ইন্টারনেট
হোম / আন্তর্জাতিক / বিস্তারিত
ADS

খামেনেয়ির ‘মাস্টারপ্ল্যান’: থমকে যাবে না ইরান

24 February 2026, 2:35:21

ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলা এবং শীর্ষ নেতাদের গুপ্তহত্যার আশঙ্কার মধ্যে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশেষ পরিকল্পনা নিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেয়ি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম The New York Times–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খামেনেয়ির অবর্তমানে বা দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব অক্ষম হয়ে পড়লে রাষ্ট্রের প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে জাতীয় নিরাপত্তাপ্রধান আলী লারিজানি–কে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

Middle East Eye–এর প্রতিবেদনে জানানো হয়, সর্বোচ্চ নেতা বা শীর্ষ নেতৃত্ব নিহত বা দায়িত্ব পালনে অক্ষম হলে দেশ পরিচালনার পূর্ণ দায়িত্ব পালন করবেন জাতীয় নিরাপত্তাপ্রধান। সিদ্ধান্তটি খামেনেয়ি নিজেই অনুমোদন করেছেন বলে জানা গেছে।

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং সম্ভাব্য হামলার হুমকির মুখে তেহরানের এই আগাম প্রস্তুতি রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে হাসান নাসরাল্লাহ এবং ইসমাইল হানিয়াহ–এর মতো মিত্র নেতাদের গুপ্তহত্যার ঘটনার পর ইরান নিজেদের শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নেতৃত্বের শূন্যতা এড়াতে বিশেষ ক্ষমতা কাঠামো প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, খামেনেয়ির নির্দেশনায় সামরিক ও সরকারি গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোর জন্য চার স্তরের উত্তরাধিকার পরিকল্পনা করা হয়েছে। অর্থাৎ কোনো কর্মকর্তা নিহত হলে পর্যায়ক্রমে কারা দায়িত্ব নেবেন, তা আগেই নির্ধারণ করা হয়েছে। উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদেরও নিজেদের সম্ভাব্য চারজন উত্তরসূরির নাম ঠিক করে রাখতে বলা হয়েছে।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, লারিজানি সর্বোচ্চ নেতা হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে নেই। কারণ, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হতে জ্যেষ্ঠ শিয়া আলেম হওয়া বাধ্যতামূলক। তবু শীর্ষ নেতৃত্ব নিশ্চিহ্ন হয়ে গেলে রাষ্ট্র পরিচালনায় তিনি অন্যতম সম্ভাব্য ব্যক্তি হিসেবে বিবেচিত হতে পারেন।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র–ইরান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে খামেনেয়ির পদক্ষেপ ঘিরে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে। চলতি সপ্তাহে কূটনৈতিক আলোচনা চললেও উত্তেজনা কমেনি। সম্প্রতি খামেনেয়ি সতর্ক করে বলেছেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে ‘ধ্বংস’ করা সম্ভব নয়।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে হামলার হুমকি দিলেও যুক্তরাষ্ট্রের চূড়ান্ত লক্ষ্য স্পষ্ট করেননি। মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত যুদ্ধজাহাজ ও যুদ্ধবিমান মোতায়েনের পাশাপাশি তিনি কূটনৈতিক সমঝোতার কথাও বলেছেন। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এবং আঞ্চলিক প্রভাবকে ঘিরে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে।

বার্তাসংস্থা AFP জানিয়েছে, সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে—যুক্তরাষ্ট্র কি ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর ওপর সীমিত আঘাত হানতে চায়, নাকি ইসরায়েলের প্রত্যাশা অনুযায়ী ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ধ্বংস করতে চায়, কিংবা সরকার পরিবর্তনের চেষ্টা করবে?

অন্যদিকে ইরান আগেই সতর্ক করে দিয়েছে, হামলা হলে কঠোর প্রতিশোধ নেওয়া হবে। ফলে কূটনৈতিক আলোচনা চললেও সামরিক উত্তেজনা যে কোনো সময় বড় আকার নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ADS ADS

প্রতিছবি ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Comments: