ইন্টারনেট
হোম / রাজনীতি / বিস্তারিত
ADS

বিএনপি নেতাদের কণ্ঠে রাজপথে আন্দোলনের সুর

26 February 2022, 5:24:18

দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে কেন্দ্রঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে বিএনপির শীর্ষ নেতারা রাজপথে আন্দোলনের প্রস্তুতি নিতে নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির জন্য তারা সরকারের দুর্নীতি, সিন্ডিকেটকে দায়ী করেছেন। বলছেন, লাগামহীনভাবে জিনিসপত্রের দাম বাড়ার কারণে মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে ওঠেছে।

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির আয়োজনে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে শনিবার দুপুর ২টায় শুরু হয় এই কর্মসূচি। নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এই সমাবেশ করার কথা ছিল। তবে শেষ মুহূর্তে পুলিশের অনুরোধে স্থান পরিবর্তন করে বিএনপি। সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সমাবেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘দেশে ধনী আরও ধনী হচ্ছে। গরিব আরও গরিব হচ্ছে। দুর্নীতি, সরকারের সিন্ডিকেটের জন্য দাম বাড়ছে। এরা দশ টাকা কেজি চাল খাওয়াবে বলেছিল। ২০০৬ সালে যখন বিএনপি ক্ষমতা ছাড়ে তখন মোটা চাল ছিল ১৬ টাকা, আর এখন ৫০ টাকা। কোথায় ১০ টাকার চাল? জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন।’

ড. মোশাররফ বলেন, ‘বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে সরকার কুইক রেন্টালে নিজেদের লোককে লুটপাট করতে দেওয়ার জন্য। ব্যাংকগুলোর নাজুক অবস্থা। সরকারের সিন্ডিকেট ব্যাংক লুট করে বিদেশে পাচার করছে। কিন্তু সরকারের এ নিয়ে মাথা ব্যথা নেই৷’

সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, ‘২০১৪ সালে ভোটারবিহীন, ২০১৮ সালে রাতে ভোট চুরি করে সরকার গায়ের জোরে ক্ষমতায় আছে। তাই বিদেশের কাছে এরা হাইব্রিড সরকার।’

বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, ‘দেশকে রক্ষা করতে হলে গায়ের জোরে বসে থাকা সরকারকে বিদায় করতে হবে। এদের বিদায় করে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এজন্য প্রয়োজন আন্দোলন। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। সবাইকে আন্দোলনের প্রস্তুতি নিতে হবে।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, ‘লাফিয়ে লাফিয়ে দাম বাড়ছে, কিন্তু মানুষের জীবনের মূল্য নেই। হয় জেলে যেতে হবে, না হয় গুম হতে হবে। এই দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে আমরা এখানে দাঁড়িয়েছি। ভারতে রেলের ভাড়া বাড়ানোর প্রতিবাদে মন্ত্রী জয়প্রকাশকে ক্ষমতা থেকে চলে যেতে হয়েছিল।’

দ্রব্যমূল্য বাড়ার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘কানাডায় বেগমপাড়া বানাচ্ছে। পকেট কেটে টাকা পাচার করছেন, এর বিচার হবে একদিন। নিজেদের পকেট ভারী করতে দ্রব্যমূল্য বাড়াচ্ছে সরকার। বিএনপির কোনো সময়ে এমন বেহায়ার মতো দ্রব্যমূল্য বাড়াতে হয়নি।’

সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘বিদেশে লবিস্ট নিয়োগ করলেন, এটা কার টাকা? জনগণের টাকা দিয়ে এসব করা যাবে না। আপনাদের অবশ্যই ক্ষমতা ছাড়তে হবে। অবশ্যই তক্ত-তাউস ছেড়ে যেতে হবে। একটা কথা বলে দিই, ভুয়া নির্বাচনে যাবে না বিএনপি৷ করতেও দেবে না। এটা আমার না, দেশের জনগণের কথা।’

স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘যারা হালাল ইনকাম করে তারা আর চলতে পারে না। জীবন বিপর্যস্ত। আর সরকারের জ্ঞানবান মন্ত্রীরা বলেন, আকাশ থেকে দেখলে ঢাকাকে লস অ্যাঞ্জেলস মনে হয়। নিচে নেমে টয়লেটে গেলে নাকি মনে হয় সিঙ্গাপুর। আমি জানতে চাই, সিঙ্গাপুরে কি টিসিবির গাড়ির পেছনে লম্বা লাইন আছে? সেখানে বউ বাজার, ফকিন্নি বাজার আছে কি না? যেখানে হাজার হাজার মানুষ ভিড় করছে।’

নজরুল ইসলাম বলেন, ‘উঠতে-বসতে বিএনপির কথা বলে। সবকিছুতে তারা বিএনপিকে দোষ দেয়। কথায় কথায় বিএনপি, বিএনপি করে। এরা যদি যতবার বিএনপি আর তারেক রহমানের নাম নিচ্ছে ততবার আল্লাহর নাম নিলে হয়তো আওয়ামী লীগের লোকজন বেহেশতেও যেতে পারতেন।’

বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, ‘পথ এখন একটাই, জনগণের ঘাড়ে চেপে বসে থাকা সরকারকে ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের মাধ্যমে ক্ষমতা থেকে সরাতে হবে। বিএনপিই পারবে এটা করতে। যেখানে নিশ্চিত বিজয় সেখানে ভয়ের কিছু নেই। বিএনপি ভয় করে না। আমাদের যেসব ভাই গুম, খুন হয়েছে তাদের রক্তের ঋণ শোধ করতে হলেও রাজপথে থাকতে হবে।’

স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘একসাথে বেশি লোক দেখলে সরকারের বুকে কম্পন শুরু হয়। তাই এখানে সমাবেশ। কিন্তু মানুষ রাজপথে নেমে এসেছে। ধানাই ফানাইয়ের দিন শেষ।’

খসরু বলেন, ‘দ্রব্যমূল্যের বৃদ্ধির সঙ্গে ভোট চুরির সম্পর্ক আছে। দুর্নীতির সঙ্গে ভোট চুরির সম্পর্ক আছে। মেগা প্রকল্পের সঙ্গেও ভোট চুরির সম্পর্ক আছে। কারণ টাকা পাচার করা হচ্ছে। এখন ভোট চোরদের ধরতে হবে। তাদের সহযোগীদের ধরতে হবে। যারা আজকে ভোট চোর করছে তাদের ধরতে হবে। কারণ এরা লুটপাট করতে থাকবে৷ দেশের টাকা পাচার করবে।’

বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, ‘চোরের দশদিন গৃহস্থের একদিন। ভোট চোরদের ধরে চুরির মেশিন বাজেয়াপ্ত করতে হবে। শেখ হাসিনার বদলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার, ইভিএমের বদলে ব্যালট পেপার দিতে হবে।’

স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, ‘প্রত্যেকের জীবনে আগুন লেগেছে। ২০০৮ সালে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করে ক্ষমতায় আসে। পরে তারা ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার জন্য ভোট ছাড়া ক্ষমতায় এসেছে। ক্ষমতায় থাকার জন্য সরকারি কর্মকর্তাদের সুযোগ সুবিধা বাড়িয়ে জনগণের ট্যাক্সের চাপ বাড়াচ্ছে।’

টুকু বলেন, ‘আজকে সময় এসেছে আমাদের টাকা দিয়ে ক্ষমতা চিরস্থায়ী করতে দেব না। অন্য যারা তাদের বলবো আমরা রাজপথে বুকের তাজা রক্ত দিয়ে দেশকে রক্ষা করবো। বিএনপি নেতৃত্ব দেবে। রাজপথ ছাড়া পথ নেই। ভোট আর হবে না। আমরা ভোটে নাই। রাজপথ রঞ্জিত করে জনগণের সরকার গঠন করবো।’

ADS ADS

প্রতিছবি ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Comments: