Monday 25 May, 2026

For Advertisement

যেভাবে শ্যুটার আকাশকে গ্রেপ্তার করে বগুড়া পুলিশ

28 March, 2022 6:38:20

ঢাকায় শাহজাহানপুরে আওয়ামী লীগ নেতা জাহিদুল ইসলাম টিপু এবং কলেজ শিক্ষার্থী সামিয়া আফরান প্রীতিকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় আসামি শ্যুটার মাসুম ওরফে আকাশকে গ্রেপ্তার করেছে বগুড়া জেলা পুলিশের একটি দল।

শনিবার সকালে বগুড়ার একটি হোটেল থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আকাশ শহরের চারমাথা এলাকার খাজা হাইওয়ে মোটেল নামে একটি আবাসিক হোটেলের ৬ নম্বর কক্ষে রাজন নামের তার এক বন্ধু মাধ্যমে নাম পরিচয় এন্ট্রি না করেই রাতযাপন করছিলেন। সোমবার ৯টায় তার রুম ছেড়ে চলে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এর আগে সকাল সোয়া ৭টায় হোটেলে অভিযান চালিয়ে তাকে বগুড়ার পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।

আকাশকে গ্রেপ্তার অভিযানে অংশ নেওয়া বগুড়া সদর ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এস্আই) খোরশেদ আলম জানান, ঘটনার পরেই আকাশ গত ২৫ মার্চ মামুন পরিচয়ে বগুড়ার চারমাথা এলাকার খাজা হাইওয়ে মোটেল নামের একটি বোর্ডিংয়ে ওঠেন। ২৬ তারিখ সকালে ঢাকার ডিবি পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আকাশের অবস্থান বগুড়ার সাতমাথা এলাকায় ‘খাঁজা’ নামক স্থানে বলে জানান। পরে চারমাথা এলাকার খাজা বোর্ডিংয়ের বিষয়টি নিশ্চিত হন তিনি। এরপর তিনি প্রথমে একা বাইক নিয়ে সেই খাজা বোর্ডিংয়ে যান। সেখানের ম্যানেজারের কাছে জানতে চাই, ঢাকা থেকে আসা আকাশ নামের কোনো গেস্ট আছে কিনা। ম্যানেজার বলেন, ঢাকা থেকে একজন গেস্ট গত ২৫ তারিখ রাত থেকে ৬ নং রুমে আছেন। তবে, তার নাম মামুন। এরপর আমার সন্দেহ মোটামুটি পরিষ্কার হয় এবং সদর থানা থেকে ৮ জনের একটি টিম ডেকে নেই। সেই অভিযানে অংশ নেন বগুড়া সদর পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক তাজমিলুর রহমান এবং উপশহর পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক জিল্লুর রহমান।

এসআই খোরশেদ আলম আরো বলেন, সকাল ৭টায় হোটেলের সব রুম বাইরে থেকে লক করা হয়। এরপর প্রতি রুমে তল্লাশি চালানো হয়। ৬ নম্বর রুমের ঢাকার সেই গেস্টর ছবির সঙ্গে শ্যুটার মাসুম ওরফে আকাশের ছবি মিলে গেলে মোবাইলে তার ছবি তুলে ডিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়। পরে সেই ডিবি কর্মকর্তা নিশ্চিত করেন, ছবিটি শ্যুটার আকাশের। শ্যুটার আকাশকে ধরার পর তার সঙ্গে কোনো অস্ত্র আছে কিনা জানতে রুমে তল্লাশি চালানো হয়। কিন্তু, কোথাও কোনো অস্ত্র পাওয়া যায়নি। পরে তাকে সদর পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে আসা হয়। এরপর দুপুর ২টায় ঢাকা থেকে ডিবি পুলিশের একটি দল বগুড়া এসে শ্যুটারকে নিয়ে যায়।

আকাশকে গ্রেপ্তার অভিযানে নেতৃত্বে থাকা সদর ফাঁড়ির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক তাজমিলুর রহমান বলেন, গ্রেপ্তারের পর তিনি নিজে থেকেই জোড়া খুনের বর্ণনা দেন। ঢাকায় জোড়া খুনের সঙ্গে তিনি সরাসরি জড়িত। ঘটনার সময় মাসুম একাই এলোপাতাড়ি ১২ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এরপর সেখানে থেকে অস্ত্রটি ঢাকাতেই লুকিয়ে রাখে এবং তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি ভেঙে হাতিরঝিলে ফেলে দেয়। ঢাকা থেকে পালিয়ে হিলি অথবা জয়পুরহাট জেলার কোন সীমান্ত দিয়ে চোরাপথে ভারতে গিয়ে আশ্রয় নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল মাসুমের। এজন্য তিনি বগুড়ায় আসেন। আকাশ এর আগেও ঢাকাতে একজনকে গুলি করে হত্যা করে বলে পুলিশকে জানায়। এছাড়াও তার নামে ঢাকার বিভিন্ন থানায় ৫টি চাঁদাবাজি মামলা রয়েছে। জোড়া খুনের পর ওই রাতেই তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ভেঙে সিমকার্ডসহ হাতিরঝিলে ফেলে দেয়। পরদিন তিনটি নতুন মোবাই ফোন সেট কিনেন এবং ৩টি সিম কার্ড সংগ্রহ করেন। যার একটি নাম্বার মাসুম ব্যবহার শুরু করেন। শুক্রবার ঢাকাতেই পালিয়ে থাকার পর শনিবার সন্ধ্যায় একটি বাস যোগে বগুড়ার উদ্দেশে রওনা দেন। বগুড়া পৌঁছার আগেই রাত সাড়ে ১০টার দিকে তিনি মোবাইল ফোনে তার মায়ের সঙ্গে কথা বলেন। এরপর মাসুম মোবাইল ফোনে কারো সাথে যোগাযোগ করেননি। চাঁদপুর জেলার মতলব উপজেলার কাইশকানির গ্রামের মোবারক হোসেনের ছেলে মাসুম ওরফে আকাশ স্ত্রী ও এক সন্তান নিয়ে ঢাকার ৬০/১৫ পশ্চিম মাদারটেক এলাকায় বসবাস করতেন।

বগুড়া সদর থানার অ‌ফিসার ইনচার্জ (ওসি)সেলিম রেজা জানান, শুটার আকাশকে ধরার মূল অভিযান পরিচালনা করে ঢাকার ডিবি পুলিশ। তাদের দেওয়া তথ্যেই আকাশকে গ্রেপ্তার করা হয়। আকাশকে গ্রেপ্তারে ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক তাজমিলুর রহমান, সদর ফাঁড়ির উপপরিদর্শক খোরশেদ আলম এবং উপশহর ফাঁড়ির পুলিশ পরিদর্শক জিল্লুর রহমানকে পাঠানো হয়।

For Advertisement

সম্পাদক ও প্রকাশক:- এ এফ এম রিজাউর রহমান (রুমেল), এডভোকেট- বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট
  • সহযোগী-সম্পাদক: হাসিনা রহমান শিপন
  • সহ -সম্পাদক: রাশিকুর রহমান রিফাত
  • নিউজ রুম ইনচার্জ : তাসফিয়া রহমান সিনথিয়া
© সকল স্বত্ব প্রতিচ্ছবি ডটকম ২০১৫ - ২০২২ অফিস: ৭২/২ উত্তর মুগদাপাড়া, ঢাকা ই-মেইল: dailyprotichhobi@gmail.com | মোবাইল: ০১৮১৮০৯৩১৩৭ ফোন:+৮৮০২৭২৭৭১৪৭

Developed by WebsXplore