অনেক সংগ্রামের পথ বেয়ে দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছি: শেখ হাসিনা
দেশে গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বলেন, ‘অনেক সংগ্রামের পথ বেয়ে দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছি।’
কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে মঙ্গলবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিকালে আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে তিনি একথা বলেন। মিঠামইনের উপজেলার হেলিপ্যাড মাঠে এ সুধী সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
সুধী সমাবেশে যোগ দেয়ার আগে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের পৈত্রিক বাড়িতে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। এর আগে বেলা ১১টার দিকে মিঠামইনে নবনির্মিত আবদুল হামিদ সেনানিবাসের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।
দীর্ঘ ২৫ বছর পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মিঠামইন উপজেলা সদরে গেলেন। এর আগে ১৯৯৮ সালে তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। তখনকার হাওর আর বর্তমান সরকারের উন্নয়নের পর এখনকার হাওরের পার্থক্য স্বচক্ষে দেখার জন্য প্রধানমন্ত্রীর এ সফর।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘হাওরাঞ্চলের প্রত্যেকটি সড়ক হবে উড়াল সড়ক। হাওরের যেন কোনো ক্ষতি না হয় সেজন্য উড়াল সড়ক করা হবে। হাওরে উড়াল সড়কের প্রকল্প ইতোমধ্যেই একনেকে অনুমোদন দিয়েছি।’
কৃষকেরা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে ফসল উৎপাদন করেন মন্তব্য করে সরকারপ্রধান বলেন, ‘আগে বর্গাচাষীরা কখনও ঋণ পেত না। ৯৬ সালে সরকারে এসেই আওয়ামী লীগ সরকার প্রথম বিনা জমানতে তাদেরকে কৃষি ঋণ দেয়ার ব্যবস্থা করে। যার জন্য আজকে আমাদের ফসল উৎপাদন বাড়ছে।’
কৃষকদের উদ্দেশে সরকারপ্রধান বলেন, ‘উন্নতমানের বীজ, সার কৃষকদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছি। এখন কৃষকরা ১০ টাকা দিয়ে একটা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে পারে। যে অ্যাকাউন্টের ভর্তুকি টাকা আমরা দিয়ে দিচ্ছি। প্রায় এক কোটি মানুষকে উপকরণ কার্ড দিচ্ছি। এটি দিয়ে স্বল্পমূল্যে কৃষি উপকরণ কিনতে পারে।’
‘আমার গ্রাম হবে আমার শহর’ এই স্লোগানে সরকার কাজ করছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গ্রামের মানুষ যেন গ্রামেই শহরের সকল সুযোগ সুবিধা পায় সেই ব্যবস্থা করা হয়েছে। আমরা প্রত্যেকের হাতে মোবাইল ফোন পৌঁছে দিয়েছি। ভূমিহীনদের জন্য বিনামূল্যে ঘর, জমির ব্যবস্থাও করে দেওয়া হয়েছে।’
‘প্রত্যেকটা গ্রাম, গ্রামে যে মানুষ বসবাস করে, একটা মানুষ শহরে বসবাস করলে যে সুবিধা পায়, গ্রামে বসে ঠিক সেই সুযোগ সুবিধা পাবে। তাই আমার গ্রাম, আমার শহর সেই প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছি। যাতে গ্রামের মানুষও শহরের নাগরিক সুবিধা পায়। তারা যেন অবহেলিত না থাকে।’
আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ শুধু মুক্তিযুদ্ধ করে বিজয় এনে দেয়নি, দেশের মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছে।’
এসময় কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য ও রাষ্ট্রপতিপুত্র রেজোয়ান আহাম্মদ তৌফিককে আবারও ভোট দিয়ে বিজয়ী করতে উপস্থিত জনতার কাছ থেকে হাত তুলে ওয়াদা নেন আওয়ামী লীগ সভাপতি।
সুধী সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন মিঠামইন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যক্ষ আবদুল হক নূরু।
প্রতিছবি ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
























Comments: