For Advertisement
চলতি বছরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে টিকফা চুক্তি স্বাক্ষরের কথা রয়েছে: পররাষ্ট্র সচিব
চলতি বছরে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে টিকফা চুক্তি স্বাক্ষরের কথা রয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন।
দুই বছর বিরতির পর সোমবার (২০ মার্চ) বৈঠকে বসে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় এ বৈঠক শেষে পররাষ্ট্র সচিব সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেছেন, ‘রাজনৈতিক, নিরাপত্তা ও বাণিজ্যিক কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছরে পা দিয়েছি। করোনার কারণে নিয়মিত সংলাপ করা সম্ভব হয়নি। আজকের বৈঠকে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা, ভ্যাকসিন সাপোর্ট, ডিফেন্স অ্যান্ড সিকিউরিটি ইস্যু ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, বৈঠকে গণতন্ত্র চর্চা, শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ, ব্লু ইকোনমি, জিয়োপলিটিক্যাল সিনারিও প্রভৃতি বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।’
পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘র্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার বিষয়ে আলোচনা অব্যাহত থাকবে। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। বাংলাদেশ তার অবস্থান ব্যাখ্যা করেছে। গেল তিন মাস মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এ ইস্যুটি পর্যবেক্ষণে রেখেছে।’
তিনি জানান, অর্থনৈতিক সহযোগিতা বিষয়ে হাই লেভেল বৈঠকে আরও আলোচনা হবে। বাইডেন প্রশাসনের কাছে বাংলাদেশের উচ্চ প্রত্যাশার কথা জানানো হয়েছে বলেও জানান সচিব।
এ সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের রাজনীতিবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি ভিক্টোরিয়া ন্যুল্যান্ড বলেন, ‘করোনা মহামারির কারণে নির্দিষ্ট সময়ে বৈঠক করা সম্ভব হয়নি ঠিকই, কিন্তু এ বৈঠকে আমরা সত্যি সন্তুষ্ট। ব্লিনকেনের সাথে সামনের মাসে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক হবে।’
বাংলাদেশের সঙ্গে মিলিটারি ইস্যুতে জিসমিয়া ও আকসা চুক্তির খসড়া তৈরি করা হয়েছে, জানিয়ে ভিক্টোরিয়া ন্যুল্যান্ড বলেন, ‘আগামীতে এগুলো চুক্তিতে রূপ নিতে পারে।’
তিনি বলেন, ‘গত ৫০ বছরে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক অনেক এগিয়েছে। আগামীতে আরও শক্তিশালী হবে।’
ইউক্রেন ও রাশিয়ার যুদ্ধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ইউক্রেন ও রাশিয়ার যুদ্ধের মধ্যে এ বৈঠক খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্র শান্তি ও নিরাপত্তা চায়। বহুবার রাশিয়াকে আলোচনার টেবিলে বাসনোর চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু, মস্কো কোনো কথাই শোনেনি।’
ভিক্টোরিয়া ন্যুল্যান্ড বলেন, ‘প্রত্যেক স্বাধীন জাতির উচিত সত্য প্রকাশে অবিচল হওয়া এবং ইউক্রেনের পাশে থাকা। সবাই মিলে সত্য বলতে হবে একসাথে দাঁড়িয়ে।’
তিনি জানান, বৈঠকে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
করোনা মোকাবিলায় ভ্যাকসিন প্রয়োগে সফলতার জন্য বাংলাদেশের প্রশংসা করেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের রাজনীতিবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি।
ন্যুল্যান্ড বলেন, ‘সামনের পথচলায় উভয় দেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে চায়। ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজি বা আইপিএস নিয়ে আরও কাজ করার সুযোগ আছে। শুধু শান্তি ও নিরাপত্তার ইস্যুগুলো নয়, বাণিজ্য সম্প্রসারণ করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘মানবাধিকার যেকোনো মূল্য রক্ষা করতে হবে। এ নিয়ে আরও আলোচনা হবে সামনের দিনগুলোতে। বাহিনীগুলোকে আরও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে।’
নিরাপত্তার সক্ষমতা বাড়াতে অস্ত্র বিক্রির প্রস্তাব ছিল যুক্তরাষ্ট্রের। বাংলাদেশ এ বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে বলেও বৈঠক শেষে জানানো হয়।
করোনার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক স্থগিত ছিল। এবারের অষ্টম অংশীদারত্ব সংলাপ ঢাকায় হয়। গুরুত্বপূর্ণ এ বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তরের রাজনীতিবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি ভিক্টোরিয়া ন্যুল্যান্ড।
Latest
For Advertisement
- সহযোগী-সম্পাদক: হাসিনা রহমান শিপন
- সহ -সম্পাদক: রাশিকুর রহমান রিফাত
- নিউজ রুম ইনচার্জ : তাসফিয়া রহমান সিনথিয়া
Developed by WebsXplore