Wednesday 26 August, 2026

For Advertisement

মহররম মাসের ফজিলত

12 August, 2021 1:12:40

মহররম অর্থ মর্যাদাপূর্ণ, তাৎপর্যপূর্ণ। যেহেতু এ মাসকে ঘিরে অনেক ইতিহাস-ঐতিহ্য ও রহস্যময় তাৎপর্য নিহিত রয়েছে, সঙ্গে সঙ্গে এ মাসে যুদ্ধ-বিগ্রহ সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ ছিল, এসব কারণেই এ মাসটি মর্যাদাপূর্ণ। তাই এ মাসের নামকরণ করা হয়েছে মহররম বা মর্যাদাপূর্ণ মাস।

চার সম্মানিত মাসের প্রথম মাস হচ্ছে মহররম, যাকে আরবের অন্ধকার যুগেও বিশেষ সম্মান ও মর্যাদার চোখে দেখা হতো। আবার হিজরি সনের প্রথম মাসও মহররম। শরিয়তের দৃষ্টিতে যেমন এ মাসটি অনেক তাৎপর্যপূর্ণ, তেমনি এই মাসে সংঘটিত ঐতিহাসিক ঘটনার বিবরণও অনেক দীর্ঘ।

আমরা দেখতে পাই, ইতিহাসের এক জ্বলন্ত সাক্ষী মহররম মাস। ইসলামের অনেক ঐতিহাসিক ঘটনার সূত্রপাত হয় এ মাসে। শুধু উম্মতে মুহাম্মদিই নয়, বরং পূর্ববর্তী অনেক উম্মত ও নবীদের অবিস্মরণীয় ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল এই মাসে।

প্রখ্যাত সাহাবী আবু বাকরা রা. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন- আল্লাহ তা’আলা আসমানসমূহ এবং যমিন সৃষ্টির দিন যে আকৃতিতে সময়কে সৃষ্টি করেছিলেন সেটা আবার তার নিজস্ব আকৃতিতে ফিরে এসেছে। বরং এবং বারো মাসে এক বছর। তম্মধ্যে চারটি মাস অতি সম্মানিত। তিনটি মাস ধারাবাহিক। সেগুলো হল: যুল কা’দাহ (যিলকদ), যুলহিজ্জা (যিলহাজ্জ), মুহাররম এবং আরেকটি হল মুযার সম্প্রদায়ের রজব মাস যা জুমাদাল ঊলা এবং শাবানের মধ্যখানে রয়েছে।’ (বুখারী ও মুসলিম)

আবু হুরায়রা রা. হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন- ‘রামাযানের পর সর্বোত্তম রোযা হল আল্লাহর মাস মুহাররামের রোযা। আর ফরয নামাযের পর সর্বোত্তম নামায হল রাতের নামায।’ (মুসলিম)

আয়েশা রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘জাহেলী যুগে কুরায়শগণ আশুরার রোযা পালন করত। অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদীনায় এসে নিজে আশুরারা রোযা রাখলেন এবং সাহাবীদেরকেও রোযা রাখার নির্দেশ দিলেন। কিন্তু যখন রামাযানের রোযা ফরয হল তখন তা পরিত্যাগ করা হল। যার ইচ্ছা রাখত যার ইচ্ছা রাখত না।’ (বুখারী)

ইবনে আব্বাস রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন- ‘নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদীনা আগমণ করার পর দেখলেন, সেখানকার ইহুদীরা আশুরার দিন রোযা পালন করছে। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: তোমরা কিসের রোযা রাখ? তারা বলল: এটি একটি কল্যাণময় দিন। এ দিন বনী ইসরাঈলকে আল্লাহ তা’আলা তাদের শত্রুর হাত থেকে রক্ষা করেছিলেন। তাই মুসা (আ.) এ দিন রোযা পালন করেছিলেন। (বিধায় আমরাও মূসা আ. এর অনুসরণে এ দিনটিতে রোযা পালন করি)। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: ‘আমি তোমাদের চেয়ে মুসা আলাইহিস সালামকে অনুসরণ করার বেশি হকদার।” অতঃপর তিনি এ দিন রোযা রাখলেন এবং সাহাবীদেরকে রোযা রাখার নির্দেশ দিলেন।’ (বুখারী, মুসলিম)

আবু মূসা রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন- ‘ইহুদীরা আশুরার দিনকে ঈদ মনে করত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘অতঃএব তোমরা এ দিন রোযা রাখ।’ (বুখারী মুসলিম)

হুমাইদ বিন আব্দুর রহমান হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি মুআবিয়া রা. কে হাজ্জের বছর আশুরার দিন মিম্বরের উঠে বক্তব্য দিতে শুনেছি। তিনি বলছেন, ‘আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, আজ আশুরার দিন। আল্লাহ এ দিন রোযা রাখা ফরয করেন নি। কিন্তু আমি রোযা রেখেছি। অতঃএব, তোমাদের কেউ চাইলে রোযা রাখতে পারে, নাও রাখতে পারে।’ (বুখারী ও মুসলিম)

ইবনে আব্বাস রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এই আশুরার দিনের উপর অগ্রাধিকার দিয়ে এত গুরুত্বসহকারে অন্য কোন দিন রোযা পালন করতে দেখি নি।’ (অর্থাৎ রামাযান মাস ছাড়া) (বুখারী)

রুবাই বিনতে মুআউওয়ায রা. বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আশুরার দিন সকালবেলা আনসারদের মহল্লায় মহল্লায় এ ঘোষণা দেয়ার জন্য লোক পাঠালেন যে, যে ব্যক্তি রোযা রাখেনি সে যেন দিনের বাকি অংশ রোযা অস্থায় থাকে। আর যে রোযা রেখেছে সে যেন রোযা পূর্ণ করে।’

রুবাই রা. বলেন: ‘আমরা নিজেরা রোযা রাখতাম এবং আমাদের বাচ্চাদেরকে রোযা রাখাতাম। আর তাদের জন্য রঙ্গিন পশম দ্বারা খেলনা বানিয়ে রাখতাম। কেউ কান্নাকাটি করলে সেটা তাকে দিতাম যেন ইফতারের সময় পর্যন্ত রোযা অবস্থায় থাকে।’ (বুখারী ও মুসলিম)

সালামা বিন আকওয়া রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আসলাম গোত্রের এক ব্যক্তিকে এ ঘোষণা দেয়ার জন্য দায়িত্ব দিয়েছিলেন যে, ‘যে ব্যক্তি খেয়ে ফেলেছে সে যেন দিনের বাকি অংশ রোযা থাকে আর যে খায়নি সেও যেন রোযা অবস্থায় থাকে। কারণ, আজ আশুরার দিন।’ (বুখারী, মুসলিম)

আবু কাতাদা রা. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করে বলেন: ‘প্রতি মাসে তিন দিন এবং এক রামাযান থেকে আরেক রামাযান পর্যন্ত রোযা রাখলে সারা বছর রোযা রাখার সাওয়াব অর্জিত হয়। আরাফার দিন রোযা রাখলে আল্লাহর নিকট আশা করি যে তিনি এর বিনিময়ে আগের ও পরের এক বছরের গুনাহ মোচন করে দিবেন। আর আশুরার দিন রোযা রাখলে আল্লাহর নিকট আশা করি যে, তিনি এর বিনিময়ে পূর্বের এক বছরের গুনাহ মোচন করবেন।’ (সহীহ মুসলিম)

আব্দুল্লাহ ইবনে উমার রা. বর্ণনা করেন, জাহেলী যামানার লোকেরা আশুরার দিন রোযা পালন করত। রামাযানের রোযা ফরয হওয়ার পূর্বে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং মুসলিমগণও এ দিন রোযা পালন করতেন। পরবর্তীতে রামাযানের রোযা ফরয হলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘আশুরার দিন আল্লাহ তা’আলার দিন সমূহের মধ্য থেকে একটি দিন। যার ইচ্ছা সে এ দিন রোযা রাখতে পারে আর যার ইচ্ছা রোযা বাদও দিতে পারে।’ (সহীহ মুসলিম)

জাবির বিন সামুরা রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে আশুরার দিন রোযা রাখতে আদেশ করতেন, উৎসাহিত করতেন, এমনকি রোযা রাখার ব্যাপারে খোঁজ-খবর নিতেন। অতঃপর রামাযানের রোযা ফরয হলে তিনি এ রোযার ব্যাপারে আদেশ করতেন না, নিষেধও করতেন না এবং এ ব্যাপারে খোঁজ-খবরও নিতেন না। (সহীহ মুসলিম)

ইবনে আব্বাস রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন আশুরার দিন রোযা রাখলেন এবং অন্যদেরকে রাখার জন্য আদেশ করলেন তখন সাহাবীগণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বললেন, হে আল্লাহর রসূল, এ দিনটিকে তো ইহুদীরা সম্মান করে? তিনি বললেন: ইনশাআল্লাহ আগমী বছর নয় তারিখে রোযা রাখব।’ অন্য বর্ণনায় রয়েছে, আগামীতে বেঁচে থাকলে নয় তারিখে রোযা রাখব।’ (সহীহ মুসলিম)

ইবনে আব্বাস রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন আশুরার দিন রোযা রাখলেন এবং অন্যদেরকে রাখার জন্য আদেশ করলেন তখন সাহাবীগণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বললেন, হে আল্লাহর রসূল, এ দিনটিকে তো ইহুদীরা সম্মান করে? তিনি বললেন: ইনশাআল্লাহ আগমী বছর নয় তারিখে রোযা রাখব।” অন্য বর্ণনায় রয়েছে, আগামীতে বেঁচে থাকলে নয় তারিখে রোযা রাখব।’ (সহীহ মুসলিম)

ইবনে আব্বাস রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: ‘আশুরার দিন রোযা রাখ এবং এ ক্ষেত্রে ইহুদীদের বিরোধীতা করে এর আগের দিন বা পরের দিন রোযা রাখ।’ (মুসনাদ আহমাদ, সহীহ ইব্‌ন খুযায়মা ইত্যাদি)

ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল রাহ. বলেন: ‘মাসের শুরু চিনতে অসুবিধা হলে (নয়, দশ ও এগার এ) তিন দিন রোযা রাখবে। যেন নয় ও দশ তারিখে রোযা নিশ্চিতভাবে সম্পন্ন করা যায়।’ (মুগনী: ৩/১৭৪)

For Advertisement

সম্পাদক ও প্রকাশক:- এ এফ এম রিজাউর রহমান (রুমেল), এডভোকেট- বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট
  • সহযোগী-সম্পাদক: হাসিনা রহমান শিপন
  • সহ -সম্পাদক: রাশিকুর রহমান রিফাত
  • নিউজ রুম ইনচার্জ : তাসফিয়া রহমান সিনথিয়া
© সকল স্বত্ব প্রতিচ্ছবি ডটকম ২০১৫ - ২০২২ অফিস: ৭২/২ উত্তর মুগদাপাড়া, ঢাকা ই-মেইল: dailyprotichhobi@gmail.com | মোবাইল: ০১৮১৮০৯৩১৩৭ ফোন:+৮৮০২৭২৭৭১৪৭

Developed by WebsXplore