- দেশের সন্তানদের ভালো অর্জনকে স্বীকৃতি দেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী
- সিডনির পথে অন্য এক জেমস
- জেদ্দায় ক্ষেপণাস্ত্র আতঙ্কে সিঁড়ি থেকে পড়ে বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু
- শিশুর বারবার পেটের সমস্যা, বমি? কোন ৩ পানীয় দিতে পারেন
- ফেসবুকে বন্ধ হচ্ছে সরাসরি বিজ্ঞাপন দিয়ে পেইজে লাইক বাড়ানোর সুযোগ!
- সেই নারীর ভাইরাল ভিডিও নিয়ে মুখ খুললেন অভিনেতা পাভেল
- হরমুজে মার্কিন জাহাজে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ইরানের
- আপনার হাঁটু ও কনুই কি এমন কালচে হয়ে ওঠছে? জেনে নিন সমাধান
- বিশ্ববাজারে বেড়েছে সোনার দাম
- মানবতাবিরোধী অপরাধে জাফর ইকবাল-মাকসুদ কামালসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ
সিডনির পথে অন্য এক জেমস
বর্তমানে দেশ ও বিদেশের বিভিন্ন স্থানে কনসার্ট নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন নগরবাউলের জেমস। তারই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি তিনি মাতিয়েছেন সিডনি।
গত ১২ সেপ্টেম্বর রাতে সিডনির নরওয়েস্টের হিলসং কনভেনশন সেন্টারে গিটার হাতে মঞ্চে উঠেছিলেন নগরবাউল। সঙ্গে ছিলেন কলকাতার ফসিলস ব্যান্ডের রূপম ইসলাম। সেখানে ‘দুষ্টু ছেলের দল’, ‘তারায় তারায়’, ‘ভিগি ভিগি’ থেকে আবেগময় ‘মা’—তার একের পর এক গানে মেতেছিলেন হাজারো দর্শক।
সিডনির ব্যস্ত সড়কে যে যার গন্তব্যে ছুটছেন। ফুটপাতের এক কোণে বেহালা বাজাচ্ছেন তরুণ এক পথশিল্পী। হঠাৎ সেই সুরে থমকে দাঁড়ালেন জেমস। পাশে কোনো মঞ্চ নেই, সামনে হাজারো দর্শকও নেই। একটু দূরে দাঁড়িয়ে অপলক শুনতে থাকলেন অচেনা শিল্পীর বাদন। কোনো কথা নেই, তাড়া নেই—শুধু সুরে ডুবে থাকা।
কনসার্টের পর আরও চার দিন সিডনিতে ছিলেন জেমস। সময়টি কাটিয়েছেন নিজের মতো করে।
যারা ব্যক্তিগতভাবে চেনেন জানেন, জেমস স্বল্পভাষী মানুষ। জনসমক্ষে কম কথা বলা ও নিজস্ব বলয়ে থাকা এই শিল্পীকে শহরের পথে দেখা গেছে একজন সাধারণ পর্যটকের মতো।
ছুটে বেড়িয়েছেন সিডনির ব্যস্ত সড়কে। ফুটপাতের কোণে থমকে দাঁড়ান পথশিল্পীর বেহালার সুরে। অপলক শুনতে থাকলেন অচেনা শিল্পীর বাদন। কোনো কথা নেই, তাড়া নেই—শুধু সুরে ডুবে থাকা। চারপাশে শহরের চেনা ব্যস্ততা, অথচ জেমস স্থির। দীর্ঘ সময় ধরে তন্ময় হয়ে শুনলেন তরুণের বাজনা।
এছাড়াও সিডনির বাণিজ্যিক এলাকার বিপণিবিতান ও বাজারেও ঘুরেছেন জেমস। সঙ্গে ছিল না বাড়তি নিরাপত্তা কিংবা তারকাসুলভ আড়ম্বর। সহধর্মিণীর দেওয়া তালিকা দেখে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনেছেন। নিজের পছন্দের সুগন্ধির খোঁজে ঢুঁ মেরেছেন শহরের একটি পুরোনো অভিজাত দোকানেও।
সংগীতের বাইরে আলোকচিত্রের প্রতি জেমসের অনুরাগ পুরোনো। সিডনিতেও ক্যামেরা ছিল তার নিত্যসঙ্গী। বিকেল হলেই কখনো আয়োজক বেঙ্গলি সিনে ক্লাবের তানিম মান্নান, প্রসেনজিৎ রায় ও সৈকত মণ্ডলের সঙ্গে বেরিয়ে পড়েছেন। কখনো তার সহযাত্রী হয়েছেন দীর্ঘদিনের সঙ্গী আহসান এলাহী ফান্টি, গিটারিস্ট তালুকদার সাব্বির, ইশমামুল ফরহাদ, কিবোর্ডিস্ট আবদুল কাইয়ুম ও ব্যবস্থাপক রুবাইয়াত ঠাকুর।
কখনো গন্তব্য হারবারের তীরে কিরিবিলি, কখনো অপেরা হাউস চত্বর। ট্রাইপড বসিয়ে দীর্ঘ সময় ছবি তুলেছেন জেমস। গোধূলির আলোয় হারবার ব্রিজ, পানির ঢেউ কিংবা অপেরা হাউসের কোনো শান্ত কোণ—সবই ধরা পড়েছে তার ক্যামেরায়। ছবি তোলার সময় তাকে দেখে বোঝার উপায় ছিল না, তিনি বেড়াতে বেরিয়েছেন নাকি কোনো আলোকচিত্র প্রকল্পে কাজ করছেন।
এদিকে কিরিবিলির ঘাটে ঘটে মজার এক ঘটনা। জেমস ও তার সঙ্গীরা নিজেদের একটি ছবি তুলে দিতে অচেনা এক পথচারীকে অনুরোধ করেন। কাকতালীয়ভাবে সেই ভিনদেশি ব্যক্তিও ছিলেন পেশাদার আলোকচিত্রী। ক্যামেরা হাতে নিয়েই তিনি জেমসকে নির্দেশ দিতে শুরু করেন, ‘এভাবে নয়, ওভাবে তাকান! চোখ বন্ধ হয়ে আসছে, চোখ খুলুন!’
জেমসকে এভাবে নির্দেশ দিতে দেখে সঙ্গীরা কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে পড়েন। জেমসের মধ্যে অবশ্য বিরক্তির কোনো ছাপ নেই। মিষ্টি হেসে আলোকচিত্রীর প্রতিটি নির্দেশ মেনে পোজ দিতে থাকেন। ঘটনাটি উপভোগও করেন বেশ। সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের ভাষায়, এমন নির্ভার জেমসকে খুব বেশি দেখা যায় না।
সিডনির পথে গাড়িতে ঘোরার সময় জেমস শুনছিলেন ফরাসি জ্যাজ। ভাষাটি তার জানা নয়, কিন্তু সুর ও আবেগে ডুবে ছিলেন। কথা প্রসঙ্গে জানান, সুরের কোনো ভাষা কিংবা ভূগোল নেই। গানের ভাষা না বুঝলেও তার আবেগ সরাসরি মানুষের মনে পৌঁছে যেতে পারে।
প্রতিছবি ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।






















Comments: