দেশের সর্ববৃহৎ বিদ্যুৎকেন্দ্র উদ্বোধনের অপেক্ষা
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ধানখালী ইউনিয়নের নিশানবাড়িয়া গ্রামে দেশের বৃহৎ ১৩২০ মেগাওয়াট পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি চালু হতে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপস্থিত থেকে আজ কয়লাভিক্তিক এ বিদ্যুৎকেন্দ্রটি উদ্বোধন করবেন। এজন্য পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় বইছে আনন্দের বন্যা।
সকাল ১১ টা ১৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী স্ব-শরীরে উপস্থিত থেকে এ বিদ্যুৎকেন্দ্রটি পরিদর্শন ও ফলক উন্মোচন করবেন। এরপর সুধী সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন। এসময় প্রধানমন্ত্রী দেশের প্রতিটি ঘরে শতভাগ বিদ্যুতায়নের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করবেন।
২০১৪ সালে বাংলাদেশ নর্থওয়েস্ট পাওয়ার কোম্পানি ও চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট করপোরশনের (সিএমসি) মধ্যে ১৩২০ মেগাওয়াট পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে চুক্তি স্বাক্ষর হয়। ২০১৬ সালের ১৪ অক্টোবর পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ধানখালীতে কয়লাভিত্তিক এ বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের ভিত্তি প্রস্তর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এক হাজার একর জমির ওপর নির্মিত পরিবেশবান্ধব এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ২.৪৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চীন সরকারে রাষ্ট্রদূত, বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও সচিব, বিসিপিসিএল ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
বিদ্যুৎকেন্দ্রটি সাজানো হয়েছে নতুন সাজে। রং বেরঙের আলপনা দিয়ে সাজানো হয়েছে জেলেদের মাছ ধরার ২২০ নৌকা। গত এক সপ্তাহ ধরে উপজেলার মহিপুর ইউনিয়নের নজীবপুর গ্রামের আন্ধারমানিক নদীর তীরে বরিশাল চারুকলা বিদ্যালয়ের ১০ জন শিল্পী এ নৌকাগুলোকে প্রস্তুত করেছেন। প্রায় ৪ দিন ধরে ১০ শিল্পী এ নৌকাগুলোকে লাল, সবুজ, নীল এবং হলুদ রঙের কাজ শেষ করেছেন। এগুলো বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জেটি সংলগ্ন রাবনাবাদ নদীতে বিভিন্ন শ্লোগান, প্লেকার্ড, ফেস্টুন দিয়ে সুসজ্জিত অবস্থায় সারিবদ্ধভাবে থাকবে। প্রতিটি নৌকায় রং বেরঙের পোশাকে পাঁচজন করে জেলে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাবেন।
পর্যটন উদ্যোক্তা জলতরনীর স্বত্তাধিকারী আরিফ রহমান জানান, নৌকাগুলো প্রস্তুতের সময় স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে চারুকলা শিল্পীদের পাশে থেকে সহযোগিতা করেছি। শিক্ষার্থীর হাতের নিপুন ছোয়ায় নৌকাগুলো বিভিন্ন সাজে সজ্জিত হয়েছে।
কুয়াকাটা মৎসজীবী সংগঠন আশার আলো সমবায় সমিতির সভাপতি নিজাম শেখ জানান, প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে ২২০ নৌকাকে রংবেরঙের ডিজাইন করে সাজানো হয়েছে। প্রতিটি নৌকায় পাঁচজন করে জেলে থাকবে। বর্তমানে ওই নৌকাগুলো বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জেটিতে বাঁধা রয়েছে।
পায়রা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালক শাহ গোলাম মওলা বলেন, পায়রা বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মানের ফলে এই দক্ষিনাঞ্চলে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে এ কেন্দ্রটি সব চেয়ে বড় ভূমিকা পালন করবে।
পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন সাংবাদিকদের জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে ইতিমধ্যে আমরা সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি।
পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব অধ্যক্ষ মহিবুবুর রহমান মহিব এমপি সাংবাদিকদের বলেন, দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকা কোনোদিন ভোলার নয়। তাই সফল রাষ্ট্র নায়ক প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার আগমনে কলাপাড়া, রাঙ্গাবলী ও মহিপুরের মানুষ আনন্দিত।
পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন জানান, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও বিদেশি অতিথিসহ প্রায় ৫০০ আমন্ত্রিত অতিথি অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।
পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালক শাহ গোলাম মওলা জানান, ১৩২০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র দক্ষিণাঞ্চলে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবারহে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করবে।
পটুয়াখালী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে সর্বোচ্চ গুরুত্ব সহকারে নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই নিরাপত্তার মধ্যে কোভিড-১৯ প্রটোকলও রয়েছে। ইতিমধ্যে সাদা পোশাকের নিরাপত্তা বাহিনীসহ চার স্তর বিশিষ্ট নিরাপত্তা বাহিনী মাঠে কাজ করছে।
এক হাজার একর জমির ওপর নির্মিত পরিবেশবান্ধব এ বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হলে দেশের বিদ্যুতের ঘাটতি কিছুটা কমে আসবে বলে মনে করছেন বিশিষ্টজনরা। ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে দু’টি ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদনের নির্মাণ কাজ। প্রতিদিন এই কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রয়োজন হবে ১৩ হাজার মেট্রিক টন কয়লা।
নির্মাণ কাজ শুরুর পর থেকে নানা অনাকাঙ্খিত ঘটনার পরও ২০২০ সালের ১৫ মে প্রথম ইউনিটের ৬৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন করে জাতীয় গ্রিডে দিতে সক্ষম হয় বাংলাদেশ চায়না পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (বিসিপিসিএল)।
পরে ওই বছরের ৮ ডিসেম্বর আল্ট্রা সুপার প্রযুক্তি ব্যবহার করে দ্বিতীয় ইউনিটের ৬৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি। কিন্তু গোপালগঞ্জ সাবস্টেশনের ধারণ ক্ষমতা কম থাকায় এবং গোপালগঞ্জ থেকে ঢাকার আমিনবাজার পর্যন্ত সঞ্চালন লাইনের কাজ শেষ না হওয়ায় দ্বিতীয় ইউনিটের ৬৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ এখন পর্যন্ত সরবারহ করতে পারছে না এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি। তবে এ বছরের ডিসেম্বর মাস থেকে পুরো ১৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে দিতে সক্ষম হবে এ পাওয়ার প্ল্যান্টটি।
প্রতিছবি ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
























Comments: