ADS

ADS
হোম / অর্থনীতি / বিস্তারিত
ADS

কৃষকের ৮০ টাকার তরমুজ বাজারে ৬০০

30 April 2021, 7:46:43

পটুয়াখালীতে তীব্র গরম এবং রমজানের কারণে মৌসুমি ফল তরমুজের চাহিদা বেড়েছে কয়েকগুণ। এ সুযোগে দাম বাড়িয়ে দেন ব্যবসায়ীরা। শুরু করেন কেজি দরে তরমুজ বিক্রি। খুচরা বাজারে তরমুজের কেজি ৫০-৬০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যায় মৌসুমি এই ফল।

ক্রেতারা বলছেন, চাহিদা থাকায় সিন্ডিকেট করে তরমুজের দাম বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কৃষকের সঙ্গে কথা বলে তার সত্যতাও মিলেছে।

কৃষকরা বলছেন, ৫০-৬০ টাকা কেজিতে বাজারে যে তরমুজ বিক্রি হচ্ছে তা সর্বোচ্চ ছয়-সাত টাকা কেজি পড়েছে কৃষকের। ১০-১৫ কেজি ওজনের তরমুজের শ আট-নয় হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন তারা। এখন সেসব তরমুজ কেজি হিসাবে ৫৫০-৬০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। কেনা দামের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি মুনাফা করছেন ব্যবসায়ী ও আড়াতদাররা।

পটুয়াখালী শহরের সবুজবাগ এলাকার বাসিন্দা মাওলানা মো. আবুবকর বলেন, এ বছর তরমুজের ফলন ভালো হলেও খুচরা বাজারে দাম অনেক বেশি। বিষয়টি বুঝে আসে না আমাদের। তরমুজ কেন কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে, কারা এটি শুরু করেছে; তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
খুচরা বাজারে তরমুজের কেজি ৫০-৬০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়
তিনি আরও বলেন, কৃষক পিস হিসাবে তরমুজ বিক্রি করেন। বাজারে ৫০-৬০ টাকা কেজিতে তরমুজ বিক্রি করেন ব্যবসায়ীরা। সাধারণ মানুষের পক্ষে তরমুজ কিনে খাওয়া সম্ভব না।

শহরের নিউমার্কেট, পুরান বাজার, হেতালিয়া বাধঘাট, দুই নম্বর বাধঘাট ও নতুন বাজার ঘুরে দেখা যায়, ৫৫-৬০ কেজিতে তরমুজ বিক্রি হচ্ছে। তবে ছোট তরমুজের পিস ১৫০ টাকায় বিক্রি হয়। বড় তরমুজ কেজিতেই কিনতে হয়।

জৈনকাঠি এলাকার তরমুজচাষি ইমাম হোসেন বলেন, শুনেছি তরমুজ কেজিতে বিক্রি হয়। তাই বাজারে দেখতে এলাম। আমরা তো ক্ষেতে শ হিসাবে বিক্রি করেছি তরমুজ। এখন বাজারে এসে দেখি ৫৫-৬০ তরমুজের কেজি। সে হিসাবে আমরা সাত-আট টাকা কেজিতে তরমুজ বিক্রি করেছি। প্রতিবারই আমাদের ঠকান ব্যবসায়ী ও আড়াতদাররা।
শহরের নিউমার্কেট এলাকার তরমুজ বিক্রেতা মো. আবু হানিফ বলেন, আড়ৎ থেকে শ হিসাবে তরমুজ কিনি। কিন্তু পিস হিসাবে বিক্রি করলে লাভ হয় না। কেজি দরে বিক্রি করলে লাভ হয়।

তিনি বলেন, কেজি হিসাবে আমি তো একা তরমুজ বিক্রি করি না। সবাই কেজি দরে বিক্রি করে। তাই আমিও করি। সবাই যদি পিস হিসাবে বিক্রি করে আমিও করব।

শহরের নিউমার্কেট এলাকার তরমুজের আড়তদার অমল দত্ত বলেন, পাইকারি বাজারে তরমুজ শ হিসাবে বিক্রি হয়। এখানে কেজিতে বিক্রি হয় না। খুচরা ব্যবসায়ীরা বিক্রি করেন।

তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে কেজি দরে তরমুজ বিক্রি করেন ব্যবসায়ীরা। পটুয়াখালীতেও কেজি দরে বিক্রি হয়। সরকার যদি পিস হিসাবে বিক্রি করতে বলে তাই করবেন ব্যবসায়ীরা।
দাম বাড়ায় মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যায় মৌসুমি এই ফল
রাঙ্গাবালী উপজেলার তরমুজচাষি গোলাম মোস্তফা বলেন, এবার তরমুজের ফলন ভালো হয়েছে। ভালো দাম পেয়েছি। কিন্তু বাজারে তরমুজের যে দাম, তার ১০ ভাগের এক ভাগও পাইনি আমরা।

রাঙ্গাবালীর জাহাজমারা এলাকার তরমুজচাষি মো. মতিউর বলেন, এবার ফলন ভালো হয়েছে। তরমুজ দ্রুত বিক্রি করতে পেরেছি। শ হিসাবে বিক্রি করেছি। ৮-৯ হাজার টাকা শ পেয়েছি।
জেলা জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক সেলিম মিয়া বলেন, তরমুজ কেজিতে বিক্রি হচ্ছে এমন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পটুয়াখালী কৃষি বিপণন অধিদফতরের বিপণন কর্মকর্তা মো. কামিরুল ইসলাম বলেন, পটুয়াখালীর বাজারে তরমুজের দাম অনেক বেড়েছে। তরমুজের মৌসুম শেষের দিকে। বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত বাজার মনিটরিং করছি। এরপরও যদি বাজারে কোনো কারসাজি দেখা যায়; তবে অধিদফতরের মাধ্যমে আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নেব।

ADS ADS

প্রতিছবি ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Comments: