Tuesday 5 May, 2026

For Advertisement

পশ্চিমবঙ্গে মমতার পতন, গেরুয়াদের বিজয়

4 May, 2026 11:00:21

আর ঠেকিয়ে রাখতে পারলেন না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়; বিধানসভার নির্বাচনে গেরুয়া–ঝড়ে তছনছ হয়ে গেল তৃণমূল কংগ্রেসের দেড় দশকের সাজানো বাগান।

সারাদিনের গণনা শেষে যখন স্পষ্ট হয়ে যায় যে বিজেপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে গেছে এবং তৃণমূল কংগ্রেস বড় ধাক্কা খাচ্ছে, তখন শুধু আসনসংখ্যার হিসাব নয়, বরং একটি বড় রাজনৈতিক বার্তা সামনে আসে, বাংলার ভোটার পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছেন।

এই ফলাফলের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্তগুলোর একটি ধরা পড়ে কলকাতার সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গভর্নমেন্ট গার্লস স্কুলে। এখানেই ভোটগণনার একাধিক রাউন্ড শেষে ধীরে ধীরে স্পষ্ট হতে থাকে যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের আসনেই পিছিয়ে পড়ছেন।

১৭ রাউন্ডের গণনা শেষ হতেই কার্যত নিশ্চিত হয়ে যায় তার পরাজয়। এই দৃশ্য শুধু একটি আসনের ফল নয়, বরং গোটা নির্বাচনের প্রতীকী ছবি হিসেবে সামনে আসে, যেখানে দীর্ঘদিনের ক্ষমতাসীন নেতৃত্বকে সরিয়ে নতুন শক্তির উত্থান ঘটছে।

ফলাফল স্পষ্ট হওয়ার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গণমাধ্যমের সামনে এসে বলেন, “বিজেপি ১০০ টা সিট লুট করেছে।” তার এই মন্তব্যে নির্বাচনি প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলার ইঙ্গিত থাকলেও তিনি গণতান্ত্রিক রায়কে সরাসরি অস্বীকার করেননি। বরং তার বক্তব্যে পরাজয়ের বাস্তবতা এবং রাজনৈতিক লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দুটোই ধরা পড়ে।

অন্যদিকে দিল্লিতে বিজেপির সদর দপ্তরে উৎসবের আবহ তৈরি হয়। ধুতি পরে বাঙালি ঐতিহ্যের ছোঁয়ায় উপস্থিত হয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক বিশেষ বার্তা দেন, যা শুধু রাজনৈতিক নয়, সাংস্কৃতিক সংযোগকেও তুলে ধরে।

তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির এই রেকর্ড জয় প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে অসংখ্য কর্মীর পরিশ্রম ও সংগ্রাম ছাড়া সম্ভব হত না। আমি তাদের সকলকে প্রণাম জানাই। বহু বছর ধরে তারা মাটিতে থেকে নিরলস পরিশ্রম করেছেন, নানা প্রতিকূলতা অতিক্রম করেছেন এবং আমাদের উন্নয়নের এজেন্ডা মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। তারাই আমাদের দলের আসল শক্তি।”

এরপর আরও এক বক্তব্যে তিনি বলেন, “আজ ঐতিহাসিক, অভূতপূর্ব দিন। বিজেপির কর্মীরা কামাল করেছে।” একই সঙ্গে গণতন্ত্রের মূল্যবোধের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “গণতন্ত্রে জয়-পরাজয় স্বাভাবিক। এটা গণতন্ত্রের জয়, সংবিধানের জয়।” তার বক্তব্যে বিজয়ের উচ্ছ্বাসের পাশাপাশি রাজনৈতিক সংযমও স্পষ্ট ছিল।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে তিনি বাংলার রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “বাংলায় রাজনৈতিক হিংসায় অনেক জীবন নষ্ট হয়েছে, এ বার বদলা নয়, বদল।” এই মন্তব্য শুধু একটি রাজনৈতিক স্লোগান নয়, বরং ভবিষ্যতের রাজনীতির একটি দিকনির্দেশ হিসেবেও সামনে এসেছে।

এই দুই নেতার বক্তব্য মিলিয়ে যে চিত্রটি উঠে আসে তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। একদিকে তৃণমূল শিবির পরাজয়ের ধাক্কা সামলে অভিযোগ ও আত্মসমালোচনার মধ্যে দিয়ে পরিস্থিতিকে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করছে, অন্যদিকে বিজেপি এই জয়কে সংগঠন, উন্নয়ন এবং রাজনৈতিক পরিবর্তনের ম্যান্ডেট হিসেবে তুলে ধরছে।

সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলে ১৭ রাউন্ডের গণনার পর যে চিত্রটি স্পষ্ট হয়েছিল, তা আসলে গোটা রাজ্যের ফলাফলের প্রতিফলন। এই নির্বাচন শুধুমাত্র একটি আসনের লড়াই নয়, বরং ১৫ বছরের শাসনের একটি সার্বিক মূল্যায়ন। সেই মূল্যায়নে ভোটাররা পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছেন।

সব মিলিয়ে ২০২৬ সালের এই ফলাফল পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এক যুগান্তকারী অধ্যায়ের সূচনা করল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরাজয় এবং নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে বিজেপির উত্থান একসঙ্গে মিলিয়ে একটি নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার জন্ম দিয়েছে।

এই বাস্তবতায় ভোটারদের বার্তা স্পষ্ট, তারা পরিবর্তন চায়, তারা ফলাফল চায়, এবং তারা সেই শক্তিকেই বেছে নেয় যাদের উপর তারা ভবিষ্যতের ভরসা করতে পারে।

For Advertisement

সম্পাদক ও প্রকাশক:- এ এফ এম রিজাউর রহমান (রুমেল), এডভোকেট- বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট
  • সহযোগী-সম্পাদক: হাসিনা রহমান শিপন
  • সহ -সম্পাদক: রাশিকুর রহমান রিফাত
  • নিউজ রুম ইনচার্জ : তাসফিয়া রহমান সিনথিয়া
© সকল স্বত্ব প্রতিচ্ছবি ডটকম ২০১৫ - ২০২২ অফিস: ৭২/২ উত্তর মুগদাপাড়া, ঢাকা ই-মেইল: dailyprotichhobi@gmail.com | মোবাইল: ০১৮১৮০৯৩১৩৭ ফোন:+৮৮০২৭২৭৭১৪৭

Developed by WebsXplore