ADS
হোম / টিপস / বিস্তারিত
ADS

চুলের ধরন অনুযায়ী বেছে নিন শ্যাম্পু

4 July 2021, 10:57:53

স্বাস্থ্যকর ঝলমলে, মসৃণ একমাথা চুলের আকাঙ্ক্ষা কার না থাকে। আর সেই আকাঙ্ক্ষাটুকু মেটানোর জন্য কত কাঠখড়ই না পোড়াতে হয়! অথচ শুরু থেকে একটু নজর দিলে তেমন চুল পাওয়া মোটেই কষ্টসাধ্য নয়! চুল ঠিকমতো ধোওয়া আর শুকানোর উপরেও চুলের স্বাস্থ্য ভীষণভাবে নির্ভর করে।

প্রতিদিন চুলের গোড়ায় হাত দিলে মনে হয় কেমন যেন তৈলাক্ত, বা চুল ধরলে কেমন রুক্ষ লাগছে? আর তখনই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন শ্যাম্পু করার। কিন্তু দেখা যায়, আবার ফিরে আসে সেই একই সমস্যা।

প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত শ্যাম্পু করলে চুলের বারোটা বাজতে বেশি সময় লাগে না! বারবার একই সমস্যা ফিরে আসা কিন্তু জানান দিচ্ছে আপনার চুলের স্বাস্থ্য ভালো নেই।

সপ্তাহে ৩ থেকে ৪ দিন শ্যাম্পু করেন। খুব একটা ভুল সিদ্ধান্ত নয়। কিন্তু তাও জেনে নিন চুলের রূপ ভেদে শ্যাম্পুর প্রয়োজনীয়তা।

চুলের ময়লা ধুতে আমরা শ্যাম্পু করে থাকি। চুলের গোড়ায় মাথার তালুতে তেল জন্মালে, তাতে নোংরা এসে পড়ে। এবং মাথার তালুর কোষগুলো আটকে দেয়। ফলে চুল বাড়তে পারে না। কিছু সময় পর চুল পড়ে যাবে।

যারা নিয়মিত শরীরচর্চা করে ঘাম ঝরান, বা অতিরিরিক্ত কাজের ফলে খুব ঘাম হয় তাদের প্রত্যেকদিনই শ্যাম্পু করা উচিত। অবশ্য এর পাশাপাশি রোজ আধ ঘণ্টার জন্য মাথায় তেল মালিশও করার প্রয়োজন আছে। এর জন্য নারকেল তেলই যথেষ্ট। নারকেল তেলের মতো ভিটামিন অন্য তেলে পাওয়া যায় না।

মাথার তালু যদি তৈলাক্ত হয়, আর তার থেকে চুল তেল তেলে বোধ হয় তাহলে খুব লম্বা বা খুব কোঁকড়া চুল না হলে প্রত্যেকদিন কোনও আয়ুর্বেদিক শ্যাম্পু ব্যবহার করতে পারেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও সপ্তাহে অন্তত ৩ বার তেল মালিশ করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

যদি আপনার চুল শুষ্ক বা রুক্ষ তাহলেও ৫ থেকে ৭ দিন অন্তর চুলে শ্যাম্পু করতে পারেন। যদি দেখেন বেশি রুক্ষ হয়ে যাচ্ছে এতে তাহলে যথাযথ ভাবে তেল মালিশ করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। নারকেল তেলের সঙ্গে রসুন গরম করে সেই তেল মাখতে পারেন। অথবা অ্যালোভেরা চুলে মাখতে পারেন। এতে আপনার চুলে ফিরবে প্রাকৃতিক পুষ্টি। বেশি রাসায়নিক শ্যাম্পু ব্যবহার করা একেবারেই উচিত নয়।

কোঁকড়া চুল আপনার, তাহলে একেবারেই বেশি শ্যাম্পু করা উচিত নয়। ৪ থেকে ৫ দিন অন্তর করতে পারেন। মাথার তালুতে হাত দিয়ে মাঝে মাঝেই দেখবেন, পরিস্থিতি ঠিক কেমন। তার যদি দেখেন ঠিকই আছে, তাহলে অযথা শ্যাম্পু করবেন না।

খুব সরু পাতলা চুল তাহলে একদিন অন্তর শ্যাম্পু করুন। তবেই চুলের স্বাস্থ্য ভাল থাকবে। তেল ব্যবহার করলে রেখে দেবেন না মাথায়। বা সেই তেল নিয়ে বাইরে বেরোবেন না। তেল মেখে রাতে শুয়ে পড়বেন না। এতে বালিশেরপ সঙ্গে ঘষা লেগে চুল পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। স্নানের আগে আধ ঘণ্টা তেল মেখে শ্যাম্পু করা উচিত।

খুব ঘন চুল হলে সপ্তাহে একদিন বা ২ দিন শ্যাম্পু করলেই যথেষ্ট। যদি মনে হয়, তালু খুব বেশি নোংরা , তবেই শ্যাম্পু করুন।

চুলের পক্ষে গরম পানি ভীষণ ক্ষতিকর। তাই সবসময় ঠান্ডা বা কুসুমগরম পানিই মাথায় ঢালবেন। গরম পানি চুলের স্বাভাবিক তেল নষ্ট করে চুল রুক্ষ করে দেয়, অন্যদিকে ঠান্ডা পানি চুলের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে, ফলে শ্যাম্পু করার পর চুল অনেক বেশি জেল্লাদার আর চকচকে দেখায়।

বেশিরভাগ শ্যাম্পুতেই কিছু না কিছু কেমিক্যাল থাকে যা রোজ ব্যবহার করলে চুল রুক্ষ আর কর্কশ হয়ে যাওয়ার ভয় থাকে। সপ্তাহে দু’বার, বড়োজোর তিনবারের বেশি শ্যাম্পু করবেন না।

ভেজা অবস্থায় চুল খুব স্পর্শকাতর অবস্থায় থাকে, সামান্য এ দিক ও দিক হলেই তা ভেঙে ঝরে যেতে পারে। তাই বেশিক্ষণ ধরে শ্যাম্পু করবেন না, তাতে চুল খুব দুর্বল হয়ে পড়বে।

ADS ADS

প্রতিছবি ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Comments: