ADS

ADS
হোম / রাজনীতি / বিস্তারিত
ADS

বিএনপিকে কড়া বার্তা দিতে চায় আওয়ামী লীগ

23 November 2022, 10:46:46

যশোরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনসভা কাল। শহরের শামস্-উল হুদা স্টেডিয়ামের জনসভা জনসমুদ্রে পরিণত করতে নিরলস কাজ করছে দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা। গ্রুপিং, দ্বন্দ্ব ভুলে গোটা যশোর শহরই সমাবেশস্থলে পরিণত করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। পাঁচ বছর পর শেখ হাসিনার যশোর আগমনে নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। খুলনা বিভাগের ৭ জেলার অন্তত আট লাখ মানুষের জমায়েতের লক্ষ্য নিয়ে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন নেতাকর্মীরা।

জানা গেছে, ১৯৭২ সালের ২৬ ডিসেম্বর যশোর স্টেডিয়ামের জনসভায় ভাষণ দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সেই জনসভা জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছিল। একই স্টেডিয়ামে ৫০ বছর পর ২৪ নভেম্বর জনসভায় ভাষণ দেবেন আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ঠিক পাঁচ বছর আগে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগ মুহূর্তে ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর যশোর ঈদগাহ মাঠে নির্বাচনি জনসভায় ভাষণ দিয়েছিলেন তিনি। যশোর শামস্-উল হুদা স্টেডিয়ামে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনসভা ঘিরে অত্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছেন যশোর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও প্রশাসন। জনসভা সফল ও শান্তিপূর্ণ করতে প্রধানমন্ত্রীর আসার আগের দিন ও জনসভার দিন কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে থাকবে জেলা শহর ও শহরতলি।

এ জনসভায় ৮ লক্ষাধিক মানুষের উপস্থিতি নিশ্চিতে কাজ করছে আওয়ামী লীগ, সহযোগী সংগঠনগুলোর প্রত্যেকটি ইউনিট। ইতোমধ্যে যশোর শামস-উল হুদা স্টেডিয়ামের নতুনরূপে সাজসজ্জা শেষ হয়েছে। স্টেডিয়ামের উত্তরপাশের জীর্ণ গ্যালারি ভেঙে ফেলা হয়েছে। এতে স্টেডিয়াম ও ডা. আবদুর রাজ্জাক মিউনিসিপ্যাল কলেজ মাঠ একাকার হয়েছে। বিশাল মাঠে ব্যাপক জনসমাগম ঘটাতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রত্যেকটি ইউনিটের নেতাকর্মীরা তৃণমূলে জনসংযোগ করছেন। জনসভায় হাজির হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন।

এদিকে যশোরের সাধারণ মানুষের মধ্যেও নতুন আশা জেগেছে। যশোর মেডিকেল কলেজে ৫০০ শয্যার হাসপাতাল, যশোর বিমানবন্দর আন্তর্জাতিকীকরণ, ভবদহের জলাবদ্ধতা সমস্যা নিরসন, বেনাপোল বন্দরকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক জোন সৃষ্টি, মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের নামে সাগরদাঁড়িতে সংস্কৃতি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনসহ একগুচ্ছ দাবি নিয়ে রাজপথে আছেন তারা। এসব দাবির বিষয়ে তারা প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণে ইতোমধ্যে রাজপথে মানববন্ধন, সমাবেশ ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি পালন করেছেন। জনসভা সামনে রেখে ইতোমধ্যে একাধিকবার স্টেডিয়াম পরিদর্শন করেছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় একাধিক নেতা ও মন্ত্রী। সমাবেশস্থল নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করার লক্ষ্যে পুলিশ ও প্রশাসনের শীর্ষ ব্যক্তিরাও যশোরে অবস্থান করছেন। সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহারুল ইসলাম বলেন, শেখ হাসিনার জনসভা ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। নেত্রীকে খুব কাছ থেকে দেখতে চায়। উন্নয়নের জন্য কৃতজ্ঞতা জানাতে চায়।

জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি আবদুল মজিদ বলেন, নৌকার আদলে বিশাল মঞ্চ তৈরি করা হচ্ছে। নৌকার পরিমাপ ১২০ ফুট বাই ৪০ ফুট। তবে স্টেজ করা হবে ৮০ ফুট বাই ৪০ ফুট। মঞ্চে ৭৬ ফুট বাই ১০ ফুট ব্যানার দেওয়া হবে। ইতোমধ্যে ব্যানারের কাজ সম্পন্ন করতে চারুকলার শিক্ষার্থীরা কাজ শুরু করেছেন।

প্রধানমন্ত্রীর জনসভাস্থল স্টেডিয়াম মাঠ পরিদর্শন করতে এসে বাগেরহাট-১ আসনের সংসদ-সদস্য শেখ হেলাল উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, আগামী নির্বাচন সামনে রেখে এটিই প্রধানমন্ত্রীর প্রথম জনসভা। এই অঞ্চলের মানুষজন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। উন্নয়নের রূপকার জননেত্রী শেখ হাসিনার কথা শুনতে উন্মুখ হয়ে আছেন লাখ লাখ মানুষ। সবার মাঝে উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ করছি আমরা। এই জনসভা জনসমুদ্রে রূপ নেবে।

শেখ হেলাল উদ্দিন দীর্ঘ সাত দিন যশোরসহ পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে কর্মিসভা, বর্ধিত সভা, পথসভা করে চলেছেন। তার সঙ্গে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল হোসেন, শেখ সারহান নাসের তন্ময় এমপিসহ নেতারা কাজ করছেন। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের বিভাগীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম ও সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক কাজ করছেন। ইতোমধ্যে যশোরে আছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আবদুর রহমান। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের অনেকেই ইতোমধ্যে যশোর অবস্থান করছেন। তারাও শুধু যশোরই নয়, পার্শ^বর্তী জেলা-উপজেলা গণসংযোগ, কর্মিসভা করছেন।

যশোরের জনসভা সফল করতে মঙ্গলবার মাগুরা জেলা আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভা করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন সংসদ-সদস্য শেখ হেলাল উদ্দিন। বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সদস্য অ্যাডভোকেট আমিরুল আলম মিলন এমপি, পারভীন জামান কল্পনা, অ্যাডভোকেট গ্লোরিয়া ঝর্ণা এমপি, মাগুরা-১ আসনের সংসদ-সদস্য অ্যাডভোকেট সাইফুজ্জামান শিখর, মাগুরা-২ আসনের সংসদ-সদস্য শ্রী বীরেন সিকদার, বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ-সদস্য শেখ সারহান নাসের তন্ময় প্রমুখ। মাগুরা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আ ফ ম আবদুল ফাত্তাহর সভাপতিত্বে সভা সঞ্চালনা করেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ কুমার কুন্ডু।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জনসভা উপলক্ষ্যে এরই মধ্যে পোস্টারিং, মাইকিং ও প্রচার-প্রচারণা চলছে। সভা-সমাবেশের বাইরে সহযোগী অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা জনসভা সফল করতে প্রতিনিয়ত প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। ইতোমধ্যে মূল দল ছাড়াও ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতারা জনসভা সফলের লক্ষ্যে বিশেষ প্রস্তুতি সভা করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর যাওয়া-আসার রাস্তা বাদ রেখে শহরের অন্যান্য সড়কে তোরণ নির্মাণ করা হয়েছে। জনসভা ঘিরে শহরজুড়ে নিজেদের প্রচার-প্রচারণার ব্যানার কমিটি ছাড়াও পোস্টার করেছেন স্থানীয় নেতারা। শহরের দড়াটানা মোড়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ম্যুরাল চত্বর, গরিবশাহ সড়কসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় প্রধানকে স্বাগত জানিয়ে ব্যানার-ফেস্টুন ও পোস্টার টানিয়েছেন দলীয় নেতারা। ইতোমধ্যে বিশাল গণজমায়েতের জন্য চার হাজার গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য ১০টি স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। এদিকে যশোরে প্রধানমন্ত্রীর জনসভায় প্রথমবারের মতো আনা হয়েছে দেশের ঐতিহ্যবাহী কলরেডি কোম্পানির মাইক। জনসভার ভাষণ প্রচারে শহরজুড়ে থাকবে এই কোম্পানির দুই শতাধিক মাইক।

ADS ADS

প্রতিছবি ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Comments: