Saturday 17 October, 2026

For Advertisement

শাওয়ালের ছয় রোজা কী, কীভাবে রাখবেন

25 March, 2026 7:15:30

মহিমান্বিত রমজানের শেষে পশ্চিম আকাশে এক ফালি চাঁদ সিয়াম ও কিয়াম সাধনার অভূতপূর্ব পরিসমাপ্তি ঘটায়। উদযাপিত হয় ঈদুল ফিতর। কিন্তু মুমিনের হৃদয় রাজ্যে তখন দেখা দেয় ইবাদতের বসন্ত পুণ্যময় রমজান শেষ হওয়ার হাহাকার ও বেদনা।

বরকতময় রমজানে আরও বেশি ইবাদত বন্দেগি ও আত্মনিবেদন করার আকাঙ্ক্ষা তাকে পেয়ে বসে। অদৃশ্য এক যন্ত্রণায় দগ্ধ হতে থাকে। ঠিক সেই মুহূর্তে প্রভুর পক্ষ থেকে এক পশলা বৃষ্টির মতো নাজিল হয় শাওয়ালের ছয়টি রোজা।

গুরুত্ব ও ফযিলত

শাওয়াল মাসের ছয়টি রোজা রাসুল (সা.) নিজে রাখতেন এবং সাহাবিদের রাখতে উদ্বুদ্ধ করতেন। এই ছয় রোজার রয়েছে অপরিসীম গুরুত্ব ও ফজিলত।

হাদিস শরিফে আছে, আবু আইয়ুব আনসারি (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি রমজানের রোজার সঙ্গে শাওয়ালের ছয় রোজা রাখল সে যেন পুরো বছর রোজা রাখল। (সহিহ মুসলিম-১১৬৪)

এই রোজার সওয়াব আল্লাহতায়ালা দশগুণ বৃদ্ধি করে দেন। রমজান ১০ মাস সমান আর শাওয়ালের ছয় দিন দুই মাস সমান। মোট এক বছর।

এ মর্মে ইরশাদ হয়েছে, হজরত সাওবান (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, রমজানের রোজা ১০ মাস রোজার সমতুল্য আর (শাওয়ালের) ছয় রোজা দুই মাসের সমকক্ষ। এই হলো মোট এক বছরের রোজা। (সুনানুন নাসায়ি কুবরা:২৮৬০)

রোজার সময়

পুরো শাওয়াল মাস। ঈদুল ফিতরের পরের দিন থেকে জিলকদ মাসের চাঁদ দেখা পর্যন্ত। শুরু শেষ বা মাঝের-যে কোনো ছয় দিন।

ধারাবাহিক হওয়া জরুরি নয়

এই ছয় রোজা ধারাবাহিক রাখা জরুরি নয়। পুরো সময়ের ভেতর ছয়টি রোজা পূর্ণ করতে পারলেই সুন্নত আদায় হয়ে যাবে।তবে ধারাবাহিকতা রক্ষা করা উত্তম। একটি বর্ণনায় ঈদের পর দিন থেকে ধারাবাহিকভাবে রাখার কথা আছে।

কবে থেকে শুরু করব

ঈদুল ফিতরের পরের দিন থেকে রোজা রাখা শুরু করবে। এটাই উত্তম। তবে বাধ্যবাধকতা নেই।

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে আছে রাসূল সা. বলেছেন, ঈদুল ফিতরের পর ধারাবাহিকভাবে যে ব্যক্তি ছয়টি রোজা রাখল সে যেন বছরজুড়ে রোজা রাখল। (আল মুজামুল কাবির: ৭৬০৭)।

রমজানের কাযা রোজা থাকলে কি করবে?

প্রথমে রমজানের কাযা রোজা আদায় করবে। কারণ তা ফরজ। আর শাওয়ালের রোজাসুন্নত। এ বিষয়ে দুর্বল সূত্রে একটি মাওকুফ হাদীস পাওয়া যায়।

উম্মু সালামার (রা.) পরিবারের কোনো সদস্যের রমজানের রোজা কাযা হয়ে গেলে তিনি ঈদুল ফিতরের পরের দিনই তা রাখতে নির্দেশ দিতেন। (ইবনু যানজুয়ার সূত্রে কানযুল উম্মাল-২৪৩১৮)।

ইবনু রজব হানবলি (রহ.) বলেন, আগে রমজানের কাযা রোজা আদায় করে ফেললে তার দায়িত্ব থেকে দ্রুত মুক্তি পেয়ে গেল। আর শাওয়ালের ছয় রোজার চেয়ে কাযা রোজা দ্রুত আদায় করা উত্তম। (লাতাইফুল মাআরিফ: ২২৩)।

তবে কেউ কাযা রোজা না রেখে শাওয়ালের রোজা রেখে ফেললে আদায় হয়ে যাবে।

For Advertisement

সম্পাদক ও প্রকাশক:- এ এফ এম রিজাউর রহমান (রুমেল), এডভোকেট- বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট
  • সহযোগী-সম্পাদক: হাসিনা রহমান শিপন
  • সহ -সম্পাদক: রাশিকুর রহমান রিফাত
  • নিউজ রুম ইনচার্জ : তাসফিয়া রহমান সিনথিয়া
© সকল স্বত্ব প্রতিচ্ছবি ডটকম ২০১৫ - ২০২২ অফিস: ৭২/২ উত্তর মুগদাপাড়া, ঢাকা ই-মেইল: dailyprotichhobi@gmail.com | মোবাইল: ০১৮১৮০৯৩১৩৭ ফোন:+৮৮০২৭২৭৭১৪৭

Developed by WebsXplore