ اغْفِرْ لِي وَتُبْ عَلَيَّ إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ
উচ্চারণ: ‘রাব্বিগফিরলি ওয়া তুব আলাইয়া, ইন্নাকা আনতাত তাওয়াবুর রাহিম।’
অর্থ: ‘হে আমার রব! আমাকে ক্ষমা করুন এবং আমার তওবা কবুল করুন। নিশ্চয়ই আপনি তওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু।’ (তিরমিজি ৩৪৩৪)
৫. গুনাহ মাফের বিশেষ ইস্তিগফার
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন—
‘যে ব্যক্তি এ দোয়া পড়বে, তার গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে, যদিও সে জিহাদের ময়দান থেকে পলায়নকারী হয়।’
أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ الَّذِي لَا إِلٰهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ
উচ্চারণ: ‘আস্তাগফিরুল্লাহাল্লাজি লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়ুল কাইয়্যূমু ওয়া আতুবু ইলাইহি।’
অর্থ: ‘আমি সেই আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই, যিনি ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই; তিনি চিরঞ্জীব, সর্বসত্তার ধারক। আমি তার কাছেই তওবা করছি।’ (আবু দাউদ ১৫১৭)
অন্য বর্ণনা— ‘আস্তাগফিরুল্লাহাল আজিমাল্লাজি…’ শব্দেও বর্ণিত হয়েছে। (তিরমিজি ৩৫৭৭)
৬. সাইয়িদুল ইস্তিগফার (ইস্তিগফারের শ্রেষ্ঠ দোয়া)
اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لَا إِلٰهَ إِلَّا أَنْتَ، خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ، وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ، أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ، أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ، وَأَبُوءُ بِذَنْبِي، فَاغْفِرْ لِي، فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ
উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা আন্তা রাব্বি, লা ইলাহা ইল্লা আন্তা; খলাকতানি ওয়া আনা আবদুকা, ওয়া আনা আলা আহদিকা ওয়া ওয়াদিকা মাসতা তা’তু, আউজু বিকা মিন শাররি মা ছনা’তু, আবুউ লাকা বিনিমাতিকা আলাইয়া, ওয়া আবুউ বিজাম্বি; ফাগফির লি, ফা ইন্নাহু লা ইয়াগফিরুজ-জুনুবা ইল্লা আন্তা।’
অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আপনিই আমার রব। আপনি ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই। আপনিই আমাকে সৃষ্টি করেছেন, আমি আপনার বান্দা। আমি সাধ্য অনুযায়ী আপনার অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতির ওপর অটল আছি। আমি আমার কৃতকর্মের অনিষ্ট থেকে আপনার কাছে আশ্রয় চাই। আপনি আমার প্রতি যে নিয়ামত দান করেছেন তা স্বীকার করছি এবং আমার গুনাহও স্বীকার করছি। তাই আমাকে ক্ষমা করে দিন। নিশ্চয়ই আপনি ছাড়া আর কেউ গুনাহ ক্ষমা করতে পারে না।’ (বুখারি ৬৩২৩ ও মুসলিম)
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
‘যে ব্যক্তি দিনের বেলায় দৃঢ় বিশ্বাসের সঙ্গে এটি পড়বে এবং সন্ধ্যার আগে মারা যাবে, সে জান্নাতিদের অন্তর্ভুক্ত হবে। আর যে ব্যক্তি রাতে এটি পড়ে সকালে মৃত্যুবরণ করবে, সেও জান্নাতিদের অন্তর্ভুক্ত হবে।’ (বুখারি ৬৩০৬)
ইস্তিগফার শুধু মুখে কয়েকটি শব্দ উচ্চারণের নাম নয়; এটি বান্দার অন্তরের অনুশোচনা, বিনয় এবং আল্লাহর দিকে ফিরে আসার ঘোষণা। যত বেশি একজন মানুষ আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবে, ততই তার অন্তর পরিশুদ্ধ হবে, গুনাহ মাফ হবে এবং আল্লাহর রহমত লাভের আশা বৃদ্ধি পাবে। তাই প্রতিদিনের আমলে এসব সহিহ দোয়া অন্তর্ভুক্ত করা এবং আন্তরিকতার সঙ্গে তওবা করা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে বেশি বেশি ইস্তিগফার করার তৌফিক দান করুন, আমাদের তওবা কবুল করুন এবং তার অসীম রহমতে আমাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দিন। আমিন।
প্রতিছবি ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।























Comments: