- শিশুরা নিজেদের গড়ে তুললে দেশ সঠিকভাবে গড়ে উঠবে: প্রধানমন্ত্রী
- এস কে সুরের ৩ বছরের কারাদণ্ড
- দক্ষিণ আফ্রিকায় অগ্নিকাণ্ডে ৬ বাংলাদেশি নিহত
- গ্যাস-সংকট সমাধানে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা চাইলেন তারেক রহমান
- চাপে পড়ে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে সব মামলা প্রত্যাহার করবে শুভেন্দু সরকার
- জেন-জিকে ‘আবর্জনার প্রজন্ম’ বলে এবার তোপের মুখে কঙ্গনা
- কিয়ামতের ময়দানে নবীজি (সা.) যেভাবে তার উম্মতকে চিনবেন
- দেশে প্রায় এক কোটি মানুষ ভাইরাল হেপাটাইটিসে আক্রান্ত, লিভারকে সুরক্ষিত রাখবেন যেভাবে
- জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ের প্রতীক: রিজভী
- যশোরে জামায়াত এমপির বাড়ি ঘেরাও
কিয়ামতের ময়দানে নবীজি (সা.) যেভাবে তার উম্মতকে চিনবেন
কিয়ামতের দিন হবে মানবজাতির জন্য সবচেয়ে ভয়াবহ ও গুরুত্বপূর্ণ দিন। সেদিন প্রত্যেক মানুষ নিজ নিজ আমলের হিসাব দিতে আল্লাহর সামনে উপস্থিত হবে। সেই কঠিন মুহূর্তে প্রত্যেক মুমিনের সবচেয়ে বড় আশা হবে প্রিয়নবী মুহাম্মাদ (সা.)-এর সাক্ষাৎ লাভ করা এবং তার শাফাআত পাওয়া। কিন্তু প্রশ্ন হলো—অগণিত মানুষের ভিড়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) তার উম্মতকে কীভাবে চিনবেন?
এ বিষয়ে কুরআন ও সহিহ হাদিস উম্মতে মুহাম্মাদির জন্য রয়েছে এক অপূর্ব সুসংবাদ। যারা নিয়মিত ওজু করে নামাজ আদায় করবে, তাদের ওজুর অঙ্গগুলো কিয়ামতের দিন নূরে উদ্ভাসিত থাকবে। সেই উজ্জ্বলতার মাধ্যমেই রাসুলুল্লাহ (সা.) তার উম্মতদেরকে চিনে নেবেন।
কুরআনের নির্দেশ: পবিত্রতার মাধ্যমে ইবাদতের প্রস্তুতি
আল্লাহ তাআলা বলেন—
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا قُمْتُمْ إِلَى الصَّلَاةِ فَاغْسِلُوا وُجُوهَكُمْ وَأَيْدِيَكُمْ إِلَى الْمَرَافِقِ وَامْسَحُوا بِرُءُوسِكُمْ وَأَرْجُلَكُمْ إِلَى الْكَعْبَيْنِ…
‘হে ঈমানদারগণ! যখন তোমরা নামাজের জন্য দাঁড়াও, তখন তোমাদের মুখমণ্ডল ধৌত কর, কনুই পর্যন্ত হাত ধৌত কর, মাথা মাসেহ কর এবং টাখনু পর্যন্ত পা ধৌত কর…।’ (সুরা আল-মায়িদাহ: আয়াত ৬)
এই আয়াত থেকে স্পষ্ট হয় যে, ওজু শুধু নামাজের পূর্বশর্তই নয়; বরং এটি ইমানদারের পরিচ্ছন্নতা, আনুগত্য ও ইবাদতের প্রস্তুতির প্রতীক।
কিয়ামতের দিন উজ্জ্বল অঙ্গসমূহ হবে উম্মতের পরিচয়
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
إِنَّ أُمَّتِي يُدْعَوْنَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ غُرًّا مُحَجَّلِينَ مِنْ آثَارِ الْوُضُوءِ، فَمَنِ اسْتَطَاعَ مِنْكُمْ أَنْ يُطِيلَ غُرَّتَهُ فَلْيَفْعَلْ
‘আমার উম্মতকে কিয়ামতের দিন ওজুর প্রভাবে উজ্জ্বল মুখমণ্ডল ও উজ্জ্বল হাত-পা নিয়ে ডাকা হবে। অতএব তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি তার এই উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করতে সক্ষম, সে যেন তা করে।’ (বুখারি ১৩৬, মুসলিম ২৪৬)
এ হাদিসে ‘গুররান মুহাজ্জালীন’ বলতে ওযুর অঙ্গসমূহের নূর বা উজ্জ্বলতাকে বোঝানো হয়েছে, যা কিয়ামতের দিন ইমানদারদের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হবে।
হাউজে কাওসারের ধারে নবীজি (সা.)-এর অপেক্ষা
রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও বলেছেন—
أَنَا فَرَطُكُمْ عَلَى الْحَوْضِ
‘আমি হাউজে কাওসারের কাছে তোমাদের আগেই উপস্থিত থাকব (এবং তোমাদের জন্য অপেক্ষা করব)।’ (বুখারি ৬৫৭৫, মুসলিম ২২৯৬)
তিনি তার উম্মতকে সেই হাউজের ধারে স্বাগত জানাবেন এবং ওজুর নূরের মাধ্যমেই তাদের চিনতে পারবেন।
আমাদের করণীয়
পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের জন্য যত্নসহকারে ওজু করা।
সুন্নাহ অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গ ওজু আদায় করা।
সর্বদা পবিত্র অবস্থায় থাকার চেষ্টা করা।
ওজুর মর্যাদা ও ফজিলত সম্পর্কে পরিবার ও সন্তানদের শিক্ষা দেওয়া।
এমন জীবন গঠন করা, যাতে কিয়ামতের দিন রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর উম্মত হিসেবে তার পরিচয়ে ধন্য হতে পারি।
ওজু কেবল শরীর পরিষ্কার করার একটি প্রক্রিয়া নয়; এটি একজন মুমিনের ঈমান, ইবাদত ও আল্লাহর আনুগত্যের প্রতীক। এই ওজুর বরকতেই কিয়ামতের দিন আমাদের মুখমণ্ডল ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নূরে উদ্ভাসিত হবে এবং সেই নূর দেখেই প্রিয়নবী মুহাম্মাদ (সা.) তার উম্মতদের চিনে নেবেন। তাই আসুন, আমরা ওজুর প্রতি আরও যত্নবান হই, সুন্নাহ অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করি এবং এমন আমল করি, যাতে কিয়ামতের সেই মহাসমাবেশে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পরিচিত ও সৌভাগ্যবান উম্মতের অন্তর্ভুক্ত হতে পারি।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে ওজুর হিফাজতকারী, নামাজের প্রতি যত্নবান এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শাফাআতপ্রাপ্ত সৌভাগ্যবান বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করুন। আমিন।
প্রতিছবি ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।























Comments: