For Advertisement
রমজানে দাতব্য অর্থ সংগ্রহের চেষ্টায় ইউক্রেনের মুসলিমরা
রাশিয়ার আগ্রাসনের পর ইউক্রেনের মুসলিম জনসংখ্যার জন্য রোজার মাসের প্রস্তুতি হয়ে উঠছে কঠিন। দেশটির বিরুদ্ধে রাশিয়ার আগ্রাসন ক্রমাগত জোরদার হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে অনেকে অভাবী লোকদের সহায়তা করতে দাতব্য অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা করছে।
ক্রিমিয়ান তাতার এবং ইউক্রেনের মুসলিম লীগের প্রধান নিয়ারা নিমাতোভা বলেন, ‘আমাদের নিজেদেরই সবকিছু ঠিক করতে হবে।’
রোজার মাসের প্রথম দিন সম্ভবত শনিবার হতে পারে। যারা তার সাথে চেরনিভতসির ইসলামিক সেন্টারে অবস্থান করছে তাদের মধ্য থেকে একদল বাস্তুচ্যুত পরিবারের সঙ্গে ইফতার ও সন্ধ্যার খাবার প্রস্তুত করার পরিকল্পনা করেছেন তিনি।
পশ্চিম ইউক্রেনীয় শহর থেকে ফোনে নিমাতোভা জনিয়েছেন, অনেক মুসলিম বিদেশে গিয়েছিলেন। তবে যারা এখনও ইউক্রেনে আছেন তাদের সমর্থন প্রয়োজন। তিনি দক্ষিণ-পূর্ব প্রদেশ জাপোরিঝিয়া থেকে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। সেখানের কিছু অংশ রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
জাতিসংঘের মতে, রাশিয়া ইউক্রেন আক্রমণ করার পর থেকে ১ কোটির বেশি মানুষ বাধ্য হয়ে ঘর ছেড়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৪০ লাখ লোক বিদেশে পালিয়ে গেছে। অর্থোডক্স খ্রিস্টান ধর্ম অনুসারী প্রধান দেশ ইউক্রেনের মুসলমানের সংখ্যা মোট জনসংখ্যার প্রায় এক শতাংশ। যুদ্ধের আগে ইউক্রেনে ২০ হাজারের বেশি তুর্কি মুসলিম নাগরিক বাস করতো।
বর্তমানে ইউক্রেনে বোমা হামলা এবং কারফিউ জারির কারণে রমজানের প্রস্তুতি ছিল কঠিন এবং আবেগপূর্ণ। সন্ধ্যায় যখন মুসলিম পরিবারগুলি দিনের বেলা রোজা রেখে ইফতার করতে জড়ো হয় তখন চলাচল সীমিত করা হয় ৷ যুদ্ধের কারণে বাস্তুচ্যুত অনেকে তাদের বাড়ি, সম্প্রদায় সহায়তা নেটওয়ার্ক এবং বন্ধুদের থেকে অনেক দূরে। তবুও তারা উত্সব সময়টিকে সবচেয়ে বেশি উপভোগ করতে বদ্ধপরিকর।
ইউক্রেনের মুসলিমরা বলছেন, আল্লাহর ক্ষমা পেতে এবং পরিবার, আত্মা ও জন্মভূমি দেশ ইউক্রেনের জন্য প্রার্থনা করতে আমাদের যথাসাধ্য চেষ্টা করার প্রস্তুতি থাকতে হবে।
১৯৪৪ সালে ১ লাখ ৯১ হাজারের বেশি ক্রিমিয়ান তাতারকে জোসেফ স্ট্যালিনের নির্দেশে নির্বাসিত করা হয়েছিল। বেশিরভাগই আধুনিক উজবেকিস্তানে আশ্রয় নিয়েছে।
নিমাতোভা বলেন, যখন আমরা ক্রিমিয়ায় থাকতাম তখন কখনোই ভাবিনি আমাদের চলে যেতে হবে। আমার লোকদের পূর্বে সোভিয়েত নেতা জোসেফ স্ট্যালিন নির্বাসিত করেছিলেন এবং আমার দাদা-দাদি, বাবা-মা সবসময়ই ক্রিমিয়ায় ফিরে আসার স্বপ্ন দেখেছিলেন। ১৯৯৮ সালে আমি যখন দুই বছর বয়সী তখন আমরা ফিরে আসি। কিন্তু তারপর রাশিয়া ২০১৪ সালে ক্রিমিয়া দখল করে এবং আমরা বুঝতে পারি যে আমরা আমাদের ধর্মীয় কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারব না। তাই আমরা চলে যাই। এখন আমি আবার বাধ্য হয়ে বাড়ি ছেড়ে এসেছি।
চলমান পরিস্থিতির কারণে চলতি বছরের রমজানের জন্য তার অনেক পরিকল্পনা পরিবর্তন করতে হয়েছে। বিশেষ করে অনলাইনে ধর্মীয় পাঠ এবং গৃহহীনদের খাওয়ানোর প্রচেষ্টা।
তিনি বলেন, জাপোরিঝিয়াতে বিভিন্ন মুসলিম সম্প্রদায় ছিল। তাদের মাঝে বিভিন্ন জাতীয়তা ছিল এবং সবাই তাদের জাতীয় খাবার প্রস্তুত করবে বলে পরিকল্পনাও করেছিল। একদিন খাব ভারতীয় বিরিয়ানি অন্যদিন ফিলিস্তিনি মানসেভ বা উজবেক প্লোভ। কিন্ত এখন আমরা যখন সাইরেন শুনি তখন আমরা জান বাঁচাতে লুকিয়ে থাকি। আমরা কেউই জানি না আগামীকাল কী নিয়ে আসবে। মনে হচ্ছে এই যুদ্ধের শুরু থেকে আমাদের বয়স ১০ বছর পার হয়ে গেছে।
আসন্ন রমজান মাসে যুদ্ধের প্রভাব নিয়ে এক তুর্কি ব্যবসায়ী বলেন, আমরা রমজানের সময় সবসময় আমাদের ঘর মানুষের জন্য উন্মুক্ত রাখি। কিন্তু এখন বেশিরভাগই ঘর ছাড়া। অনেকে রাস্তার পাশে পার্ক করা গাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। যুদ্ধের কারণে সবারই খাবারের মজুদ কম। বিপরীতে খবারের দামও বেড়েছে। প্রয়োজনে আমরা আমাদের রুটি ভাগ করে নেব। যুদ্ধ আমাদের খারাপভাবে প্রভাবিত করেছে। আমরা বেঁচে থাকার জন্য সংগ্রাম করছি। আমার ব্যবসা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। তবে আমি বিশ্বাস করি আমরা শেষ দেখতে পাব, হয়তো এক বছরে, হয়তো দুই, কিন্তু ভালো দিন ফিরে আসবে। কিন্ত আমি এই দেশ ছাড়ব না।
Latest
For Advertisement
- সহযোগী-সম্পাদক: হাসিনা রহমান শিপন
- সহ -সম্পাদক: রাশিকুর রহমান রিফাত
- নিউজ রুম ইনচার্জ : তাসফিয়া রহমান সিনথিয়া
Developed by WebsXplore