হোম / খেলাধুলা / বিস্তারিত
ADS

মিরাজ ঝলকে বাংলাদেশের অবিশ্বাস্য জয়

4 December 2022, 11:21:48

ধ্বংসস্তূপ বা খাদের কিনারা বলতে যা বুঝায়, সেখানেই দাঁড়িয়ে ছিল বাংলাদেশ দল। ভারতের দরকার ছিল একটি মাত্র উইকেট। আর শেষ উইকেটে বাংলাদেশের করতে হতো ৫১ রান। এমন রেড লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা বাংলাদেশকে উদ্ধার করলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। যোগ্য সারথী হিসেবে তাকে সঙ্গ দিলেন মুস্তাফিজুর রহমান। মেহেদীর অনবদ্য ব্যাটিং ও মুস্তাফিজের দৃঢ়তায় ভারতের বিপক্ষে এলো অবিশ্বাস্য জয়। ৩৯ বলে ৩৮ রানের ইনিংস খেলে ইতিহাসের নায়ক হয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ।

শেষ উইকেটে পঞ্চাশের বেশি রান দরকার, ভারতের বিপক্ষে এমন ম্যাচে আগে কখনো জেতেনি লাল সবুজের জার্সিধারীরা। সব স্নায়ু চাপকে মুঠোবন্দি করে বাংলাদেশকে জয়ে রাঙালেন মিরাজ। এমন পরিস্থিতেও ঘুরে দাঁড়ানো যায়, খাদের কিনারা থেকে তুলে জয় ছিনিয়ে আনা যায়। যা করার সবই করে দেখিয়েছেন মিরাজ। বোলার মোস্তাফিজকে সঙ্গে নিয়ে ভারতীয় বোলারদের চোখ রাঙানির মধ্যেই ম্যাচের ৪ ওভার বাকি থাকতে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় টিম বাংলাদেশ।

১ উইকেটের ইতিহাস গড়া উত্তেজনাকর এ জয়ের প্রত্যক্ষ স্বাক্ষী হয়েছেন মিরপুরের দর্শকরা। রবিবার দুপুর ১২টায় মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে ভারত ও বাংলাদেশের তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচটি ম্যাঠে গড়ায়।

এদিন টস জিতে ভারতকে ব্যাটিংয়ে পাঠান স্বাগতিক বাংলাদেশের অধিনায়ক লিটন দাস।

মাঠে নেমেই দারুণ সূচনা পায় বাংলাদেশ। ভারতীয় ওপেনার শিখর ধাওয়ানকে শুরুতেই প্যাভিলিয়নে ফেরান টাইগার স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ। পরে অবশ্য দুই তারকা ব্যাটার রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলির ব্যাটে প্রতিরোধ গড়ে ভারত।

তবে টাইগার অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের স্পিন ঘূর্ণিতে ভেঙে যায় প্রতিরোধের দেয়াল। নিজের দ্বিতীয় বলে ভারতীয় অধিনায়ক রোহিতকে বোল্ড আউট করেন সাকিব। এর ঠিক ২ বল পরেই ফেরান কোহলিকে। রানের খাতায় তিন অঙ্ক ছোয়ার আগেই তিন উইকেট হারিয়ে বিপাকে থাকা ভারত চতুর্থ উইকেট জুটিতে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করে।

তবে টাইগার পেসার এবাদত হোসেনের গতির তোপে উইকেট হারাতে বাধ্য হয় ভারত। এবাদতের বলে ক্যাচ দিয়ে মাঠ ছাড়েন শ্রেয়াস আইয়ার। ফেরার আগে লোকেশ রাহুলের সঙ্গে চতুর্থ উইকেটের জুটিতে ৪৩ রান যোগ করেন ভারতীয় এ ব্যাটার। ২৪ রান করে এবাদতের বলে টপ এজের শিকার হয়ে মুশফিকুর রহিমের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান তিনি। এরপর নিয়মিত বিরিতিতে উইকেট হারাতে থাকে ভারত।

একই স্পেলের পরের ওভারে আরো ২ উইকেট তুলে নেন বাংলাদেশ ক্রিকেটের এই পোস্টার বয় সাকিব আল হাসান। ওই ওভারে শার্দুল ঠাকুর ও দীপক চাহারকে ফিরিয়ে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের চতুর্থ ফাইফার (৫ উইকেট) তুলে নেন সাকিব। পরে এবাদতের বোলিং তাণ্ডবে থামে ভারতের ইনিংস। দলের হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন লোকেশ রাহুল। ৭০ বলে ৭৩ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন তিনি। এছাড়া আর কোনো ব্যাটার তিন অংক ছুতে পারেনি।

সাকিবের স্পিন ঘূর্ণি ও এবাদতের গতির ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে ভারতের ব্যাটিং দুর্গ। ম্যাচে ৯ ওভার বাকি থাকতেই সবকটি উইকেটে হারিয়ে ১৮৬ রানে থামে টিম ইন্ডিয়ার রানের চাকা।

ম্যাচে ১০ ওভার করে ৩৬ রান দিয়ে ৫ উইকেট তুলে নেন টাইগার অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। এছাড়া ৮.২ ওভার বল করে ৪৭ রান দিয়ে ৪ উইকেট তুলে নিয়েছেন তরুণ টাইগার পেসার এবাদত হোসেন।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে প্রথম বলেই গোল্ডেন ডাকে ফেরেন নাজমুল হোসেন শান্ত। ভারতীয় পেসার দীপক চাহারের আউটসুইংয়ে খোঁচা দিতে গিয়ে স্লিপে রোহিত শর্মার হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন টাইগার এ ওপেনার।

দ্বিতীয় উইকেটের জুটিতে দলকে এগিয়ে নেন অধিনায়ক লিটন দাস ও আনামুল হক বিজয়। তবে মাঠে বেশি সময় থিতু হতে পারেননি আনামুল বিজয়। দলীয় ২৬ রানে সিরাজের বলে ক্যাচ দিয়ে সাঁজ ঘরে ফেরেন তিনি।

পরে চতুর্থ উইকেট জুটিতে অবশ্য সাকিব ও লিটন ৪৮ রানের জুটি গড়েন। ব্যক্তিগত ৪১ রান করে ওয়াশিংটন সুন্দরের বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরে যান লিটন। এরপর মুশফিকের সঙ্গে ২১ রানের ছোট জুটি গড়েন সাকিব। ব্যক্তিগত ২৯ রানে কোহলির একটি অসাধারণ ক্যাচে আউট হন সাকিব। দলের বিপর্যয়ে উইকেট ধরে রেখেও টিকতে পারেননি মুশফিক-মাহমুদুল্লাহ। ৩৪ বলে ১৪ রান করে মাহমুদুল্লার ফেরার পর ৪৫ বলে ১৮ রান করা মুশফিকও ফিরে যান।

তখন বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩৬ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৩০ রান। ক্রিজে ছিলেন আফিস হোসেন ও মেহেদী মিরাজ। আফিফ, এবাদত ও হাসান মাহমুদরা একেক করে প্যাভিলিয়নে ফিরে গেলেও আশার বাতি হয়ে জ্বলছিলেন মেহেদী মিরাজ।

নাটকীয়তার শুরু তখনই, সবশেষ ব্যাটার মুস্তাফিজুর রহমান যখন মেহেদী হাসান মিরাজের সঙ্গী হয়ে ক্রিজে নামেন তখনও হয়ত কেউ কেউ ভাবেননি বাংলাদেশ ম্যাচতি জিতে নেবে। কারণ তখনও করতে হবে পঞ্চাশের বেশি রান।

ভারতের বোলিং তোপে যখন বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ ব্যর্থ হয়েছে তখন তাদের এই জুটির ওপর বাজি ধরার মানুষ কম হওয়াই স্বাভাবিক। কিন্তু সব অসম্ভবকে সম্ভবে পরিণত করলেন মেহেদী মিরাজ। মুস্তাফিজকে সঙ্গে নিয়ে খাদের কিনারে পড়ে থাকা বাংলাদেশকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন তিনি। জয়ের রানটি আসে বাউন্ডারি থেকে।

ম্যাচে ভারতীয় পেসার সিরাজ ৩টি, কুলদীপ সেন ও ওয়াশিংটন সুন্দর ২টি এবং দীপক চাহার, শার্দুল ঠাকুর ১টি করে উইকেট নেয়।

সংক্ষিপ্ত স্কোর: ভারত: ১৮৬/১০ (৪১.২) বাংলাদেশ: ১৮৭/৯ (৪৬) ফলাফল: বাংলাদেশ ১ উইকেটে জয়ী। ম্যাচ সেরা: মেহেদী হাসান মিরাজ ৩৮* (৩৯), ১ (৯)।

বাংলাদেশের একাদশ: লিটন কুমার দাস (অধিনায়ক), আনামুল হক বিজয়, সাকিব আল হাসান, আফিফ হোসেন, নাজমুল হোসেন শান্ত, মুশফিকুর রহিম, এবাদত হোসেন, হাসান মাহমুদ, মুস্তাফিজুর রহমান, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ এবং মেহেদী হাসান মিরাজ।

ভারতীয় একাদশ: রোহিত শর্মা (অধিনায়ক), বিরাট কোহলি, লোকেশ রাহুল, শিখর ধাওয়ান, শ্রেয়াস আইয়ার, ওয়াশিংটন সুন্দর, শার্দুল ঠাকুর, দীপক চাহার, মোহাম্মদ সিরাজ, কুলদীপ সেন, শাহবাজ আহমেদ।

প্রসঙ্গত, এ সিরিজে ৩টি ওয়ানডে ও ২টি টেস্ট ম্যাচ খেলবে দুদল। আগামী ৭ ডিসেম্বর দুপুর ১২টায় মিরপুর শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে মাঠে গড়াবে ম্যাচ। এছাড়া শেষ ওয়ানডে ম্যাচটি হবে ১০ ডিসেম্বর দুপুর ১২ টায় চট্টগ্রাম জহুর আহমেদ স্টেডিয়ামে। পরে দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচটি শুরু হবে ১৪ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ৯টায় চট্টগ্রাম জহুর আহমেদ স্টেডিয়ামে। এছাড়া শেষ টেস্ট আগামী ২২ ডিসেম্বর মিরপুর শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সকাল সাড়ে ৯টায় মাঠে গড়াবে।

ADS ADS

প্রতিছবি ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Comments: