ইন্টারনেট
সর্বশেষ
হোম / স্বাস্থ্য / বিস্তারিত
ADS

দেশে প্রায় এক কোটি মানুষ ভাইরাল হেপাটাইটিসে আক্রান্ত, লিভারকে সুরক্ষিত রাখবেন যেভাবে

28 July 2026, 5:47:24

বাংলাদেশে প্রায় এক কোটি মানুষ ভাইরাল হেপাটাইটিস বি ও সি-তে আক্রান্ত। দেশে হেপাটাইটিসে প্রতি বছর মারা যায় ২০ হাজার মানুষ। হেপাটাইটিসজনিত মৃত্যুর ঝুঁকিতে থাকা বিশ্বের শীর্ষ ১০ দেশের একটি বাংলাদেশ। লিভার সিরোসিস ও লিভার ক্যানসারের প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশের জন্য দায়ী হেপাটাইটিস বি ভাইরাস। এমন পরিস্থিতিতে ২০৩০ সালের মধ্যে ভাইরাল হেপাটাইটিস নির্মূলের বৈশ্বিক লক্ষ্য অর্জনে জাতীয় পরিচয়পত্রভিত্তিক সর্বজনীন স্ক্রিনিং, টিকাদান এবং আধুনিক চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

আজ মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস। এবারের বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবসের প্রতিপাদ্য ‘হেপাটাইটিস: লেটস ব্রেক ইট ডাউন’। এর মূল লক্ষ্য হেপাটাইটিস প্রতিরোধ, পরীক্ষা ও চিকিৎসার পথে থাকা ভুল ধারণা, সামাজিক কুসংস্কার, ভয় এবং স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণে প্রতিবন্ধকতা দূর করা।

বিশ্বজুড়ে প্রতিদিন হেপাটাইটিস বি ও সি ভাইরাসে নতুন করে আক্রান্ত হচ্ছেন ৪ হাজার ৯০০ জনের বেশি মানুষ। বছরে এ সংখ্যা প্রায় ১৮ লাখ। ২০২৪ সালে এই দুই ভাইরাসে প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় ১৩ লাখ ৪০ হাজার মানুষ।

তবে ২০১৫ সালের পর থেকে হেপাটাইটিস বি-এর নতুন সংক্রমণ ৩২ শতাংশ এবং হেপাটাইটিসজনিত মৃত্যু ১২ শতাংশ কমেছে। পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে হেপাটাইটিস বি সংক্রমণের হার নেমে এসেছে ০.৬ শতাংশে। বিশ্বের ৮৫টি দেশ ইতোমধ্যে ২০৩০ সালের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করেছে বা অতিক্রম করেছে। কিন্তু বর্তমান অগ্রগতির ধারা অব্যাহত থাকলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিশ্বব্যাপী হেপাটাইটিস নির্মূল সম্ভব হবে না বলে সতর্ক করেছে ডব্লিউএইচও।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হেপাটাইটিস এ ও ই মূলত দূষিত পানি ও খাবারের মাধ্যমে ছড়ায়। অন্যদিকে হেপাটাইটিস বি ও সি সংক্রমিত রক্ত, দেহজ তরল, অসুরক্ষিত যৌন সম্পর্ক, একই সূঁচ বা সিরিঞ্জ ব্যবহার এবং আক্রান্ত মা থেকে নবজাতকের শরীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এছাড়া ট্যাটু, বডি পিয়ার্সিং, একই ক্ষুর বা টুথব্রাশ ব্যবহারের মাধ্যমেও সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে।

তবে হেপাটাইটিস বি সম্পর্কে সমাজে এখনো নানা ভুল ধারণা রয়েছে। অনেকেই মনে করেন একসঙ্গে খাওয়া, হাত মেলানো বা আলিঙ্গনের মাধ্যমে এ রোগ ছড়ায়। বাস্তবে এসবের মাধ্যমে ভাইরাস সংক্রমিত হয় না। তাই আক্রান্ত ব্যক্তিকে সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন না করে চিকিৎসা ও মানসিক সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

হেপাটাইটিসের অনেক ক্ষেত্রেই শুরুতে কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। তবে সংক্রমণ তীব্র হলে জ্বর, ক্লান্তি, ক্ষুধামন্দা, বমি বমি ভাব, পেটব্যথা, গাঢ় রঙের প্রস্রাব, ফ্যাকাশে মল এবং জন্ডিস দেখা দিতে পারে।

দীর্ঘমেয়াদি বা ক্রনিক হেপাটাইটিস অনেক সময় নীরবে লিভারের ক্ষতি করে। পরবর্তী সময়ে লিভার সিরোসিস, লিভার ক্যানসার, পা ফুলে যাওয়া, রক্তক্ষরণ এবং গুরুতর ক্ষেত্রে লিভার বিকল হওয়ার মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা লিভার সুস্থ রাখতে কয়েকটি বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছেন—

বিশুদ্ধ ও নিরাপদ পানি পান করা।
দূষিত বা রাস্তার খোলা খাবার এড়িয়ে চলা।
টয়লেট ব্যবহারের পর ও খাবারের আগে সাবান দিয়ে হাত ধোয়া।
হেপাটাইটিস এ ও বি-এর টিকা গ্রহণ করা।
নিরাপদ যৌন আচরণ অনুসরণ এবং কনডম ব্যবহার করা।
ব্যবহৃত সূঁচ, সিরিঞ্জ, রেজার, টুথব্রাশ বা নখ কাটার সরঞ্জাম অন্যের সঙ্গে ভাগাভাগি না করা।
রক্ত নেওয়ার আগে রক্ত পরীক্ষা নিশ্চিত করা।
গর্ভাবস্থায় হেপাটাইটিস বি ও সি পরীক্ষা করা।
অপ্রয়োজনীয় ওষুধ ও অ্যালকোহল পরিহার করা।
ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের নিয়মিত স্ক্রিনিং করানো।
হেপাটাইটিস এ-এর নির্দিষ্ট কোনো ওষুধ নেই। অধিকাংশ রোগী পর্যাপ্ত বিশ্রাম, পুষ্টিকর খাবার এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চললে কয়েক মাসের মধ্যেই সুস্থ হয়ে ওঠেন।

অন্যদিকে, ক্রনিক হেপাটাইটিস বি-এর ক্ষেত্রে রোগের সক্রিয়তা অনুযায়ী অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ দেওয়া হয়। হেপাটাইটিস সি-এর জন্য বর্তমানে অত্যন্ত কার্যকর ডাইরেক্ট অ্যাক্টিং অ্যান্টিভাইরাল (ডিএএ) ওষুধ রয়েছে, যা অধিকাংশ রোগীর ক্ষেত্রে ভাইরাস নির্মূলে সফল।

তবে গুরুতর লিভার বিকল বা শেষ পর্যায়ের লিভার রোগে আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে লিভার প্রতিস্থাপন প্রয়োজন হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আক্রান্তদের দ্রুত শনাক্তকরণ, জন্মের পরপরই হেপাটাইটিস বি টিকার সর্বজনীন প্রয়োগ, আধুনিক চিকিৎসা সহজলভ্য করা এবং জনসচেতনতা বাড়ানো গেলে বাংলাদেশও ভবিষ্যতে হেপাটাইটিসজনিত উচ্চঝুঁকির দেশের তালিকা থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে।

ADS ADS

প্রতিছবি ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Comments: