পবিত্র শহর কোমে পৌঁছেছে খামেনির মরদেহ, শোকমিছিলে লাখো মানুষের ঢল

7 July 2026, 5:38:33

ইরানের নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মরদেহ আজ মঙ্গলবার পবিত্র শহর কোমে পৌঁছেছে। রাজধানী তেহরানে টানা তৃতীয় দিনের মতো তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে রাস্তায় নেমেছে বিপুলসংখ্যক মানুষ। আগামী বৃহস্পতিবার নিজ শহর মাশহাদে তাকে দাফন করা হবে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হেলিকপ্টারে করে তেহরানের দক্ষিণে অবস্থিত পবিত্র শহর কোমে খামেনির মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে শোকযাত্রা শেষে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের শহর মাশহাদে দাফনের প্রস্তুতি চলছে।

এর আগে রাজধানী তেহরানে টানা তৃতীয় দিনের মতো লাখো মানুষ রাস্তায় নেমে শেষ শ্রদ্ধা জানান। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের দাবি, শোকযাত্রায় মানুষের উপস্থিতি ১৯৮৯ সালে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রতিষ্ঠাতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির জানাজার সমাবেশের সঙ্গে তুলনীয়।

শোকযাত্রায় একটি ট্রাকে খামেনির মরদেহের পাশাপাশি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল হামলায় নিহত তার পরিবারের চার সদস্যের মরদেহ বহন করা হয়। এ সময় শোকাহত মানুষ কফিনের ওপর ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে শ্রদ্ধা জানান। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, নিহতদের মধ্যে খামেনির ১৪ মাস বয়সী নাতনির ছোট কফিনও ছিল।

শোকযাত্রায় অংশ নেওয়া হামিদ নামে এক ব্যক্তি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানকে বিভক্ত করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু আমাদের নেতা সেই বিভক্তি প্রতিরোধ করেছেন। তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতেই আমি এখানে এসেছি।’

আরেক শোকাহত মারজিয়েহ বলেন, ‘আমরা আমাদের শহিদ নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এসেছি। তার রক্ত বৃথা যাবে না—এই বার্তা দিতেই আমরা এখানে উপস্থিত হয়েছি।’

এদিকে খামেনির উত্তরসূরি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া তার ছেলে মোজতবা খামেনি এখনো জনসমক্ষে আসেননি। গত সপ্তাহে দায়িত্ব গ্রহণের পরও তিনি জানাজা বা শোকানুষ্ঠানে প্রকাশ্যে অংশ নেননি।

তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক মোহাম্মদ এসলামী বলেন, ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছে। নিরাপত্তাজনিত কারণেই মোজতবা খামেনি জনসমক্ষে আসছেন না বলে তিনি মনে করেন।

রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএর বরাতে জরুরি সেবা বিভাগের প্রধান জাফর মিয়াদফার জানিয়েছেন, শোকানুষ্ঠানে অংশ নেওয়া ৩৪ হাজারের বেশি মানুষকে চিকিৎসা ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হয়েছে। তবে কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।

শোকযাত্রায় অংশ নেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি, বিচার বিভাগের প্রধান গোলামহোসেইন মোহসেনি এজেই, কুদস ফোর্সের প্রধান ইসমাইল কানি এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদসহ দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তারা।

প্রতিছবি ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।