দীর্ঘায়ু হতে চাইলে সকালে খালি পেটে আখরোট খান
পুষ্টিগুণে ভরপুর আখরোট একপ্রকার বাদাম জাতীয় ফল। আখরোট গাছের বৈজ্ঞানিক নাম যুগলান্স রেজিয়া। প্রচুর আমিষ এবং অত্যাবশ্যকীয় ফ্যাটি আসিড আছে। এই ফলটি গোলাকার এবং ভেতরে একটি বীজ থাকে। পাকা ফলের বাইরের খোসা ফেলে দিলে ভেতরের শক্ত খোলসযুক্ত বীজটি পাওয়া যায়। এই খোলসের ভেতরে থাকে দুইভাগে বিভক্ত বাদাম যাতে বাদামি রঙের আবরন থাকে যা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ।
এক কাপ বা ৩০ গ্রাম পরিমাণ আখরোটের পুষ্টি উপাদানগুলো হলো- শক্তি- ২০০ ক্যালরি, কার্বোহাইড্রেট-৩.৮৯ গ্রাম, সুগার- ১ গ্রাম, ফাইবার- ২ গ্রাম, প্রোটিন- ৫ গ্রাম, ফ্যাট- ২০ গ্রাম, ক্যালসিয়াম-২০ মিলিগ্রাম, আয়রণ- ০.৭২ মিলিগ্রাম, সোডিয়াম- ০ মিলিগ্রাম। এছাড়াও আখরোটে খনিজ লবণ পাওয়া যায়-ম্যাঙ্গানিজ, কপার, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, ভিটামিন বি-৬।
সপ্তাহে অন্তত পাঁচ বার সকালে আখরোট খেলে আয়ু বাড়ে। কমে অকাল মৃত্যুর আশঙ্কাও। এমনই প্রকাশ পেল হালের গবেষণায়।
আমেরিকার হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সমীক্ষায় সম্প্রতি দেখা গিয়েছে, আখরোট শরীর সুস্থ রাখার জন্য একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য। এ সংক্রান্ত একটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছেন হার্ভার্ডের বিজ্ঞানীরা। ‘নিউট্রিয়েন্টস’ পত্রিকায় প্রকাশিত সেই গবেষণাপত্রে লেখা হয়েছে, প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য এই খাদ্য খুব জরুরি। বিশেষ করে যারা সে ভাবে নিয়ম মেনে পুষ্টিকর খাওয়াদাওয়া করেন না, তাদের আরও বেশি সাহায্য করতে পারে আখরোট।
অনেকেরই কাজের চাপে নিয়মিত কোনও পুষ্টিগুণ যাচাই করে খাওয়া-দাওয়া করা সম্ভব হয় না। আখরোট খেলে তাদের পক্ষে অনেকটাই পুষ্টির ঘাটতি মেটানো সম্ভব। ওই গবেষণায় দেখা গিয়েছে, সপ্তাহে বার পাঁচেক আখরোট খাওয়া গেলে অকাল মৃত্যুর আশঙ্কা কমতে থাকে। হার্টের অসুখে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু ঘটার আশঙ্কা প্রায় ২৫ শতাংশ কমে। ১.৩ বছর মতো আয়ু বাড়ে।
১৯৯৮ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত চালানো হয় এ সংক্রান্ত সমীক্ষা। ২০ বছরে ৬৭,০১৪ মহিলা এবং ২৬,৩২৬ পুরুষের স্বাস্থ্য সম্পর্কে নানা তথ্য জোগাড় করেন গবেষকরা। প্রতি চার বছরে তাদের খাওয়াদাওয়ার অভ্যাসে কী পরিবর্তন এসেছে, সে তথ্য সঞ্চয় করেন গবেষকরা। কে সপ্তাহে কত বার আখরোট খেয়েছেন, কত ঘণ্টা ব্যায়াম করেছেন, সে দিকেও নজর দেওয়া হয়। চিনে বাদাম বা কাঠবাদাম যারা খান, তাদের তথ্য আলাদা ভাবে রাখা হয়। সব দেখেশুনে আখরোটের গুণ সম্পর্কে নির্দিষ্ট ধারণা তৈরি হয় গবেষকদের।
নিয়মিত যারা আখরোট খেতেন, তারা শারীরিকভাবে অনেক সচল বলে দেখা গিয়েছে। গবেষণাপত্রে এমনই জানিয়েছেন হার্ভার্ডের বিজ্ঞানীরা।
আখরোটে থাকা গামা, টোকোফেরল, ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড ও ইলেজিক-গ্যালিক অ্যাসিড শরীরে ক্যানসার প্রতিরোধ করে। শরীরে ক্যালসিয়াম জমা করতে সাহায্য করে আখরোট।
পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের মতে, সকালে খালিপেটে নিয়মিত আখরোট খাওয়ার অভ্যাস ক্যানসার, হার্টের অসুখ, স্নায়ুগত সমস্যা, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণসহ নানা রোগের ওষুধ হিসেবে কাজ করে।
তাদের দীর্ঘদিনের গবেষণাটি জার্নাল অব নিউট্রিশনে সম্প্রতি প্রকাশ পেয়েছে। যাতে গবেষকরা দাবি করেছে, আখরোট একই সঙ্গে হৃদযন্ত্র এবং মস্তিষ্ক উভয়েরই সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারে। তাই হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের মতো রোগের হাত থেকে বাঁচতে ডায়েটে এ খাবারটিকে রাখতে পারেন।
এছাড়া আখরোটে থাকা ওমেগা ৩, ফ্যাটি অ্যাসিড, ভিটামিন ই’র মতো উপাদানগুলো ত্বক ও চুলের যত্নে দারুণ কার্যকরী। যাদের ঘুম হয় না এবং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে না, নিয়মিত আখরোট খাওয়ার অভ্যাসে এ সমস্যা থেকে তারা মুক্তি পাবেন। হাড় ও দাঁতের যত্নেও দারুণ কাজ করে এ আখরোট।
পুষ্টিবিদরা বলছে, সম্পূর্ণ পুষ্টিগুণ পেতে এবং হজম শক্তি বাড়াতে আখরোটকে পানিতে ভিজিয়ে সকালে খাওয়া ভালো। তবে পানির পরিবর্তে দুধ কিংবা মধুর সঙ্গেও সকালে আখরোট খাওয়া যেতে পারে।
একজন পূর্ণ বয়স্ক মানুষের নিয়মিত ৫টি আখরোট খাওয়াকেই যথেষ্ট বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে প্রতিদিন ৫ টির বেশি আখরোট খাবেন না। কারণ দিনে ৫টির বেশি আখরোট খাওয়ার অভ্যাস শরীরে উপকারী নয়, বরং ক্ষতিকর বলেই অভিমত দিয়েছেন চিকিৎসকরা।
এছাড়া বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে আখরোট কার্যকর ভূমিকা পালন করে। শরীরের ওজন কমাতে সাহায্য করে, অ্যালজাইমার, হৃদরোগ প্রতিরোধ করে। প্রতিদিন যদি অন্তত ৭৫ গ্রাম করে আখরোট খাওয়া যায় তবে পুরুষদের বন্ধ্যাত্বের সমস্যা কমে। কারণ আখরোট বাড়িয়ে দেবে স্পার্ম কাউন্ট বা শুক্রাণুর সংখ্যা।
প্রতিছবি ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
























Comments: