ইন্টারনেট
হোম / রাজনীতি / বিস্তারিত
ADS

হারিস চৌধুরীর মৃত্যু নিয়ে ধুম্রজাল সৃষ্টি

13 January 2022, 12:11:50

হারিস চৌধুরী বিএনপির দাপুটে নেতা। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব ছিলেন। দীর্ঘ ১৪ বছর পর হঠাৎ করে মৃত্যুর খবরে আলোচনায় আসেন হারসি চোধুরী। বিভিন্ন মহল থেকে বিভিন্ন তথ্য আসতেছে। কেউ বলতেছ তিনি লন্ডনে মারা গেছেন। আবার কেউ বলতেছে তিনি ঢাকায় মারা গেছেন। তাকে আজিমপুরে দাফন করা হয়েছে। সিলেটের কানাইঘাটে জন্মগ্রহণ করেন বিএনপির এই নেতা। তিনি বিভিন্ন মামলার আসামিও ছিলেন। ২০০৭ সালের আলোচিত এক-এগারোর পর পালিয়ে যান, তারপর আর নির্দিষ্ট করে খোঁজ পাওয়া যায়নি। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত হারিছ চৌধুরী। পাশাপাশি জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায়ও তার সাত বছরের কারাদণ্ড হয়েছে। এই মামলায় খালেদা জিয়া সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে ছিলেন। এ ছাড়া সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া হত্যা ও বিস্ম্ফোরক মামলার আসামি হারিছ চৌধুরী। এক-এগারোর সময় তার বিরুদ্ধে মামলা করেছিল দুর্নীতি দমন কমিশন।

তবে তার মৃত্যর খবরের আলোচনা- সমালোচনা নিয়ে দেশের একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকার একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, সেখান হারিস চৌধুরীর পরিবার ও ঘনিষ্ঠদের মতামত নেওয়া হয়েছে।

সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা দীর্ঘদিন খুঁজেও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার এই রাজনৈতিক সচিবের সন্ধান পায়নি। এই সময়ে তিনি লন্ডন, পাকিস্তান, ভারতসহ বিভিন্ন স্থানে ছিলেন বলে প্রচারে আছে।

হারিছ চৌধুরীর পরিবারের ঘনিষ্ঠ সূত্র দাবি করেছে, হারিছ শিক্ষক পরিচয়ে চেহারা পাল্টে ঢাকায় আত্মগোপন করেছিলেন। মৃত্যুর পর তাকে আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

রাজধানীর মিরপুরে বড় বোনের সঙ্গে হারিছের যোগাযোগ ছিল জানিয়েছেন জেলা বিএনপি নেতা আবুল কাহির চৌধুরী। তার ভাষ্য, ঢাকায় মারা যাওয়ায় মৃত্যু সংবাদ প্রচার করা হয়নি।

সিলেট জেলা বিএনপি নেতা আবুল কাহির চৌধুরী দাবি করেছেন, হারিছ চৌধুরী ঢাকায় ছিলেন এবং মারা যাওয়ার পর তাকে ঢাকায় দাফন করা হয়েছে। রাজধানীর মিরপুরে বসবাসকারী তার বোনের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল বলেও জানান ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচনে সিলেট-৫ আসনের এই সংসদ সদস্য।

কাহির চৌধুরী বলেন, আত্মগোপনে যাওয়ার পর হারিছ চৌধুরী কানাইঘাট সীমান্ত হয়ে ভারতে গিয়েছিলেন। পরে আবার জকিগঞ্জ হয়ে দেশে ফিরেছিলেন। তখন তার সঙ্গে দেখাও হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দেখা-সাক্ষাৎ বা যোগাযোগ হয়নি। কানাইঘাটের একজন কলেজ শিক্ষকের মাধ্যমে তিনি হারিছ চৌধুরীর মৃত্যু সংবাদ পেয়েছেন বলে জানান। মৃত্যুর পর হারিছ চৌধুরীর লন্ডন প্রবাসী ছেলে দেশে এসেছিলেন বলেও দাবি কাহির চৌধুরীর।

পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে হারিছ চৌধুরী সবার বড় ছিলেন। তবে মিরপুরের বাসিন্দা বোন আমেনা ভাইবোনদের মধ্যে সবার বড়। এই পরিবারের ঘনিষ্ঠ কানাইঘাট বিএনপির এক নেতা বলেন, হারিছ চৌধুরীর কিছুদিন আগে তার ছোট ভাই সেলিম চৌধুরী মারা যান। তিনিও ঢাকায় বসবাস করতেন।

তবে আশিক চৌধুরী তথ্য অস্বীকার করে ওই নেতা বলেন, হারিছ চৌধুরীর সঙ্গে কারও যোগাযোগ ছিল না; তাদের কেউ বাড়িতেও আসেনি। তিনি মারা যাওয়ার পর আমরা জেনেছি। বর্তমানে হারিছ চৌধুরীর স্ত্রী ও ছেলেমেয়েরা লন্ডনে বসবাস করছেন।

হারিছ চৌধুরীর সবচেয়ে ছোট ভাই কামাল চৌধুরী গ্রামেই থাকেন। তিনি বলেন, ‘বড় ভাই মারা গেছেন বলে শুনেছি। তার সঙ্গে যোগাযোগ ছিল না।’

গত বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর হারিছ চৌধুরীর ছবি দিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন আশিক চৌধুরী। সেদিন ‘ভাই বড় ধন, রক্তের বাঁধন’ লিখে দেওয়া স্ট্যাটাসের পাশাপাশি হারিছ চৌধুরীর সঙ্গে খালেদা জিয়ার ছবি সংযুক্ত করেছিলেন। সেই স্ট্যাটাসের নিচে বিএনপি ঘরানার অনেকে মন্তব্য করে হারিছ চৌধুরীর সুস্থতা কামনা করেন। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার নিজের ছবির সঙ্গে হারিছ চৌধুরীর ছবি যুক্ত করে আশিক চৌধুরী ফেসবুকে নিজের ওয়ালে আবারও লেখেন- ‘ভাই বড় ধন রক্তের বাঁধন’। এতে অনেক মানুষের ‘ইন্নালিল্লাহি … রাজিউন’ মন্তব্য দেখা যায়।

আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় হারিছ চৌধুরী করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন বলে ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে। এক পর্যায়ে করোনামুক্ত হলেও তিনি ফুসফুসের জটিলতায় ভুগছিলেন।

আশিক চৌধুরী জানান, হারিছ চৌধুরীর স্ত্রী জোসনা আরা চৌধুরী, ছেলে নায়েম শাফি চৌধুরী ও মেয়ে সামিরা তানজিন চৌধুরী যুক্তরাজ্যে বসবাস করেন। তিনিও সেখানে ছিলেন বলে শুনেছি। অসুস্থ হওয়ার পর চিকিৎসা নিয়েছেন।

লন্ডনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হারিছ চৌধুরীর মৃত্যুর কথা বললেও সেখানে কোনো হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তা জানেন না বলে দাবি করেন আশিক চৌধুরী। তিনি বলেন, মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তার মৃত্যুর সংবাদ পেয়েছি।

সিলেটের সীমান্তবর্তী কানাইঘাট উপজেলার দিঘিরপাড় পূর্ব ইউনিয়নের দর্পনগর গ্রামে হারিছ চৌধুরীর বাড়ি। ২০০৭ সালে দেশে জরুরি অবস্থা জারি হওয়ার পর হারিছ চৌধুরী তার স্ত্রী জোসনা আরা চৌধুরীকে নিয়ে সেখানে গিয়েছিলেন বলে পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে। সূত্রটি জানায়, গভীর রাতে হারিছের ব্যক্তিগত সহকারী আতিক তাকে জানান, ঢাকায় বিএনপি নেতাদের বাসভবনে যৌথ বাহিনীর অভিযান চলছে। এর কয়েক ঘণ্টা পর যৌথ বাহিনী হারিছের বাড়িতেও হানা দেয়। তবে তার আগেই তিনি সরে পড়েছিলেন। কিছুদিন সিলেটে এখানে-সেখানে লুকিয়ে থাকার পর ওই বছরের ২৯ জানুয়ারি জকিগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে রাতের আঁধারে ভারতে চলে যান। ভারতের আসামে করিমগঞ্জ জেলার বদরপুরে তার নানাবাড়ি। সেখানেই তিনি ওঠেন। সেখান থেকেই বিদেশে যাতায়াত করতেন।

ADS ADS

প্রতিছবি ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Comments: