Friday 28 August, 2026

For Advertisement

কিডনিতে পাথর হয়েছে কিনা বুঝবেন যেসব লক্ষণে

28 August, 2026 6:38:01

কিডনিতে পাথর অনেক সময় কোনো স্পষ্ট উপসর্গ ছাড়াই তৈরি হতে পারে। তবে পাথরটি যখন মূত্রনালির দিকে যেতে শুরু করে বা মূত্রপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে, তখন তীব্র ব্যথাসহ বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দিতে পারে। হঠাৎ কোমর বা শরীরের পাশের অংশে ব্যথা, প্রস্রাবের রং পরিবর্তন, বমি বমি ভাব—এসব লক্ষণ কিডনিতে পাথর থাকার ইঙ্গিত হতে পারে।

কিডনিতে পাথর কী?

কিডনিতে পাথর হলো বিভিন্ন ধরনের খনিজ ও লবণ জমে তৈরি শক্ত পদার্থ। প্রস্রাবে এসব উপাদানের ঘনত্ব বেড়ে গেলে ধীরে ধীরে তা জমাট বেঁধে পাথরের আকার নিতে পারে।

চিকিৎসকরা বলেন, কিডনির পাথরের আকার বিভিন্ন রকম হতে পারে। ছোট পাথর সাধারণত প্রস্রাবের সঙ্গে সহজেই শরীর থেকে বের হয়ে যেতে পারে। তবে বড় পাথর মূত্রনালিতে আটকে গিয়ে প্রস্রাবের প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। এতে তীব্র অস্বস্তি ও ব্যথা হতে পারে।

শরীরের পাশের অংশে তীব্র ব্যথা

কিডনিতে পাথরের অন্যতম প্রধান লক্ষণ হলো শরীরের পাশের অংশে, বিশেষ করে পাঁজরের নিচে তীব্র ব্যথা। পাথরটি মূত্রনালির মধ্য দিয়ে নিচের দিকে নামার সময় এই ব্যথা কখনো বাড়তে বা কমতে পারে।

অনেক ক্ষেত্রে ব্যথা কোমর থেকে তলপেট কিংবা কুঁচকির দিকেও ছড়িয়ে পড়ে। তীব্র ব্যথার সঙ্গে কারও কারও বমি বমি ভাব বা বমিও হতে পারে।

প্রস্রাবের রঙে পরিবর্তন

কিডনিতে পাথর থাকলে প্রস্রাবের ক্ষেত্রেও কিছু পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। যেমন—

প্রস্রাবের রং গাঢ় বা লালচে হয়ে যেতে পারে।

প্রস্রাবে রক্তের উপস্থিতির কারণে রং পরিবর্তিত হতে পারে।

বিভিন্ন খনিজ বা লবণের ক্ষুদ্র কণা থাকার কারণে প্রস্রাব ঘোলা দেখাতে পারে।

তবে এসব উপসর্গ অন্য কারণেও হতে পারে। তাই শুধু লক্ষণের ভিত্তিতে কিডনিতে পাথর হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া যায় না।

কখন দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

তীব্র বা একটানা ব্যথার সঙ্গে জ্বর, শরীর কাঁপা বা শীত শীত অনুভূত হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। কারণ পাথরের কারণে মূত্রপ্রবাহে বাধা তৈরি হওয়ার পেছনে সংক্রমণ থাকতে পারে, যা গুরুতর হয়ে উঠতে পারে।

বিশেষ করে প্রস্রাব করতে সমস্যা, বারবার বমি, জ্বর, কাঁপুনি এবং তীব্র ব্যথা দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।

কীভাবে কিডনিতে পাথর শনাক্ত হয়?

কিডনিতে পাথর শনাক্ত করতে চিকিৎসক প্রথমে শারীরিক পরীক্ষা করতে পারেন। এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী প্রস্রাব ও রক্ত পরীক্ষা, আল্ট্রাসনোগ্রাম বা সিটি স্ক্যান করা হয়।

পাথরের আকার ও অবস্থান, মূত্রপ্রবাহে কোনো বাধা তৈরি হয়েছে কি না এবং সংক্রমণ রয়েছে কি না—এসব বিষয় বিবেচনা করে চিকিৎসা নির্ধারণ করা হয়।

ছোট আকারের পাথর অনেক সময় পর্যাপ্ত চিকিৎসা সহায়তায় স্বাভাবিকভাবেই প্রস্রাবের সঙ্গে বের হয়ে যেতে পারে। তবে বড় পাথর মূত্রনালিতে আটকে গেলে তা অপসারণের জন্য অস্ত্রোপচার বা অন্য কোনো চিকিৎসা পদ্ধতির প্রয়োজন হতে পারে।

যেসব লক্ষণে সতর্ক হবেন

শরীরের পাশের অংশ বা কোমরে তীব্র ব্যথার সঙ্গে প্রস্রাবের রং পরিবর্তন কিডনিতে পাথরের গুরুত্বপূর্ণ সতর্কসংকেত হতে পারে। বিশেষ করে এর সঙ্গে জ্বর, কাঁপুনি, বমি বা প্রস্রাবের সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

For Advertisement

সম্পাদক ও প্রকাশক:- এ এফ এম রিজাউর রহমান (রুমেল), এডভোকেট- বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট
  • সহযোগী-সম্পাদক: হাসিনা রহমান শিপন
  • সহ -সম্পাদক: রাশিকুর রহমান রিফাত
  • নিউজ রুম ইনচার্জ : তাসফিয়া রহমান সিনথিয়া
© সকল স্বত্ব প্রতিচ্ছবি ডটকম ২০১৫ - ২০২২ অফিস: ৭২/২ উত্তর মুগদাপাড়া, ঢাকা ই-মেইল: dailyprotichhobi@gmail.com | মোবাইল: ০১৮১৮০৯৩১৩৭ ফোন:+৮৮০২৭২৭৭১৪৭

Developed by WebsXplore