- আইইডিসিআর পরিচালকের ওপর হামলা ঘটনায় জামায়াতের নিন্দা
- ঘূর্ণিঝড় অর্ণবে অন্ধপ্রদেশে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, নিহত ২
- বাংলাদেশের পাঁচ খাতে বিনিয়োগে জাপানি কোম্পানিগুলোকে আহ্বান তারেক রহমানের
- মাদরাসায় বেশি জিপিএ-৫, এবার স্কুলের সঙ্গে একই প্রশ্নে পরীক্ষা: শিক্ষামন্ত্রী
- পেটের চর্বি কি পুরুষের যৌনক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে?
- ব্যালন ডি’অরে কে কোন পুরস্কার জিতলেন, জেনে নিন
- ৭ নভেম্বর দেশের সব ব্যাংক বন্ধ থাকবে
- অনলাইন গেমের নেশা মানসিক অসুখ, মুক্তির উপায়
- খেজুরের বিস্ময়কর গুণ
- আগামী বছর থেকে স্কুলে জাপানিসহ কয়েকটি বিদেশি ভাষা চালুর পরিকল্পনা: প্রধানমন্ত্রী
চট্টগ্রামে চাঁদা না পেয়ে দোকান লুট যুবলীগ কর্মীর
চট্টগ্রামে চাঁদা না পেয়ে দিনদুপুরে এক ব্যবসায়ীর প্রতিষ্ঠান লুট করেছেন আবু সুফিয়ান নামে এক যুবলীগ কর্মী। কেবল তাই নয়, ওই ব্যবসায়ীকে মেরে রক্তাক্ত করা হয়েছে। বাবাকে রক্ষা করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন ওই ব্যবসায়ীর ছেলেও। শুক্রবার বিকালে নগরীর আকবরশাহ থানার পাঞ্জাবি লেইন কালীমন্দিরসংলগ্ন লাকী এন্টারপ্রইজ নামক দোকানে এ ঘটনা ঘটে। তবে ঘটনার পাঁচ দিনেও থানায় মামলা নেয়নি পুলিশ। অভিযোগ উঠেছে, মোটা অঙ্কের আর্থিক লেনদেন হওয়ায় সাধারণ ডায়রি (জিডি) করে দায় সারতে চাইছে পুলিশ।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত দুই যুগ ধরে পাঞ্জাবি লেইন এলাকায় তামা-পিতল ও জাহাজের ইলেকট্রিক সামগ্রী বিক্রি করে আসছেন ব্যবসায়ী আবুল কালাম। লাকী এন্টারপ্রাইজ নামক দোকানটিতে আবুল কালামের ছোট ভাই মো. ইয়াছিন বসতেন। ১৩ জুলাই ইয়াছিন ওমান চলে যাওয়ায় আবুল কালাম ও তার ছেলে দোকানে বসতেন। শুক্রবার স্থানীয় যুবলীগ কর্মী মো. আবু সুফিয়ানের নেতৃত্বে ৩০-৩৫ জনের একটি দল দোকানের তালা ভেঙে মালামাল লুট করেন। খবর পেয়ে আবুল কালাম দোকানে উপস্থিত হওয়ার পর তাকে মারধর করেন সুফিয়ান ও লোকজন। এ সময় বাবাকে বাঁচাতে গিয়ে হামলার শিকার হন ছেলে মো. কাউছার।
লাকী এন্টাইপ্রাইজের আশপাশের কয়েকজন দোকানি বলেন, আবুল কালাম আমাদের এখানকার সবচেয়ে পুরাতন ব্যবসায়ী। অথচ দিনদুপুরে তার দোকান ভেঙে মালামাল নিয়ে গেছে সুফিয়ানের লোকজন। বাধা দেওয়ায় বাবা-ছেলেও মারধরের শিকার হয়েছেন। মূলত পদ-পদবি না থাকলেও সুফিয়ান এলাকায় যুবলীগ নেতা হিসাবে পরিচিত। এ কারণে সবাই মুখ খুলতে ভয় পাচ্ছেন।
উত্তর পাহাড়তলী ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক সৈয়দ সরোয়ার মোর্শেদ কচি বলেন, ‘গত এক বছর আগে কালামের দোকান নিজের বলে দাবি করে আবু সুফিয়ান। বিষয়টি নিয়ে বেশ কয়েকবার বৈঠকও করেছিলাম। কিন্তু আবু সুফিয়ানকে কাগজপত্র দেখানোর জন্য বলার পর এ নিয়ে আর কথা হয়নি। সর্বশেষ শুক্রবার দোকানের তালা ভেঙে মালামাল নিয়ে যাচ্ছে বলে কালাম আমাকে জানিয়েছিল। তার ঘণ্টাখানেক পর তাকে এবং তার ছেলেকে মারধর করা হয়েছে।’
ভুক্তভোগী আবুল কালাম বলেন, ‘গত এক বছর আগে যুবলীগ নেতা আবু সুফিয়ান আমার কাছে চাঁদা দাবি করেছিল। আমি দিতে রাজি হইনি। এরপর তিনি আমার দোকানের মালিক দাবি করা শুরু করেন। চাঁদা দাবি ও জানে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়ায় ওই সময় তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছিলাম। এর জের ধরে শুক্রবার আমার দোকান লুট করে পাঁচ লাখ ৮০ হাজার টাকার মালামাল নিয়ে যায় সুফিয়ান ও তার লোকজন। আমাকে মেরে রক্তাক্ত করেছে। আমার ছেলেকে মেরেছে। অথচ থানায় যাওয়ার পর কেবল জিডি নেয়া হয়েছে।’
যুবলীগ কর্মী মো. আবু সুফিয়ান বলেন, ‘আবুল কালাম জোর করে আমার দোকান তার দখলে রেখেছিল। শুক্রবার সেটি আমি উদ্ধার করেছি। ওই সময় একটি জেনারেটরের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে তার নাক ফেটে রক্ত বের হয়েছে। তাকে বা তার ছেলেকে কেউ মারধর করেনি। এছাড়া দোকানে কোনো মালামাল ছিল না। কিছু রেক ছিল, সেগুলো দোকানের বাইরে রেখে দেওয়া হয়েছে।’
আকবরশাহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়ালী উদ্দিন আকবর যুগান্তরকে বলেন, ‘পাঞ্জাবি লেইন এলাকায় একটি প্রতিষ্ঠান নিয়ে মারধরের ঘটনায় থানায় জিডি করা হয়েছে। তদন্তে ভিন্ন কিছু পাওয়া গেলে পরবর্তীকালে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
প্রতিছবি ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
























Comments: