ইন্টারনেট
সর্বশেষ
হোম / সারা বাংলা / বিস্তারিত
ADS

রাঙ্গুনিয়ার রেমিট্যান্স যোদ্ধা চার ভাইয়ের জানাজায় হাজারো মানুষের ঢল, দাফন সম্পন্ন

20 May 2026, 5:34:18

রাংগুনিয়া উপজেলার ওমান প্রবাসী চার সহোদরের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে। এক গভীর শোকাবহ পরিবেশে জানাজায় হাজারো মানুষের ঢল নামে।

আজ বুধবার (২০ মে) বেলা ১১টায় লালানগর উচ্চ বিদ্যাদালয় মাঠে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় মাঠটি কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে জনসমুদ্রের রূপ নেয়।

এর আগে মঙ্গলবার (১৯ মে) রাত সাড়ে আটটায় হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে ওমান থেকে লাশ আসার পর পরিবারের পক্ষে চার সহোদরের লাশ গ্রহণ করেন রাঙ্গুনিয়ার সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী।

রাতেই মরদেহ নিয়ে ওযনা হয় রাঙ্গুনিয়ার উদ্দেশে। লালানগর ইউনিয়নের বন্দারাজার পাড়ায় ভোরে মরদেহ পৌঁছলে দলে দলে লোকজনের সমাগম হতে থাকে সেখানে।

জানাজার স্থান লালা নগর উচ্চ বিদ্যাদালয় মাঠ সকাল থেকে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে। ১১টায় জানাজা শুরুর পূর্বে প্রশাসন, পুলিশ, রাজনীতিবিদসহ এলাকায় কয়েক হাজার মানুষের সমাগমে লোকে লোকারণ্য হযে ওঠে এলাকা।

নিহতের ছোট ভাই সকাল ১১টায় জানাজার ইমামতি শেষে চার সহোদরের মরদেহ বন্দারাজার পাড়া জামে মসজিদের পাশে পাশাপাশি কবরে দাফন করা হয়।

রাঙ্গুনিয়ার রেমিট্যান্স যোদ্ধা চার ভাইয়ের জানাজায় হাজারো মানুষের ঢল, দাফন সম্পন্ন

গত ১৩ মে ওমানে গাড়ির ভেতর বিষাক্ত কার্বন মনোক্সাইড গ্যাসের বিষক্রিয়ায় মৃত্যু হয় লালানগর ইউনিয়নের বন্দারাজার পাড়ার মৃত আবদুল মজিদের চার সন্তানের। তারা হলেন রাসেদুল ইসলাম (৪০), শাহেদুল ইসলাম (৩২), সিরাজুল ইসলাম (২৮) ও শহিদুল ইসলাম (২২)।

চার ভাইয়ের একসঙ্গে মৃত্যুর ঘটনায় তাদের জানাজায় অংশ নিতে আসেন রাংগুনিয়ার আশপাশের উপজেলা মানুষ।

স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো পরিবেশ। নিহত রাসেদুল ইসলামের রেখে যাওয়া তিন বছর বয়সী এক সন্তান ও তিন মাস বয়সী শিশুকে ঘিরে কান্নায় ভেঙে পড়েন অনেকে।

সবচেয়ে হৃদয়বিদারক বিষয় হলো- মা ফরিদা বেগমকে (৫৫) সন্তানদের মৃত্যুর খবর জানানো হয়নি এখনো। তিনি শুধু জানেন, তার ছেলেরা অসুস্থ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

এদিকে কিছুক্ষণ পর পর মা জ্ঞান হারাচ্ছেন ছেলেদের অসুস্থতার কথা শুনে। একমাত্র জীবিত ছেলে এনামুল ইসলাম (২৫) মাকে কোনোভাবে সান্ত্বনা দিয়ে রাখছেন।

সব আইনি প্রক্রিয়া শেষে গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টায় হযরত শাহজালাল বিমান বন্দরে মরদেহ হস্তান্তরের সময় হুমাম কাদের চৌধুরী এমপি লাশবাহী গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

সাংসদ আরো জানান, প্রথম দিকে ঘটনাটি সড়ক দুর্ঘটনা হিসেবে ধারণা করা হলেও পরবর্তীতে নিশ্চিত হওয়া যায়, গাড়ির ত্রুটিপূর্ণ এয়ারকন্ডিশনিং (এসি) সিস্টেম থেকে নির্গত বিষাক্ত কার্বন মনোক্সাইড গ্যাসের কারণেই চার ভাইয়ের মৃত্যু হয়।

বিদেশ থেকে মরদেহ দেশে আনতে দ্রুত সব আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেই ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। এ বিষয়ে ওমানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত রিয়ার অ্যাডমিরাল আজিমের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।

হুম্মাম কাদের আরো বলেন, ‘প্রতিদিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ ছিল। তাদের আন্তরিক প্রচেষ্টার কারণেই এত দ্রুত মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।’ এজন্য তিনি সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়কে ধন্যবাদ জানান।

পাঁচ ভাইয়ের স্বপ্ন ছিল প্রবাসের আয় দিয়ে নিজেদের ভাগ্য বদলানোর। প্রায় পাঁচ বছর আগে নতুন জায়গা কিনে পরিবারের জন্য একটি বাড়ির কাজও শুরু করেন তারা। তবে সেই ঘরের নির্মাণকাজ এখনও শেষ হয়নি।

ছয় মাস আগে দেশে এসে বিয়ে করেন শাহেদুল ইসলাম। অপর দুই ভাইও এবার দেশে এসে বিয়ে করার পরিকল্পনা ছিল। সে উদ্দেশ্যে ছোট ভাই শহিদুল ইসলামকে নিয়ে আগামী ১৫ মে রাতে দেশে ফেরার টিকিট কাটা হয়েছিল।

স্বজনরা জানান, দেশে ফেরার আগে কেনাকাটার উদ্দেশ্যে ১৩ মে বুধবার দুপুরে চার ভাই একটি গাড়ি নিয়ে বের হন। পথে একটি পাকিস্তানি রেস্টুরেন্টে দুপুরের খাবার খান তারা। পরে কেনাকাটার জন্য বের হওয়ার পর হঠাৎ অসুস্থতা অনুভব করলে ওমানের মুলাদ্দা এলাকায় একটি হাসপাতালের সামনে গাড়ি পার্ক করেন।

কিন্তু সেখানেই ঘটে বিপর্যয়। কোনোভাবেই গাড়ির দরজা খুলতে পারছিলেন না তারা। এসময় ছোট ভাই শহিদুল ইসলাম বাংলাদেশি একটি ভয়েস গ্রুপে ২৪ সেকেন্ডের একটি ভয়েস বার্তা পাঠান। তিনি এইভাবে বলেন, “পারভেজ তুরা কডে। তাইলি তুই এক্কে না এডে আই। আরা চারও জন গারিত্তুন লামিন ন-পারির। আর বদ্দা-রে আঁরা ডাক্তারের এ-ডে লই আইসসি, গারি তাগি-লি হলিক্লিনিকে লয় আইতো” কণ্ঠে ছিল আতঙ্ক আর ক্লান্তি। এই ছিল তাদের জীবনের শেষ আর্তি।

পরে বুধবার সকাল ৮টার দিকে স্থানীয়রা গাড়ির ভেতরে চারজনকে অচেতন অবস্থায় দেখে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ এসে গাড়ি থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে। পরে তাদের মৃতদেহের ডাক্তারি পরীক্ষা ও সব প্রক্রিয়া শেষ করে সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় লাশ দেশের গ্রামের বাড়িতে পৌছে।

ADS ADS

প্রতিছবি ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Comments: