For Advertisement
বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে ভোজ্য তেল
মিল মালিকরা দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিলেও তাতে সম্মতি দেয়নি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। কিন্তু এরই মধ্যে বাজারে ভোজ্য তেলের দাম বেড়েছে। বর্তমানে বাজারে সব ধরনের ভোজ্য তেল বিক্রি হচ্ছে নির্ধারিত দামের চেয়ে পাঁচ থেকে ১৪ টাকা বেশিতে।
এ ছাড়া দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়ার আগে কিছু ব্র্যান্ড কম্পানির তেল বিক্রি হয়েছিল গায়ের মূল্যের চেয়ে তিন-চার টাকা কমে।
এখন সেই ছাড়ও পাওয়া যাচ্ছে না খুচরা বাজারে।
বিক্রেতারা বলছেন, সরকারের নির্ধারিত দামের পরিবর্তে তাঁদের দেখতে হয় কম্পানি তাঁদের কাছ থেকে কত রাখে। সে অনুসারে তাঁদের বিক্রি করতে হয়। সরকার অনুমোদন না দিলেও কম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিরা তাঁদের কাছ থেকে বাড়তি দাম রাখছেন। তাই তাঁদেরও দাম বাড়াতে হয়েছে।
গত ২ জানুয়ারি ভোজ্য তেল পরিশোধন কারখানাগুলোর সমিতির পক্ষ থেকে তেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তারা সয়াবিনের দাম লিটারে অন্তত আট টাকা এবং পাম তেল লিটারে ১১ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়। তবে এ বিষয়ে গত বুধবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের বৈঠকের পর আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দাম না বাড়ানোর কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।
বৈঠক শেষে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নেয়, যথাযথ হিসাব-নিকাশ ছাড়া কিছু করা যাবে না। আর এ জন্য সময় লাগবে কমপক্ষে ১৬ দিন। বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘দাম বাড়ার হলে বাড়বে, কমার হলে কমবে। তবে বিচার-বিশ্লেষণ ছাড়া কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না। ব্যবসায়ীরা আমাদের না জানিয়ে নিজেরা কিছু দাম বাড়িয়েছিলেন। আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বর্তমান দামই থাকবে। সব কিছু বিবেচনা করে এরপর যেটা সুবিধাজনক হয়, সেটাই করা হবে। ’
এর আগে গত ১৭ অক্টোবর ভোজ্য তেলের দাম বাড়ানো হয় লিটারপ্রতি সাত টাকা পর্যন্ত। সর্বশেষ নির্ধারিত দাম অনুসারে খোলা সয়াবিন খুচরায় প্রতি লিটার সর্বোচ্চ ১৩৬ টাকা, এক লিটার বোতলজাত সর্বোচ্চ ১৬০ টাকা, পাঁচ লিটার ৭৬০ টাকা, খোলা পাম ১১৮ টাকায় বিক্রি হওয়ার কথা।
গতকাল শনিবার বিভিন্ন খুচরা বাজার ঘুরে দেখা যায়, খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১৫৫ থেকে ১৫৮ টাকা কেজি। সে হিসাবে প্রতি লিটারের দাম হয় ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকা। এক লিটার বোতলজাত তেল বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ১৬৫ টাকায়। দাম বাড়ানোর প্রস্তাবের আগে অনেক কম্পানি বোতলজাত তেলে ছাড় দিয়ে ১৫৫ টাকায়ও বিক্রি করছিল। এখন সেই ছাড় তো নেই-ই, বরং নির্ধারিত দামের চেয়েও বেশিতে বিক্রি হচ্ছে। এক লিটার বোতলজাত তেল কিনতে ব্র্যান্ডভেদে এখন দিতে হচ্ছে ১৬০ থেকে ১৬৫ টাকা। পাঁচ লিটারের বোতল কিনতে দিতে হচ্ছে ৭৪৫ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত। বিক্রেতারা জানিয়েছেন, যাঁদের কাছে আগের কেনা তেল রয়েছে, তাঁরাই কিছুটা কমে বিক্রি করছেন। নতুন কেনা বোতল বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। কারণ তাঁদের কেনার খরচ বেড়েছে।
গতকাল সরকারি প্রতিষ্ঠান টিসিবির হিসাবে দেখা যায়, খোলা সয়াবিন বিক্রি হচ্ছে ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকা লিটার। সে হিসাবে দাম বেড়েছে ৯ থেকে ১৪ টাকা। এক লিটার বোতলজাত তেল ১৬০ থেকে ১৬৫ টাকায়, পাঁচ লিটার ৭৪৫ থেকে ৮০০ টাকা এবং এক লিটার খোলা পাম তেল বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকায়। বাজারের কিছু দোকানে ভোজ্য তেলের বোতলের গায়ে মূল্য লেখা দেখা গেল না। কিছু দোকানে বোতলের গায়ে মূল্য লেখা থাকলেও দাম চাওয়া হচ্ছে বাড়তি।
বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের (বিটিটিসি) তথ্য বলছে, বছরে দেশে ২০ লাখ টন ভোজ্য তেলের চাহিদা রয়েছে। ২০২১ সালের বন্দর তথ্য বলছে, দেশে ২৭ লাখ ৭১ হাজার টন ভোজ্য তেল আমদানি হয়েছে। অর্থাৎ তেলের মজুদ ও সরবরাহ পর্যাপ্ত।
বিটিটিসির সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২০-২১ অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বরে পরিশোধিত, অপরিশোধিত ও তেলবীজ মিলিয়ে ভোজ্য তেল আমদানিতে যে পরিমাণ ঋণপত্র (এলসি) খোলা হয়েছিল, ২০২১-২২ অর্থবছরের একই সময়ে তার থেকে এক লাখ ২৪ হাজার টন বেশির জন্য এলসি খোলা হয়েছে। একই সময়ে এলসি নিষ্পত্তিও হয়েছে ৩৪ হাজার টন বেশি। ফলে আমদানি ও সরবরাহ পরিস্থিতি ভালো আছে।
Latest
For Advertisement
- সহযোগী-সম্পাদক: হাসিনা রহমান শিপন
- সহ -সম্পাদক: রাশিকুর রহমান রিফাত
- নিউজ রুম ইনচার্জ : তাসফিয়া রহমান সিনথিয়া
Developed by WebsXplore