For Advertisement
মহাকাশে নতুন ইতিহাস, পৃথিবী থেকে মানুষের সর্বোচ্চ দূরত্বে পৌঁছাল আর্টেমিস-২
মহাকাশ অভিযানের ইতিহাসে নতুন মাইলফলক স্থাপন করেছে আর্টেমিস-২। সোমবার (৬ এপ্রিল) গ্রিনিচ মান সময় ১২:৫৬ মিনিটে মিশনটির চার নভোচারী পৃথিবী থেকে ২ লাখ ৪৮ হাজার ৬৫৫ মাইল দূরত্ব অতিক্রম করে ১৯৭০ সালের অ্যাপোলো-১৩-এর গড়া ৫৬ বছরের পুরোনো রেকর্ড ভেঙেছেন।
নাসা জানিয়েছে, এই মিশনের নাসার ওরিয়ন সর্বোচ্চ ২ লাখ ৫২ হাজার ৭৫৬ মাইল দূরত্বে পৌঁছে পরে পৃথিবীর দিকে ফেরার যাত্রা শুরু করবে।
নাসার এসএলএস রকেটে চড়ে গত ১ এপ্রিল ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে যাত্রা শুরু করা এই মিশনে রয়েছেন চার নভোচারী রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কচ ও জেরেমি হ্যানসেন।
রেকর্ড অর্জনের পর ওরিয়ন ক্যাপসুল থেকে বার্তায় জেরেমি হ্যানসেন বলেন, “আমাদের পূর্বসূরিদের সম্মান জানিয়ে আমরা আজ পৃথিবীর সবচেয়ে দূরবর্তী বিন্দুতে পৌঁছেছি। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম দ্রুত এই রেকর্ড ভেঙে দিক—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”
মিশন চলাকালে নভোচারীরা চাঁদের দুটি গহ্বরের নামকরণের প্রস্তাব দিয়েছেন—একটির নাম ‘ইন্টিগ্রিটি’ এবং অন্যটি রিড ওয়াইজম্যানের প্রয়াত স্ত্রী ক্যারলের স্মরণে। এসব নাম অনুমোদনের জন্য ইন্টারন্যাশনাল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল ইউনিয়নের কাছে পাঠানো হবে।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, চাঁদের একেবারে কাছে (৪,০৬৭ মাইল দূরত্বে) পৌঁছানোর পর নভোচারীরা প্রথমবারের মতো মানুষের চোখে চাঁদের ‘ফার সাইড’ বা অন্ধকার দিক সরাসরি পর্যবেক্ষণ করবেন। চাঁদের আড়ালে যাওয়ার কারণে পৃথিবী থেকে প্রায় ৪০ মিনিটের জন্য যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন বা ‘ব্ল্যাকআউট’ পিরিয়ড তৈরি হবে। এরপর ডিপ স্পেস নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পুনরায় হিউস্টনের কন্ট্রোল সেন্টারের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপিত হবে।
মিশনের সময় নভোচারীরা মহাকাশ থেকে একটি বিরল সূর্যগ্রহণও প্রত্যক্ষ করবেন। পাশাপাশি উচ্চ-রেজোলিউশনের ক্যামেরায় চাঁদের পৃষ্ঠের নতুন ছবি ও ভিডিও ধারণ করা হবে, যা ভবিষ্যতে চাঁদে স্থায়ী ঘাঁটি স্থাপনের পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যোগ করবে।
বর্তমানে আর্টেমিস-২ মিশনের নভোচারীরা এখন তাদের সফরের অর্ধেকের বেশি পথ পাড়ি দিয়েছেন। আগামী ১০ এপ্রিল (শুক্রবার) রাত ৮টা ০৭ মিনিটে তারা স্যান ডিয়েগো উপকূলে প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণ (স্প্ল্যাশডাউন) করবেন। সেখান থেকে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে তাদের উদ্ধার করে যুদ্ধজাহাজ ‘ইউএসএস জন পি. মুরথা’য় নেওয়া হবে।
নাসার মতে, এই মিশনের সাফল্য শুধু চাঁদে ফেরার পথই সুগম করেনি, বরং ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে মানব অভিযানের ভিত্তিও আরও শক্তিশালী করেছে।
Latest
For Advertisement
- সহযোগী-সম্পাদক: হাসিনা রহমান শিপন
- সহ -সম্পাদক: রাশিকুর রহমান রিফাত
- নিউজ রুম ইনচার্জ : তাসফিয়া রহমান সিনথিয়া
Developed by WebsXplore