- লোহিত সাগরে সৌদি জাহাজ ও ৪টি সামরিক নৌকায় হামলা
- ফেসবুক-ইনস্টাগ্রামে বড় পরিবর্তনের আভাস
- সাবেক সেনাপ্রধান আজিজের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলে রেড নোটিশের আবেদন
- টেস্ট বিশ্বকাপের ফাইনালের দৌড়ে বাংলাদেশ, ছিটকে গেল পাকিস্তান
- ২১ ঘণ্টা নাটকীয়তার পর মুক্তি পেলেন সেই মাহদী
- দেশে প্রায় এক কোটি মানুষ ভাইরাল হেপাটাইটিসে আক্রান্ত, লিভারকে সুরক্ষিত রাখবেন যেভাবে
- ভেনিস-টরন্টোর পর লন্ডন উৎসবেও বাংলাদেশের সিনেমা
- ঢাকার কোন কোন পথে চলবে পিংক বাস, ভাড়া কত? জানুন বিস্তারিত
- শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জরুরি নির্দেশনা দিয়ে স্কুল-কলেজে চিঠি
- নিয়মিত আদা খেলে শরীরে যে পরিবর্তন হয়
আমার মরদেহ যেন কোনোভাবেই এফডিসিতে না যায়: শবনম
বাংলা সিনেমার গণ্ডি পেরিয়ে তৎকালীন পাকিস্তানের চলচ্চিত্রেও নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছিলেন কিংবদন্তি অভিনেত্রী শবনম। তবে, জীবনের শেষ সময়ে এসে সেই চলচ্চিত্রজগতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান এফডিসিকে ঘিরে জমেছে তার গভীর অভিমান। এক সাক্ষাৎকারে শবনম স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, তার মৃত্যুর পর মরদেহ যেন কোনোভাবেই এফডিসিতে নেওয়া না হয়।
গতকাল সোমবার (১৭ আগস্ট) শবনমের জন্মদিন। ১৯৪৬ সালে জন্ম নেওয়া এই অভিনেত্রী জীবনের ৮১তম বছরে পা দিয়েছেন। ষাটের দশক থেকে নব্বইয়ের দশকের শেষভাগ পর্যন্ত নিয়মিত অভিনয় করেন।
তার অভিনীত সর্বশেষ সিনেমা কাজী হায়াৎ পরিচালিত ‘আম্মাজান’। সিনেমাটি মুক্তির পর দর্শকের কাছে তিনি ‘আম্মাজান’ নামেই আরো বেশি পরিচিতি পান। তবে, এরপর আর কোনো সিনেমার শুটিংয়ে দেখা যায়নি তাকে।
‘আম্মাজান’-এর পর কেন আর কোনো শুটিং ফ্লোরে যাননি—এমন প্রশ্নের জবাবে এক সাক্ষাৎকারে নিজের অভিমান ও ক্ষোভের কথা স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন শবনম।
তিনি বলেন, “আম্মাজান’ সিনেমার শুটিংয়ের পর কোনো স্টুডিওতে যাইনি, হাতে গোনা কয়েকটি অনুষ্ঠানে গিয়েছি। অনেক ব্যাপার আছে, প্রাণ খুলে সেসব বলতে পারছি না। পারব না। আর বলে লাভও হবে না। আমার মুখ পুরোপুরি বন্ধ।”
শবনমের ভাষ্য, “মাঝে অনেক দিন দেশের বাইরে ছিলাম। দেশে আসার পর যা কিছু পেয়েছি, যা দেখেছি, তা নিয়ে মুখ খুলতে চাই না। এর মধ্যে কোনো একদিন শুনবেন, আমি মরে গেছি। তখন এফডিসির লোকজন অস্থির হয়ে উঠবে, সেখানে নিয়ে যাওয়ার জন্য। আমি তো আমার ছেলেকে স্পষ্ট বলে দিয়েছি, আমার মরদেহ যেন কোনোভাবেই এফডিসিতে না যায়। রবিন (রবিন ঘোষ, প্রখ্যাত সুরকার ও সংগীত পরিচালক, শবনমের স্বামী) সাহেবও বলে গিয়েছিলেন, তার মরদেহও সেখানে নেওয়া হয়নি।”
জীবনের দীর্ঘ সময় যে এফডিসিতে কাজ করেছেন, দিনের বড় একটি অংশ কাটিয়েছেন, সেই প্রতিষ্ঠান নিয়ে এমন অভিমানের কারণ কী—এমন প্রশ্নেও নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছিলেন শবনম।
তিনি বলেন, “অবশ্যই কারণ আছে। আমি তো বলেছি, বলব না। এফডিসি থেকে কত সম্মান পাচ্ছি, তা তো বলে শেষ করতে পারব না! হ্যাঁ, এটা ঠিক, মরে গেলে ফুলের মালা দেব, হয়ে গেল, তাই না। এই সুযোগ আমি কাউকে দিতে চাই না। এফডিসিতে কাউকে আমার মরদেহ নিয়ে মায়াকান্না করার সুযোগ দেব না। আমি যেভাবে নিজের বাসায় চুপচাপ আছি, সেভাবেই ভালো আছি। শান্তিতে আছি। আমি শিল্পী। আমি আমার মতো আছি। খুব ভালো আছি।”
শবনমের বক্তব্যে তার অভিমানের জায়গাটি স্পষ্ট। যে এফডিসি তার দীর্ঘ অভিনয়জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ, সেই প্রতিষ্ঠান থেকে জীবনের শেষ অধ্যায়ে তিনি দূরত্বই বজায় রাখতে চান। আনুষ্ঠানিকতার বদলে নিজের মতো, নিজের ঘরে শান্তিতে থাকাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন এই কিংবদন্তি অভিনেত্রী।
প্রতিছবি ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।























Comments: