জেলা-উপজেলায় হল ভেঙে সিনেপ্লেক্স করা হবে: প্রধানমন্ত্রী
জেলা-উপজেলা পর্যায়ে থাকা সিনেমা হলগুলো ভেঙে সিনেপ্লেক্স করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বলেন, আমাদের হলগুলো পুরোনো, এগুলোর উন্নয়নে এক হাজার কোটি টাকার একটা ফান্ড আমরা তৈরি করেছি। সেখান থেকে হল মালিকদের অল্প সুদে এখান থেকে লোন দিচ্ছি। এতে করে পরিবার নিয়ে মানুষ হলে এসে সিনেমা দেখতে পরেবে।
বৃহস্পতিবার বিকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) ‘জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০২১’ প্রদান অনুষ্ঠানে একথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
শেখ হাসিনা বলেন, মাঝে চলচ্চিত্র শিল্প অনেকটা দুর্বল হয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ভালো কিছু সিনেমার মাধ্যমে আবারও মানুষ সিনেমাহল মুখি হচ্ছে। সম্প্রতি দেশে আন্তজার্তিক মানসম্পন্ন সিনেমা তৈরি হয়েছে। সীমাবদ্ধতা থাকা স্বত্বেও এ শিল্পের মানুষেরা কাজ করে যাচ্ছে এজন্য আপনাদের ধন্যবাদ।
সমাজ, পরিবারকে নিয়ে দেখার মতো সিনেমা নির্মাণের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অশালীন ও অনুকরণমুক্ত সিনেমা বানাতে বলেন দেশের পরিচালকদের।
এ শিল্পের উন্নয়নে যখন যা প্রয়োজন তা খুঁজে বের করে সমাধানের চেষ্টা করছে সরকার। ভালো চলচ্চিত্র নির্মাণ ও এ শিল্পে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে প্রতিবছর সিনেমা নির্মাণের জন্য সরকারি অনুদান দেওয়া হয়। তবে একটা পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণে এ টাকা যথেষ্ট নয় জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, ‘একটা ভালো বাজেটে একটা ভাল সিনেমা নির্মাণ হয়। আগামী বাজেটে চলচ্চিত্রে অনুদানের পরিমাণ বাড়ানোর চিন্তা করব।’
জীবনধর্মী চলচ্চিত্র নির্মাণ বাড়ানোর কথা বলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জীবনধর্মী চলচ্চিত্রে মানুষ আকৃষ্ট হয়। জীবনধর্মী চলচ্চিত্র নানারকম অন্যায় অপরাধ কাজ থেকে সমাজকে দুরে রাখে। কাজেই বেশি বেশি জীবনধর্মী সিনেমা বানাতে হবে।
২০১২ সালে ক্ষমতায় আসার পর চলচ্চিত্র শিল্পের বিকাশে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছি। যার মধ্যে গাজীপুরের কবিরপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ফিল্ম সিটি নির্মাণ, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন এবং বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ আধুনিকায়ন প্রকল্প বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘চলচ্চিত্র শিল্পের মানোন্নয়নে আমরা ‘জাতীয় চলচ্চিত্র নীতিমালা-২০১৭’, ‘যৌথ প্রযোজনায় চলচ্চিত্র নীতিমালা-২০১৭’ ও ‘চলচ্চিত্র সংসদ নিবন্ধন আইন-২০১১’ প্রণয়ন করি এবং চলচ্চিত্র সেন্সর আইন ও চলচ্চিত্র সংসদ নিবন্ধন আইন যুগোপযোগী করি। অস্বচ্ছল ও দুস্থ চলচ্চিত্র শিল্পী ও কলাকুশলীদের জন্য বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী কল্যাণ ট্রাস্ট আইন ২০২১ প্রণয়ন করা হয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘চলচ্চিত্র সাড়ে সাত কোটি মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণে অনুপ্রাণিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। আকাশ সংস্কৃতির এই যুগে আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতিকে আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরতে এই শিল্প বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে।’
এছাড়া মুক্তিযুদ্ধর সিনেমাগুলো প্রজন্মের পর পর্যসন্মের সামনে তুলে ধরতে আগে যেসব সিনেমা হয়েছে সেগুলো ডিজিটাল করে ফিল্ম আর্কাইভে সংরক্ষণ করতে বলেন প্রধানমন্ত্রী।
এ সময় এফডিসির কমপ্লেক্স নির্মাণের ধীর গতি কেন, প্রশ্ন করেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করার তাগিদ দেন তিনি।
চলচ্চিত্র পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান আরও জাঁকজমক হওয়া উচিত মন্তব্য করে তিনি বলেন, তবে আমার সময়ের অভাবেই যদিও বিস্তৃতভাবে এটা করা যায় না। স্বীকার করে নিচ্ছি। তবে আগামীতে চাই আরো নান্দনিকভাবে এই পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানটা যাতে হয়।
দেশে গণমাধ্যমের অবাধ প্রচার সুযোগের মধ্যেও বাক স্বাধীনতা নিয়ে বিতর্কের সমালোচনা করে সরকার প্রধান বলেন, এতো চ্যানেল, সারা দিন ধরে টক শো করেও অনেকে অভিযোগ করেন, কথা নাকি বলতে দেওয়া হয় না। বাংলাদেশে এখন ২ হাজার ৪৫৫টি পত্রিকা, ১৭০টি অনলাইন নিউজপোর্টাল, ১৪টি আইপি টিভি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সেখানে সবাইতো মন ভরে কথা বলছে। কথা বলতে পারল না কোথায়। কে মুখটা বন্ধ করলো আমি জানি না।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দে, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হাসানুল হক ইনু, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. হুমায়ুন কবীর খোন্দকার।
এর আগে চলচ্চিত্র শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা গুণী শিল্পীদের হাতে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। ২০২১ সালের সিনেমা থেকে এ বছর ২৭ ক্যাটাগরিতে ৩৪টি পুরস্কার দেওয়া হয়।
এবারের আসরে চলচ্চিত্র শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে আজীবন সম্মাননা পেয়েছেন প্রখ্যাত অভিনয়শিল্পী ডলি জহুর ও ইলিয়াস কাঞ্চন।
এবার যৌথভাবে শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র নির্বাচিত হয়েছে ‘লাল মোরগের ঝুঁটি’ ও ‘নোনাজলের কাব্য’। শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র পরিচালক হয়েছেন রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিত (নোনাজলের কাব্য)। সেরা স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র বিভাগে পুরস্কার জিতেছে আকা রেজা গালিব পরিচালিত ‘ধর’ ও সেরা তথ্যচিত্র বিভাগে পুরস্কার পেয়েছে ‘বধ্যভূমিতে একদিন’।
যৌথভাবে শ্রেষ্ঠ অভিনেতার পুরস্কার জিতেছেন মো. সিয়াম আহমেদ (মৃধা বনাম মৃধা) ও মীর সাব্বির মাহমুদ (রাতজাগা ফুল) এবং যৌথভাবে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী নির্বাচিত হয়েছেন আজমেরী হক বাঁধন (রেহানা মরিয়ম নূর) ও তাসনোভা তামান্না (নোনাজলের কাব্য)।
প্রতিছবি ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
























Comments: