রমজানে শরীরের ক্লান্তি দূর করে খেজুর, বাড়ায় কর্মক্ষমতা
মহান আল্লাহর অপূর্ব সৃষ্টি খেজুর পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীনতম ফল। প্রায় দেড় হাজার বছর পূর্বে প্রিয়নবী (সা.) এই মহাগুণ সমৃদ্ধ ফল খেজুর খেতে উৎসাহিত করেছেন। খেজুরকে বলা হয় রাজকীয় ফল। শুধু অতুলনীয় স্বাদ আর গন্ধের জন্য নয়, খেঁজুরের খ্যাতি তার অসাধারণ রোগ নিরাময়ের জন্যও।
ইসলাম ধর্মে খেজুরের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। হাদিসে বর্ণিত আছে, প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ খেজুর খাওয়া শরীরের জন্য উপকারী। রোজা ভাঙার সময় খেজুর খাওয়ার প্রচলনও সেই ঐতিহ্যেরই অংশ।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, পুষ্টিগুণে ভরপুর এই ফলটি নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখলে শরীরের শক্তি বৃদ্ধি, রোগ প্রতিরোধ এবং সামগ্রিক সুস্থতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
পবিত্র রমজান মাসে ইফতারের টেবিলে সবচেয়ে জনপ্রিয় ফল খেজুর। ধর্মীয় গুরুত্বের পাশাপাশি পুষ্টিগুণে ভরপুর এই ফল শরীরের কর্মশক্তি বাড়াতে এবং নানা রোগ প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখে বলে জানিয়েছেন পুষ্টিবিদরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, খেজুর পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীন ফল। সংস্কৃত ‘খর্জুর’ শব্দ থেকে বাংলা ‘খেজুর’ নামের উৎপত্তি। খেজুরের বৈজ্ঞানিক নাম ফিনিক্স ড্যাকটিলিফেরা। মরু অঞ্চলে জন্মানো এই তালজাতীয় গাছ মূলত মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকায় ব্যাপকভাবে চাষ হয়। বর্তমানে মিসর, সৌদি আরব, ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিশ্বের বহু দেশে এর উৎপাদন বিস্তৃত হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে খেজুরকে ‘ট্রি অব লাইফ’ বা জীবন বৃক্ষ বলা হয়। বিশেষ করে সৌদি আরব-এ খেজুরের উৎপাদন ও ব্যবহার ব্যাপক। দেশটিতে শতাধিক প্রজাতির খেজুর পাওয়া যায়, যার মধ্যে আজওয়া, সাফাওয়ি, বার্হি, খালাস ও মাবরুম উল্লেখযোগ্য।
বিশ্বের উৎকৃষ্ট খেজুরের মধ্যে অন্যতম আজওয়া খেজুর, যা সৌদি আরবের মদিনা অঞ্চলে বেশি উৎপাদিত হয়। পুষ্টিগুণ ও মানের দিক থেকে এটি প্রথম সারির খেজুর হিসেবে বিবেচিত। এ ছাড়া ‘মেডজুল’ বা ‘খেজুরের রাজা’ নামেও একটি জনপ্রিয় প্রজাতি রয়েছে।
পুষ্টিবিদদের মতে, খেজুরে রয়েছে প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, আয়রন, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, ম্যাগনেশিয়াম, পটাশিয়াম, জিঙ্কসহ নানা প্রয়োজনীয় উপাদান। প্রায় ৩০ গ্রাম খেজুরে থাকে প্রায় ৯০ ক্যালোরি, ১ গ্রাম প্রোটিন, উল্লেখযোগ্য পরিমাণ আঁশ ও ক্যালসিয়াম।
প্রাকৃতিক শর্করায় সমৃদ্ধ হওয়ায় খেজুর দ্রুত শরীরে শক্তি জোগায় এবং ক্লান্তি দূর করে। রোজার দিনে সারাদিন উপবাসের পর খেজুর খেলে শরীরে তাৎক্ষণিক শক্তি ফিরে আসে। জেনে নিন খেজুর খাওয়ার স্বাস্থ্য উপকারিতা।
কর্মশক্তি বৃদ্ধি: ম্যাগনেশিয়াম, আয়রন ও ভিটামিন সমৃদ্ধ খেজুর শরীরকে সক্রিয় রাখে এবং ক্লান্তি দূর করে।
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ: খেজুরে থাকা পটাশিয়াম ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে এবং হৃদযন্ত্রের সুরক্ষা দেয়।
স্নায়ুতন্ত্রের উন্নতি: ভিটামিন বি কমপ্লেক্স মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়ায় এবং স্মৃতিশক্তি উন্নত করে।
রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি: নিয়মিত খেজুর খেলে সর্দি-কাশি, জ্বর ও সংক্রমণ প্রতিরোধে শরীর শক্তিশালী হয়।
দৃষ্টিশক্তি উন্নত: খেজুরে থাকা লিউটিন ও জিয়াজ্যানথিন চোখের রেটিনাকে সুরক্ষিত রাখে এবং দৃষ্টিশক্তি বাড়ায়।
হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়: পটাশিয়াম ও আঁশ খারাপ কোলেস্টেরল কমিয়ে হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস করে।
হজমে সহায়ক: ফাইবারসমৃদ্ধ খেজুর কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে এবং হজমশক্তি বাড়ায়।
হাড় ও পেশির সুরক্ষা: ক্যালসিয়াম ও প্রোটিন হাড় ও পেশি মজবুত রাখতে সহায়তা করে।
ত্বকের যত্নে কার্যকর: খেজুরে থাকা ভিটামিন ও খনিজ ত্বককে আর্দ্র রাখে এবং বয়সের ছাপ কমায়।
রক্তাল্পতা প্রতিরোধ: আয়রনসমৃদ্ধ খেজুর শরীরে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়াতে সহায়তা করে।
ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য সতর্কতা
বিশেষজ্ঞরা জানান, খেজুরে প্রাকৃতিক চিনি থাকলেও পরিমিত পরিমাণে খেলে এটি রক্তে শর্করার ওপর অতিরিক্ত প্রভাব ফেলে না। তবে ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে প্রতিদিন ১–২টি খেজুর খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
প্রতিছবি ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
