- নিয়মিত আদা খেলে শরীরে যে পরিবর্তন হয়
- দীপু মনির প্যারোলে মুক্তির পর স্বামীর জানাজার সিদ্ধান্ত
- লোহিত সাগরে সৌদি জাহাজ ও ৪টি সামরিক নৌকায় হামলা
- শহীদ জিয়া ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে স্থায়ী কমিটির নতুন চার সদস্যের শ্রদ্ধা
- ১৭ দিনে রেমিট্যান্স এলো ২৩ হাজার কোটি টাকা
- ফেসবুক-ইনস্টাগ্রামে বড় পরিবর্তনের আভাস
- নামাজে কিবলামুখী হওয়ার বিধান ও সীমা কতটুকু?
- ঢাকার কোন কোন পথে চলবে পিংক বাস, ভাড়া কত? জানুন বিস্তারিত
- রাজস্ব কাঠামোকে জনবান্ধব করতে চায় সরকার: প্রধানমন্ত্রী
- সাবেক সেনাপ্রধান আজিজের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলে রেড নোটিশের আবেদন
সত্তর দশকে এক বিপ্লবের নাম মহানায়ক উত্তমকুমার
মৃত্যুর ৪৪ বছর পরেও যেন উপমহাদেশের দর্শকহৃদয়ে আজও বেঁচে আছেন মহানায়ক উত্তমকুমার। ১৯৮০ সালের ২৪ জুলাই প্রয়াত হন বাংলার কিংবদন্তী এই অভিনেতা আচমকাই মৃত্যুবরণ করেন। সত্তর দশকে বড়পর্দার একচ্ছত্র নায়ক হিসেবে উত্তমকুমার ছিলেন এক বিপ্লবের নাম। সেসময়ের হলগুলোতে ছিলো শুধুই উত্তমের পোস্টার!
কিন্তু সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসা উত্তম প্রথমেই বড় পর্দায় সফলতা পাননি। ১৯৪৮ সাল থেকে ১৯৫২ সাল পর্যন্ত একের পর এক সিনেমায় ফ্লপ নায়ক তিনি। তবে ভয় পাননি, সাহস আর পরিশ্রমের কারণে সব চরাই উতরে গেছেন তিনি।
১৯৫৩ সালে মুক্তি পায় উত্তম অভিনীত সিনেমা ‘সাড়ে চুয়াত্তর’। সেই থেকে বাংলার রোমান্টিক নায়ক উত্তমকুমারের সফলতাকে আর দমন করা যায়নি।
‘সাড়ে চুয়াত্তর’ সিনেমার পর ততদিনে উত্তম বুঝে গিয়েছিলেন তাকে ঠিক কী করতে হবে। কীভাবে দর্শকের সামনে নিজেকে পরিবেশন করতে হবে। পরবর্তীতে আকাশ ছোঁয়া খ্যাতি পেলেও বাংলার মহানায়ক উত্তম কুমার পা রাখতেন মাটিতেই।
শুধু সিনেমায় নয় উত্তম কুমার তার অভিনয়ের আলো মঞ্চেও ছড়িয়েছিলেন। তার আরেকটি ভালো বড় গুণ ছিল কখনো কোনো শিল্পী সমস্যায় পড়লে আগে এগিয়ে যেতেন তিনি। বিশেষ করে কেউ আর্থিক সমস্যায় পড়লে সাহায্য করতে দ্বিধা করতেন না উত্তম।
প্রায় দু’শর বেশি বাংলা সিনেমায় অভিনয় করা উত্তম একাধিক হিন্দি সিনেমাতেও অভিনয় করেছেন। ১৯৫৬ সালে এ অভিনেতা প্রথম প্রযোজক হয়ে ‘হারানো সুর’ চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করেন। সেখানেও তিনি সুপারহিট। সে ছবির জন্য রাষ্ট্রপতি ‘সার্টিফিকেট অব মেরিট’ সম্মান পান তিনি।
১৯২৬ সালে ৩ সেপ্টেম্বর কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন উত্তম কুমার। তার বাড়ির নাম অরুণ কুমার চট্টোপাধ্যায়। তিন সন্তানের মধ্যে উত্তম কুমার ছিলেন সবার বড়। তার পিতার নাম সাতকড়ি চট্টোপাধ্যায় এবং মায়ের নাম চপলা দেবী। তার ছোট ভাই তরুণ কুমার একজন শক্তিশালী অভিনেতা ছিলেন। তারা একত্রে বেশ কিছু জনপ্রিয় চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন।
উত্তম কুমার গৌরী দেবীকে বিয়ে করেন তাদের একমাত্র সন্তান গৌতম চট্টোপাধ্যায় মাত্র ৫৩ বছর বয়সে ক্যানসারে মারা যান। গৌরব চট্টোপাধ্যায় উত্তম কুমারের একমাত্র নাতি, বর্তমানে টলিগঞ্জের জনপ্রিয় ব্যস্ত অভিনেতা।
১৯৬৩ সালে উত্তম কুমার তার পরিবার ছেড়ে চলে যান। দীর্ঘ ১৭ বছর তৎকালীন জনপ্রিয় অভিনেত্রী সুপ্রিয়া দেবীর সঙ্গে বসবাস করেন তার মৃত্যুর আগ পর্যন্ত।
চলচ্চিত্র জগতে উত্তম-সুচিত্রা জুটি সেসময় মনের এককোণে শিহরণ জাগিয়েছিল। সেই শিহরণ এখনো সিনেপ্রেমীদের মনে দোলা দেয়। শুধু সুচিত্রা নয় সুপ্রিয়া দেবী, সাবিত্রী, মাধবী, শর্মিলা নায়িকারা বড় পর্দায় কাজ করেছেন উত্তম কুমারের সঙ্গে।
তার অভিনীত সফল ছবিগুলোর মধ্যে রয়েছে নবীন যাত্রা (১৯৫৩) লাখ টাকা (১৯৫৩) বৌ ঠাকুরানীর হাট (১৯৫৩) সদানন্দের মেলা (১৯৫৪) ওরা থাকে ওধারে (১৯৫৪) মনের ময়ূর (১৯৫৪) মরণের পারে (১৯৫৪) মন্ত্র শক্তি (১৯৫৪) কল্যাণী (১৯৫৪) গৃহপ্রবেশ (১৯৫৪) চাঁপাডাঙার বউ(১৯৫৪) ব্রতচারিনী (১৯৫৪) বকুল (১৯৫৪) বিধিলিপি (১৯৫৪) অনুপমা (১৯৫৪) অন্নপূর্ণার মন্দির (১৯৫৪) অগ্নিপরীক্ষা (১৯৫৪) সাঁঝের প্রদীপ (১৯৫৫) উপহার (১৯৫৫) শাপ মোচন (১৯৫৫) হ্রদ (১৯৫৫) সবার উপরে (১৯৫৫) কঙ্কাবতীর ঘাট (১৯৫৫) রাইকমল (১৯৫৫)।
প্রতিছবি ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
























Comments: