ইন্টারনেট
ADS

খাজা টাওয়ারে আগুন: সারাদেশে ইন্টারনেট ও মুঠোফোন সেবা ব্যাহত

26 October 2023, 10:28:03

মহাখালীর খাজা টাওয়ারে লাগা আগুনের কারণে সারাদেশের ইন্টারনেট ও টেলিযোগাযোগ সেবা ব্যাহত হচ্ছে। দৈনন্দিন কার্যক্রম শেষ করতে বিপাকে পড়েছে বহু প্রতিষ্ঠান। চেক ক্লিয়ার করতে পারেনি অনেক ব্যাংক।

ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আইএসপিএবি) জানায়, আগুন লাগার কারণে সারাদেশে মাত্র ৩০ শতাংশ ইন্টারনেট সেবা দিতে পারছে ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো। কারণ, ভবনটিতে বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট গেটওয়ে (আইআইজি) সার্ভিস প্রোভাইডার, ডাটা সেন্টার এবং ইন্টারকানেকশন এক্সচেঞ্জের (আইসিএক্স) অপারেশন সেন্টার আছে।

বৃহস্পতিবার বিকাল পৌনে পাঁচটার দিকে মহাখালীর খাজা টাওয়ারে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। এরপর থেকেই সারাদেশে ইন্টারনেট সেবা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।ব্রডব্যান্ড এবং মোবাইল, কোথাও ঝামেলাহীন ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারছেন না গ্রাহকরা।

আগুনের ফলে রাজধানী ঢাকা শহরের বেশিরভাগ এলাকা ইন্টারনেটহীন অবস্থায় আছে বলে জানায় আইএসপিএবি। সংগঠনটির সভাপতি ইমদাদুল হক জানান, কয়েকটি আইআইজি অপারেটর ওই ভবন থেকে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে, যেখান থেকে ব্যান্ডউইথ পায় ব্রডব্যান্ড ও টেলিকম সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো। আইআইজি থেকে ব্যান্ডউইথ না পাওয়ায় মোবাইল ইন্টারনেট ও ভয়েস সংযোগও ব্যাহত হবে।

তিনি ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘সারাদেশের ৭০ শতাংশ ইন্টারনেট ব্রডব্যান্ডের মাধ্যমে খাজা টাওয়ার থেকে দেওয়া হতো। এখানে আগুন লাগায় সারাদেশেই ইন্টারনেটসেবা ব্যহত হচ্ছে। কিছু কিছু জায়গায় ইন্টারনেট সেবা পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। কয়েকটি জায়গায় বিকল্প ব্যবস্থা থাকায় ইন্টারনেট সেবা পাওয়া যাচ্ছে। তবে সেসব জায়গাতেও ইন্টারনেট কানেকশন দুর্বল।’

এদিকে সারাদেশের ইন্টারনেটসেবা ব্যাহত হওয়ায় সমস্যায় পড়ছেন গ্রাহকরা। ব্রডব্যান্ড সেবার পাশাপাশি মোবাইল ইন্টারনেটেও ধীরগতি লক্ষ্য করা গেছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় এ সেবাটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ইন্টারনেটকেন্দ্রীক কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটছে। অনেকগুলো ব্যাংক গ্রাহকদের চেক ক্লিয়ারিং করতে পারেনি। এ কারণে অনেক গ্রাহকের লেনদেন সম্পন্ন হয়নি। এছাড়া বিকাল ৫টার পর থেকে ইন্টারনেটের মাধ্যমে করা অনলাইন ব্যাংকিং সুবিধা বন্ধ রয়েছে।

ইন্টারনেট কেন্দ্রীক বেশকিছু প্রতিষ্ঠান যেমন আইটি হাউস, পত্রিকা, অনলাইন পত্রিকা, টিভি চ্যানেল এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম প্রায় বন্ধ অবস্থায় রয়েছে। ঢাকা কেন্দ্রীক পরিচালিত হওয়া কোনো পত্রিকা বা অনলাইন পত্রিকা নির্বিঘে কাজ করতে পারছে না বলে জানা গেছে। অতিপ্রয়োজনীয় এ সেবাটি বন্ধ হওয়ায় বিমান, ট্রেন, বাস ও লঞ্চের অনলাইন টিকিট কাটা যাচ্ছে না।

সন্ধ্যায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রেহনুমা আফরিন ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘ইন্টারনেটের সঙ্গে এমনভাবে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলাম যে এখন নেট না থাকায় খারাপ লাগছে। অফিসে বসেও কোনো কাজ করতে পারছি না। কারণ আমার কাজই ছিল ইন্টারনেট বেজড। বাসায় ছোট সন্তান ও বৃদ্ধ মা-বাবা রয়েছেন। প্রতিদিন সন্ধ্যায় কাজের ফাকে ভিডিও কলে তাদের সঙ্গে কথা বলতাম। আজ তা পারছি না। এমনকি মোবাইলের নেটওয়ার্কও নেই। যার ফলে কোনোভাবেই যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। একটু অস্বস্তি লাগছে।’

একইরকম কথা বলেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আবু জাফর মজুমদার। তিনি বলেন, ‘ইন্টারনেট না থাকার কারণে কোনো কাজই স্বাচ্ছন্দে করতে পারছি না। অফিসের কাজ শেষ না করতে পারলে কাজ জমে যাবে। পরবর্তীতে প্রেসার হবে। আর আমাদের অফিস হলো প্রতিদিনের কাজ প্রতিদিন করতে হয়। কোনোভাবেই ফেলে রাখার সুযোগ নেই। কিন্তু ইন্টারনেটের অভাবে কোনো কাজই করতে পারছি না।’

সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন ফ্রিল্যান্সাররা। এ খাতের কর্মীদের কাজ সম্পূর্ণ ইন্টারনেট ভিত্তিক। ইন্টারনেট সেবা ব্যহত হওয়ায় কাজ করতে পারছেন না তারা। এ বিষয়ে রবিউল ইসলাম ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘আমার কাজ পুরোটাই ইন্টারনেটের উপর নির্ভরশীল। আমেরিকান এবং জার্মানির দুটি কোম্পানির কাজ করি আমি। সপ্তাহের শেষের দিকে কাজের একটু প্রেশার থাকে। কাজ করতে পারছি না। প্রতিটি কাজের একটি নির্দিষ্ট সময় দেওয়া থাকে। নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ করতে না পারলে রেটিং খারাপ হয়। যার ফলে পরবর্তীতে কাজ পেতে কষ্ট হয়। প্রতিশ্রুত অর্থও দেয় না কাজদাতা প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি।’

খাজা টাওয়ারের আগুন নেভাতে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ১১টি ইউনিট। ইন্টারনেট সেবা কখন স্বাভাবিক হবে তা এখনই বলতে পারছেন না সংশ্লিষ্টরা।

ADS ADS

প্রতিছবি ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Comments: