For Advertisement
নামাজে কিবলামুখী হওয়ার বিধান ও সীমা কতটুকু?
নামাজ শুদ্ধ হওয়ার জন্য অন্যতম প্রধান শর্ত হলো ‘ইস্তিকবালে কিবলা’ বা কিবলামুখী হওয়া। তবে অপরিচিত বা নতুন কোনো স্থানে গেলে অনেকের মনেই সংশয় জাগে যে তিনি পুরোপুরি নির্ভুলভাবে কিবলামুখী হতে পেরেছেন কি না, কিংবা সামান্য এদিক-সেদিক হলে নামাজ আদায় হবে কি না। ইসলামি শরিয়তে মানুষের অবস্থান ও সক্ষমতা বিবেচনা করে কিবলামুখী হওয়ার ক্ষেত্রে একটি সুনির্দিষ্ট ও বাস্তবসম্মত দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা সার্বজনীনভাবে কিবলামুখী হওয়ার নির্দেশ দিয়ে ইরশাদ করেছেন—
فَوَلِّ وَجْهَكَ شَطْرَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ ۚ وَحَيْثُ مَا كُنتُمْ فَوَلُّوا وُجُوهَكُمْ شَطْرَهُ
‘অতএব আপনি আপনার মুখ মসজিদুল হারামের (কাবার) দিকে ফেরান। আর তোমরা যেখানেই থাকো না কেন, তোমাদের মুখমণ্ডল তারই দিকে ফেরাও।’ (সুরা আল-বাকারা: আয়াত ১৪৪)
কিবলামুখী হওয়ার দুটি মৌলিক পদ্ধতি
আইনুল কাবা: কাবার সামনে অবস্থানকারীদের জন্য— যারা সরাসরি পবিত্র কাবা দেখতে পাচ্ছেন (যেমন মসজিদুল হারামে অবস্থানরত মুসল্লিগণ), তাদের জন্য সরাসরি মূল কাবা শরিফের কাঠামো বরাবর মুখ করে দাঁড়ানো আবশ্যক।
জিহাতুল কাবা: দূরবর্তী স্থানের অবস্থানকারীদের জন্য— যারা কাবা শরিফ থেকে দূরে অবস্থান করছেন এবং কাবা সরাসরি দেখতে পান না, তাদের জন্য হুবহু ইঞ্চি বা ডিগ্রি মেপে কাবার ঠিক কাঠামো বরাবর দাঁড়ানো বাধ্যতামূলক নয়; বরং কাবার আনুমানিক দিক বা প্রান্ত বরাবর দাঁড়ানোই যথেষ্ট।
হাদিস শরিফে রাসুলুল্লাহ (সা.) মদিনাবাসীদের দিকনির্দেশনা দিতে গিয়ে উল্লেখ করেছেন, আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি (সা.) বলেছেন—
مَا بَيْنَ المَشْرِقِ وَالمَغْرِبِ قِبْلَةٌ
‘পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যবর্তী অংশই কিবলা।’ (তিরমিজি ৩৪২)
কিবলার দিক থেকে কতটুকু বিচ্যুতি গ্রহণযোগ্য?
নামাজে যথাসম্ভব সঠিক কিবলামুখী হওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে। ইচ্ছাকৃতভাবে ডানে বা বাঁয়ে মুখ বা সিনা ঘোরানো জায়েজ নয়। তবে অনিচ্ছাকৃত ভুল, সঠিক দিক নির্ণয়ে জটিলতা বা অনুমানের কারণে যদি মূল কিবলার দিক থেকে ডানে বা বাঁয়ে সর্বোচ্চ ৪৫ ডিগ্রি পর্যন্ত বিচ্যুতি ঘটে, তবে নামাজ শুদ্ধ হয়ে যাবে। কিন্তু সিনা (বুক) যদি ৪৫ ডিগ্রির বেশি ঘুরে যায়, তবে নামাজ নষ্ট হয়ে যাবে এবং তা পুনরায় আদায় করতে হবে।
যেমন— কোনো এলাকার কিবলার দিক যদি ২৭৭ ডিগ্রিতে হয় তাহলে এর থেকে উত্তরে ২৭৭+৪৫=৩২২ ডিগ্রি পর্যন্ত সিনা ঘুরে গেলেও নামাজ হয়ে যাবে। এর চেয়ে বেশি ঘুরলে নামাজ শুদ্ধ হবে না। তেমনি এর থেকে দক্ষিণে ২৭৭-৪৫=২৩২ ডিগ্রি পর্যন্ত ঘুরে গেলেও নামাজ শুদ্ধ হয়ে যাবে। এর চেয়ে বেশি দক্ষিণে ঘুরলে নামাজ শুদ্ধ হবে না।
ইসলাম মানুষকে সাধ্যের অতিরিক্ত বোঝা চাপিয়ে দেয় না। তাই নতুন বা অপরিচিত স্থানে কিবলার সঠিক দিক নির্ণয়ে সর্বোচ্চ চেষ্টা করার পর সামান্য বিচ্যুতি ঘটলে তা নামাজ ভঙ্গের কারণ হবে না। তবে অনর্থক সংশয়ে না ভুগে কম্পাস বা নির্ভরযোগ্য মাধ্যমে দিক নিশ্চিত হয়ে একাগ্রচিত্তে নামাজে দাঁড়ানোই মুমিনের দায়িত্ব।
Latest
For Advertisement
- সহযোগী-সম্পাদক: হাসিনা রহমান শিপন
- সহ -সম্পাদক: রাশিকুর রহমান রিফাত
- নিউজ রুম ইনচার্জ : তাসফিয়া রহমান সিনথিয়া
Developed by WebsXplore