পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে বিশেষ উদ্যোগ
পর্যাপ্ত আমদানি ও চাহিদা অনুসারে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ঠিক থাকলেও ভারতের রপ্তানি বন্ধের অজুহাতে অসাধু ব্যবসায়ীরা প্রতি বছর পেঁয়াজ নিয়ে কারসাজি করে আসছেন। অতি মুনাফা করতে গত বছর পণ্যটির দাম প্রতি কেজি ১৩০ ও এর আগের বছর সর্বোচ্চ ৩০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। ওই সময় অসাধুরা ভোক্তার পকেট থেকে হাতিয়ে নেন হাজার কোটি টাকা। বাজার দেখভালের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলছেন- এবার আর সেই সুযোগ দেওয়া হবে না। দাম নিয়ন্ত্রণে তদারকির পাশাপাশি মজুত গড়ে তোলা হচ্ছে।
পাশাপাশি ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) মাধ্যমে পেঁয়াজ ভর্তুকিমূল্যে বাজারে ছাড়া হবে। এ সময় কোনো ধরনের কারসাজি হলে কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হবে। দরকার হলে ব্যবসায়ী লাইসেন্স বাতিল, প্রতিষ্ঠান সিলগালা এমনকি দোষীদের জেলে পাঠানো হবে।
টিসিবি সূত্র বৃহস্পতিবার জানায়, গত দুই বছরের অভিজ্ঞতা বলছে প্রতি বছর সেপ্টেম্বর মাস এলেই পেঁয়াজের দাম অস্বাভাবিক বাড়ে। এতে ভোক্তাসাধারণ বিপদে পড়েন। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ক্ষোভ-বিক্ষোভ সামাল দিতে নাজেহাল পরিস্থিতিতে পড়তে হয়। যে কারণে এবার আগেভাগেই প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। গত কয়েক বছরের তুলনায় মজুত গড়ে তোলা হচ্ছে। এরই মধ্যে টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ করা হচ্ছে। ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি শুরু হয়েছে। আবার কিছু স্থানীয় বাজার থেকেও সংগ্রহ করা হচ্ছে। এসব পেঁয়াজ বিভিন্ন গুদামে পৌঁছাতে শুরু করেছে। তবে গত কয়েকবারের তুলনায় এবার নির্দিষ্ট পরিমাণ নয়, বরং ভোক্তার প্রয়োজন মতো টিসিবি থেকে ভর্তুকিমূল্যে পেঁয়াজ কিনতে পারবেন। যত দিন প্রয়োজন হবে এভাবে তত দিনই বিক্রয় করা হবে। আমদানি চুক্তিও সেভাবেই করা হয়েছে। প্রয়োজনে দুই থেকে তিন মাস পেঁয়াজ বিক্রয় করা হবে। প্রাথমিকভাবে তিন হাজার টনের আমদানি আদেশ দেওয়া হয়েছে। ১৫ দিন পরপর আমদানির আদেশ দেওয়া হবে।
জানতে চাইলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন টিসিবির তথ্য কর্মকর্তা ও ঢাকা আঞ্চলিক কার্যালয়ের প্রধান হুমায়ুন কবির যুগান্তরকে বলেন, এবার পেঁয়াজ বিক্রয়ের কোনো নির্দিষ্ট পরিমাণ ধরা হয়নি। ভোক্তা যত পরিমাণে চাইবে, টিসিবির ডিলাররা তত পরিমাণ বিক্রি করবেন; যাতে বাজারে চাপ কম পড়ে। আর যত দিন ভোক্তার চাহিদা থাকবে তত দিন টিসিবি ভর্তুকিমূল্যে বিক্রি করবে। এতে অসাধুরা পণ্যটি নিয়ে কারসাজি করার সুযোগ পাবে না। তিনি জানান, টিসিবির পক্ষ থেকে ক্রয়াদেশ দেওয়া হয়েছে। সরবরাহকারীদের কাছ থেকে প্রতি ১৫ দিন পরপর পেঁয়াজ আনা হবে। প্রয়োজনমতো যেকোনো পরিমাণ পেঁয়াজ তারা সরবরাহ করবে।
রাজধানীর খুচরা বাজার ঘুরে ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪০-৪২ টাকা, যা এক সপ্তাহ আগে ৪২-৪৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এ ছাড়া এক মাস আগে বিক্রি হয়েছে ৪৫-৫০ টাকা। পাশাপাশি প্রতি কেজি আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৩৮-৪০ টাকা, যা সাত দিন আগে ৪০-৪৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। আর এক মাস আগে একই দামে বিক্রি হয়েছে।
রাজধানীর সর্ববৃহৎ পাইকারি বাজার শ্যামবাজারের পেঁয়াজ আমদানিকারক ও পাইকারি বিক্রেতা সংকর চন্দ্র ঘোষ যুগান্তরকে বলেন, গত বছরের তুলনায় বাজারে পেঁয়াজের পর্যপ্ত সরবরাহ আছে। বেসরকারির পাশাপাশি সরকারি পর্যায়ে পেঁয়াজের বিপুল পরিমাণে মজুত গড়ে তোলা হচ্ছে। এতে দামও কমছে। যেখানে গত বছর একই সময় পেঁয়াজের দাম বাড়ছিল, এবার সে চিত্র নেই। তাই বলা যায় এ বছর পেঁয়জের দাম ক্রেতার ক্রয়ক্ষমতায় থাকবে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাজার তদারকি সংস্থা জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার যুগান্তরকে বলেন, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ও অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের দিকনির্দেশনায় আমরা এ বছর আগেভাবে পেঁয়াজের বাজার পর্যালোচনা করছি। মোকাম থেকে শুরু করে পাইকারি ও খুচরা বাজারে তদারকি জোরদার করেছি। কোন মূল্যে আমদানি বা কৃষক পর্যায় থেকে কেনা হচ্ছে তা পাইকারি বিক্রেতাদের কাছে কত টাকায় বিক্রি হচ্ছে তদারকি করছি। পাশাপাশি পাইকারি বিক্রেতারা খুচরা বিক্রেতাদের কাছে কত টাকায় বিক্রি করছে তা মনিটরিং করছি। এ ছাড়া খুচরা বিক্রেতারা ভোক্তার কাছে কত টাকায় ছাড়ছে তা দেখছি। এ ছাড়া ক্রয় বিক্রয়ের রসিদ আমরা বিশেষভাবে নজরদারি করছি। কোনো ধরনের অনিয়ম পেলে আইনের সহায়তা নিচ্ছি। এ বছর পেঁয়াজ নিয়ে কেউ কারসাজি করলে কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হবে। দরকার হলে ব্যবসায়ী লাইসেন্স বাতিল, প্রতিষ্ঠান সিলগালা এমনকি দোষীদের জেলে পাঠানো হবে।
প্রতিছবি ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
























Comments: