অভিযুক্ত বিচারপতিদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরুর নির্দেশ রাষ্ট্রপতির
সুপ্রিম কোর্টের কয়েকজন বিচারপতির বিরুদ্ধে ওঠা নানা অভিযোগের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
সোমবার (৬ জানুয়ারি) বিকেলে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানিয়েছে।
নির্দেশ অনুযায়ী আগামী সপ্তাহে ওই বিচারপতিদের বিষয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করবে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল।
এর আগে, গত ডিসেম্বরে অনিয়মের অভিযোগে উচ্চ আদালতের কয়েকজন বিচারপতির বিরুদ্ধে তদন্ত শেষ করে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল। তবে বিচারপতিদের পরিচয়ের বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
তদন্ত শেষ হওয়া বিচারপতিদের প্রতিবেদনসহ সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের সুপারিশ রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের সুপারিশ বাস্তবায়ন করবেন।
গত বছরের নভেম্বরে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ষোড়শ সংশোধনী রায়ের পরে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন করা হলে ওই কাউন্সিলে কয়েকজন বিচারপতিসংক্রান্ত তথ্য যাচাই–বাছাইয়ের কাজ চলমান। এরপর গত ৪ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন জানায়, সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের মাধ্যমে বর্তমানে বেশ কয়েকজন বিচারপতির আচরণের (কনডাক্ট) বিষয়ে প্রাথমিক অনুসন্ধান চলছে। এর ধারাবাহিকতায় গত ১৫ ডিসেম্বর সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদ প্রয়োগ করে সুপ্রিম কোর্টের কয়েকজন বিচারপতির বিষয়ে তথ্যাবলি রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হয়েছে বলে জানানো হয়।
বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা জাতীয় সংসদের কাছে নিতে ২০১৪ সালে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী এনেছিল তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। পরবর্তী সময়ে হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগ ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন। ২০১৭ সালে রায় পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। এই আবেদন পর্যবেক্ষণসহ নিষ্পত্তি করে গত ২০ অক্টোবর রায় দেন আপিল বিভাগ। রায়ে সংবিধানের এ-সংক্রান্ত ৯৬ অনুচ্ছেদের ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ৭ ও ৮ উপ-অনুচ্ছেদ পুনর্বহাল করা হয়। এই রায়ের ফলে কোনো বিচারকের বিরুদ্ধে দায়িত্বপালনে অসমর্থ বা গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগ উঠলে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের মাধ্যমে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি পুনর্বহাল হয়।
সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠিত হয় প্রধান বিচারপতি ও পরবর্তী জ্যেষ্ঠ দুজন বিচারপতিকে নিয়ে। ষোড়শ সংশোধনীর আগের সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদ অনুসারে কোনো বিচারকের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে কাউন্সিল যাচাই–বাছাই করে তথ্যাদি রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠাতে পারে। রাষ্ট্রপতি কাউন্সিলকে অভিযোগ সম্পর্কে তদন্ত করতে ও তদন্তের ফল জানাতে নির্দেশ দিতে পারেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে কাউন্সিল তদন্ত করে রাষ্ট্রপতির কাছে সুপারিশসহ প্রতিবেদন পাঠাতে পারে। কাউন্সিল তদন্ত করে রাষ্ট্রপতির কাছে যদি এমন রিপোর্ট দেয় যে সংশ্লিষ্ট বিচারক তার পদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালনে অযোগ্য হয়ে পড়েছেন বা গুরুতর অসদাচরণের জন্য দোষী হয়েছেন, তাহলে রাষ্ট্রপতি আদেশের মাধ্যমে ওই বিচারককে তার পদ হতে অপসারণ করবেন।
আওয়ামী লীগের ‘ফ্যাসিস্ট’ বিচারপতিদের পদত্যাগের দাবিতে গত ১৬ অক্টোবর দুপুরে হাইকোর্ট ঘেরাও কর্মসূচি পালন করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। একই দিন হাইকোর্ট বিভাগের ‘দলবাজ ও দুর্নীতিবাজ’ বিচারপতিদের পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি পালন করে বৈষম্যবিরোধী আইনজীবী সমাজ এবং ফ্যাসিবাদের দোসর বিচারপতিদের অনতিবিলম্বে অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করে জাতীয় নাগরিক কমিটি-লিগ্যাল উইং।
শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের সঙ্গে আলোচনা শেষে সেদিন বিকেলে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল আজিজ আহমদ ভূঞা জানান, আপাতত হাইকোর্ট বিভাগে ১২ বিচারপতিকে প্রাথমিকভাবে কোনো বেঞ্চ দেওয়া হচ্ছে না। তবে হাইকোর্ট বিভাগের কোন ১২ বিচারপতিকে বেঞ্চ দেওয়া হচ্ছে না, তাদের নাম তখন প্রকাশ করেনি সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃপক্ষ।
প্রতিছবি ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
























Comments: