For Advertisement
তৈলাক্ত ত্বকের যত্ন | বেসিক স্কিন কেয়ার সম্পর্কে জেনে নিন!
তৈলাক্ত ত্বক নিয়ে অভিযোগের যেন শেষ নেই! মুখ বেশি তেলতেলে দেখায়, মেকআপ করলেই কিছুক্ষণ পর কালচে হয়ে যায়, বার বার মুখ ধুতে হয়, ব্রণে মুখ ভরে যায়, এমন আরও কত সমস্যা! কিন্তু, একটু জেনে বুঝে যদি স্কিন কেয়ার প্রোডাক্ট সিলেক্ট করেন আর ঠিকঠাকভাবে ত্বকের যত্ন নিতে পারেন, তাহলে অয়েলি স্কিন নিয়ে আপনার কোনো আক্ষেপ থাকবে না। কেন স্কিন তেলতেলে হয়, কোন কোন ইনগ্রিডিয়েন্টস আপনার ত্বকের জন্য ভালো, কিভাবে যত্ন নিলে স্কিন প্রবলেমগুলো কমিয়ে আনা যায়, এই বিষয়গুলো আগে বুঝতে হবে। আশা করছি, এই আর্টিকেল থেকে আপনার অয়েলি স্কিনের জন্য ওভারঅল একটা সল্যুশন পাবেন। চলুন তাহলে জেনে নেই, তৈলাক্ত ত্বকের বেসিক স্কিন কেয়ার সম্পর্কে।
তৈলাক্ত ত্বকের যত্ন নিয়ে যত কথা
স্কিন অয়েলি হওয়ার কারণ কী?
বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অতিরিক্ত তৈলাক্ত ত্বকের কারণ হচ্ছে জেনেটিকাল ও হরমোনাল ইমব্যালেন্স। এছাড়া আবহাওয়াগত কারণ ও ডায়েটের উপরও এটি নির্ভর করে। শরীরে যদি তেল উৎপাদনকারি হরমোন বেশি একটিভ থাকে, সেক্ষেত্রে স্কিনে অতিরিক্ত সেবাম উৎপন্ন হয়। টেস্টোস্টেরন হরমোনের (Testosterone hormone) প্রভাবে বয়ঃসন্ধিকালে সেবাসিয়াস গ্ল্যান্ড (Sebastian Gland) বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠে। রূপচর্চার কিছু ভুলও স্কিনের তৈলাক্তভাব বাড়িয়ে দেয়। ওভার ওয়াশ অর্থাৎ বার বার ফেইসওয়াশ দিয়ে মুখ ধোয়া, ভুলভাল প্রোডাক্ট অ্যাপ্লাই, ময়েশ্চারাইজিং না করা এগুলো কিন্তু অয়েলিনেসের পরোক্ষ কারণ।
কিভাবে বুঝবেন আপনার তৈলাক্ত ত্বক?
সকালে ঘুম থেকে উঠেই আপনার মুখের স্কিন হাত দিয়ে ধরুন ও আয়নায় দেখুন। তৈলাক্ত ত্বক বোঝার সবথেকে ভালো উপায় এটি। যদি পুরো মুখটা তেলতেলে লাগে, তবে বুঝবেন আপনার স্কিন টাইপ অয়েলি। মুখ ধোয়ার কিছু সময় পরেই আবার তৈলাক্ত হয়ে যাওয়া, এনলার্জ পোর বোঝা যাওয়া, চকচকে এবং পিচ্ছিল একটা ভাব থাকা এগুলোও অয়েলি স্কিনের বৈশিষ্ট্য।
কোন ইনগ্রিডিয়েন্টগুলো তৈলাক্ত ত্বকের যত্নে ইউজ করবেন?
“স্কিন কেয়ারের কিছুই বুঝি না, যা মাখি তাতেই ব্রণ হয়!”, “স্কিন এতো তেলতেলে, কিভাবে এটা কমাবো?”, “অয়েলি স্কিনের জন্য কোন কোন প্রোডাক্ট ভালো হবে?” এমন প্রশ্ন অনেকেই করেন। আসলে বিভিন্ন স্কিন টাইপের জন্য বিভিন্ন উপাদানের কার্যকারিতা আলাদা! জেনে নিন, অয়েলি স্কিনের জন্য কোন কোন ইনগ্রিডিয়েন্টগুলো সবচেয়ে ভালো! তৈলাক্ত ত্বকের যত্ন নিন এই উপাদানগুলো দিয়ে। যখন স্কিন কেয়ারের প্রোডাক্ট কিনবেন, এই ইনগ্রিডিয়েন্টগুলো আছে কি না সেটা একবার দেখে নিতে পারেন।
১) স্যালিসাইলিক অ্যাসিড
স্যালিসাইলিক অ্যাসিড হলো এক প্রকার বিএইচএ (BHA) বা বিটা হাইড্রক্সি অ্যাসিড। অনেকেই জানেন, এই উপাদানটি ব্রণ দূর করতে সাহায্য করে। পাশাপাশি এটি ব্ল্যাকহেডস এবং হোয়াইটহেডস রিমুভ করে পোর ক্লিন রাখে। ত্বক এর সেবাম ক্ষরণকে নিয়ন্ত্রণ করে অতিরিক্ত তেল উৎপাদন কমিয়ে ফেলে। এছাড়া আরও অনেক স্কিন বেনিফিটস আছে।
২) টি ট্রি অয়েল
টি ট্রি অয়েলকে অ্যান্টি-ব্যাক্টেরিয়াল (Anti-bacterial) এবং ন্যাচারাল অ্যান্টি-সেফটিক (Anti-Septic) বলা হয়। স্কিন ব্লেমিশ, একনে, ফাঙ্গাল ইনফেকশন অর্থাৎ অয়েলি স্কিনে যে ধরণের প্রবলেমগুলো দেখা যায়, সেগুলো কমিয়ে আনতে টি ট্রি অয়েল দারুণ কাজ করে।
৩) গ্লাইকলিক অ্যাসিড (Glycolic acid)
তৈলাক্ত ত্বকের যত্ন নিতে এই উপাদানটি বেশ ভালো কাজ করে। গ্লাইকলিক অ্যাসিড হচ্ছে এক প্রকার আলফা হাইড্রোক্সি এসিড (Alpha hydroxy acid)। এটা স্কিনের অতিরিক্ত তেল ও শাইনিভাব কমাতে হেল্প করে। সেই সাথে পোর বন্ধ হয়ে যাওয়া রোধ করে এবং ব্রেকআউট থেকে রক্ষা করে। গ্লাইকলিক অ্যাসিড স্কিনের টেক্সচার সুন্দর রাখে, যার কারণে স্কিন ফ্ললেস দেখায়।
৪) হায়ালুরনিক অ্যাসিড (Hyaluronic acid)
হায়ালুরনিক অ্যাসিড স্কিনের গভীর থেকে কাজ করে প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা লক করে রাখে। হাইড্রেশন লেভেল ঠিক না থাকলে স্কিনে বিভিন্নরকম সমস্যা দেখা দেয়। অয়েলি স্কিনে সেবাম বেশি থাকে, তার মানে এই নয় যে এটা হাইড্রেটেড স্কিন! হাইলুরনিক অ্যাসিড স্কিনের অসামঞ্জস্য রঙ, ফাইন লাইনস এগুলোর বিরুদ্ধেও পরোক্ষভাবে কাজ করে।
৫) গ্রিন টি
গ্রিন টি তে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও স্কিনের জন্য উপকারী পলিফেনল (Polyphemus) পাওয়া যায়, যেটা ব্রণ এবং তৈলাক্ত ত্বকের জন্য খুব ভালো কাজ করে। ব্যাকটেরিয়াল গ্রোথ ও হরমোনাল একনে কমানোর জন্য গ্রিন টি অত্যন্ত কার্যকরী।
Latest
For Advertisement
- সহযোগী-সম্পাদক: হাসিনা রহমান শিপন
- সহ -সম্পাদক: রাশিকুর রহমান রিফাত
- নিউজ রুম ইনচার্জ : তাসফিয়া রহমান সিনথিয়া
Developed by WebsXplore