For Advertisement
ভাষার জন্য পাকিস্তানিরা একের পর এক অত্যাচার করেছিল: প্রধানমন্ত্রী
বাংলা ভাষার জন্য পাকিস্তানিরা একের পর এক অত্যাচার করেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বায়ান্নের একুশে ফেব্রুয়ারির দিন স্মরণ করে তিনি বলেছেন, এই দিনে রক্তের অক্ষরে মাকে মা ডাকার অধিকার অর্জন করেছি।
মহান শহীদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে মঙ্গলবার ঢাকার সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন।
এর আগে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে চার দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠান উদ্বোধনের পর বক্তব্য দেন তিনি।
ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘উজানে নাউ ঠেলেই আমাদের যেতে হয়েছে। আর সেভাবেই আমাদের স্বাধীনতা অর্জন করতে হয়েছে। আর সেভাবেই আমরা এগিয়ে যাবো। আমরা শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি, অর্থনৈতিক উন্নতি, সবকিছু মিলিয়ে বাঙালি জাতি বিশ্বে মাথা উচু করে দাঁড়াবে।’
মাতৃভাষায় শিক্ষার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নিজের ভাষা ছাড়া কখনও নিজের মনের কথা প্রকাশ করা সম্ভব হয় না। জাতির পিতা একথা বলেছেন, অন্য ভাষা শেখায় তার আপত্তি নেই। মাতৃভাষায় শিক্ষা হলে কোনো কিছু জানা বোঝা বা প্রকাশ করবার সুবিধা অনেক বেশি। পাশাপাশি অন্যান্য ভাষা শিক্ষা নেয়াও ভালো।’
সহজে ভাষা শেখার জন্য একটি অ্যাপস চালু করা হয়েছে জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, ‘আমরা চাই আমাদের দেশ এগিয়ে যাক। আমরা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস স্বীকৃতি পেয়েছি। এই স্বীকৃতি পাওয়ার পর আমার মনে হলো আমাদের ওপর অনেক বড় দায়িত্ব এসেছে। পৃথিবীর অনেক দেশের মাতৃভাষা হারিয়ে যাচ্ছে।’
‘নিজের ভাষার পাশাপাশি এক-দুইটা ভাষা আমাদের ছেলেমেয়েরা শিখতে পারে। এখন ডিজিটাল যুগ অনেক সহজেই এগুলো শেখার সুযোগ আছে। ২০০১ সালে মাতৃভাষা ইন্সটিটিউটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলাম, সেবছর আমি সরকার আসতে পারিনি। সেসময় যারা ক্ষমতায় এসেছিল তারা এই কাজ বন্ধ করে দেয়। কেন বন্ধ করেছিল জানি না। তারা অবশ্য ভালোই করেছিল একাজ করে। আমি আবার ক্ষমতায় এসে নিজের মতো করে মাতৃভাষা ইন্সটিটিউট গড়ে তোলার সুযোগ পেয়েছি।’
মাতৃভাষা ইন্সটিটিউটে বিশ্বের বিপন্ন ভাষাগুলো সংরক্ষণের পাশাপাশি সেগুলি নিয়ে গবেষণার তাগিদ দেন সরকারপ্রধান। ভাষার ইতিহাস রাখার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বাংলা ভাষায় কথা বলি, এটারও ইতিহাস আছে। আমাদের ওপর উর্দু চাপিয়ে দেয়া হলো এবং বলা হলো উর্দু নাকি মুসলমানদের ভাষা। আর বাংলা যেখান থেকে এসেছে এটা নাকি হিন্দু ভাষা। ভাষার উৎপত্তি কোথায় যুগের সঙ্গে সেটা পরিবর্তন হয়। এজন্য আমরা মনে করি সেভাবে একটা ব্যবস্থা নেয়া উচিত।’
আন্তজার্তিক মাতৃভাষা ইন্সটিটিউটে গবেষণার জন্য সমস্ত কিছু করা হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এজন্য কিছু ফান্ড লাগলেও আমি দেবো। গবেষণা ছাড়া কোনো বিষয়ই উৎকর্ষ সাধন করা যায় না।’
‘আজকে আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে পেরেছি গবেষণার ফলেই। সুতরাং এই ইন্সটিটিউটের দরকার সারা বিশ্বে যতগুলো ভাষা আছে সবকিছু নিয়ে সংরক্ষণ করা, গবেষণা করা ও ভাষার ইতিহাস জানা।’
Latest
For Advertisement
- সহযোগী-সম্পাদক: হাসিনা রহমান শিপন
- সহ -সম্পাদক: রাশিকুর রহমান রিফাত
- নিউজ রুম ইনচার্জ : তাসফিয়া রহমান সিনথিয়া
Developed by WebsXplore