বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জের নদ-নদী ও নিন্মাঅঞ্চলে পানি বৃদ্ধি
টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে জেলার সুরমা, পাটলাই, যাদুকাটা, চেলাসহ সবকটি নদ-নদী ও হাওরে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। জেলার ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলা পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়াও জেলার তাহিরপুর বিশ্বম্ভরপুর, মধ্যনগর, জগন্নাথপুর, দিরাই, শাল্লাসহ বিভিন্ন উপজেলার নিন্মাঅঞ্চলে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছে স্থানীয় এলাকাবাসী। পাশাপাশি ঈদে বাড়ি থেকে কর্মস্থল ফেরত মানুষ ঘর থেকে বের হতে গিয়ে চরম দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, জেলার সুরমা নদীর পানি শহরের ষোলগড় পয়েন্ট বিপদসীমার ১৯ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়াও জেলার ছাতক উপজেলার সুরমা নদীর পয়েন্ট দিয়ে ১৩৩ সেন্টিমিটারের উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘন্টায় সুনামগঞ্জে ১৭০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।
খোজ নিয়ে জানাযায়,শহরের কাজির পয়েন্ট, জামাইপাড়া, নতুন পাড়া, কালিবাড়ি, আরপিননগর সহ বেশ কয়েকটি পয়েন্টে বৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়াও জেলার তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর, ছাতক, দোয়ারা বাজার, মধ্যনগরসহ বেশ কয়েকটি উপজেলার নিম্নাঞ্চলে পানি ডুকে প্লাবিত হয়েছে রাস্তাঘাট।
উপজেলায় ও সীমান্ত এলাকার সড়কও পানিতে তলিয়ে গেছে। ভোগান্তিতে পড়েছেন ওই সব এলাকার পাঁচ-ছয় লাখেরও বেশি মানুষ। একই সঙ্গে পানি বাড়তে থাকায় বন্যা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে ভাটির জেলার ২০ লাখেরও বেশি মানুষ।
জেলা শহরে আসতে গিয়ে কোনো কোনো সড়কে মানুষজন নৌকা দিয়ে পাড়া পাড় হচ্ছে। পাহাড়ি ঢলের পানি বৃদ্ধি পাওয়ার জেলার হাওর পাড়ে ও সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী কয়েক লক্ষাধিক মানুষ গত বছরের বন্যার আশংকায় আতংকের মধ্যে সময় পার করছে।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার জানান, টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে আরও বাড়তে থাকলে জেলার নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদী বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। তবে আগামী ২৪ ঘন্টা বৃষ্টিপাত কমে আসবে।
সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক দিদারে আলম, বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে বন্যার আশংঙ্কা দেখা দিলে পর্যাপ্ত খাদ্য সহায়তা মজুদ রয়েছে এবং আশ্রয় কেন্দ্র গুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
প্রতিছবি ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
























Comments: