স্পিকার দেশে ফিরলেই পদত্যাগপত্র দিতে পারেন রাষ্ট্রপতি

23 July 2026, 6:49:40

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে বঙ্গভবন সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে। তবে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বর্তমানে দেশের বাইরে থাকায় পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া বিলম্বিত হচ্ছে।

বঙ্গভবনের একাধিক কর্মকর্তা ও রাষ্ট্রপতির ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের ভাষ্য, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি স্পিকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরযুক্ত পত্র দিয়ে পদত্যাগ করেন। স্পিকার বর্তমানে থাইল্যান্ডে চিকিৎসাধীন থাকায় এখনই পদত্যাগপত্র জমা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

এ বিষয়ে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব মো. নূরুল আমীন গণমাধ্যমে বলেন, রাষ্ট্রপতি এখনো পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করেননি। তিনি পদত্যাগ করলে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।

২০২৩ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন মো. সাহাবুদ্দিন। ওই বছরের ২৪ এপ্রিল তিনি শপথ নেন। বর্তমান মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা।

বঙ্গভবনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সেটি স্বাস্থ্যগত কারণেই হোক বা মানসিক কারণে—তিনি এ বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন। তবে স্পিকার দেশে না থাকায় সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এখনই পদত্যাগ করা যাচ্ছে না।

রাষ্ট্রপতির ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রও জানিয়েছে, স্পিকার দেশে ফিরলেই রাষ্ট্রপতি পদত্যাগপত্র জমা দিতে পারেন। এ বিষয়ে তিনি তাঁর কর্মকর্তাদেরও প্রস্তুত থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, চিকিৎসার জন্য গত ১৯ জুলাই স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ থাইল্যান্ডে যান। তাঁর ২৬ জুলাই দেশে ফেরার কথা থাকলেও এর আগেই তিনি ফিরতে পারেন।

সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, স্পিকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরযুক্ত পত্র পাঠিয়ে রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করতে পারেন। আর রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

প্রতিছবি ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।