Sunday 23 August, 2026

For Advertisement

ভোজ্য তেলের দাম বাড়ার শঙ্কা

1 November, 2021 10:48:48

জ্বালানি তেলের জন্য নির্ধারিত তিনটি জেটির মধ্যে দুটি দুর্ঘটনার কারণে বন্ধ রয়েছে। তাই ভোজ্য তেলের জেটিতে খালাস করা হচ্ছে জ্বালানি তেল। ফলে ভোজ্য তেল খালাস করতে পারছেন না আমদানিকারকরা। এই অবস্থা চলছে তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে।

এদিকে নির্দিষ্ট সময়ে খালাস করতে না পারায় অপেক্ষমাণ ভোজ্য তেলবাহী জাহাজগুলোর জন্য ক্ষতিপূরণ (পোর্ট ডেমারেজ) দিতে হচ্ছে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোকেই। আর এই ক্ষতিপূরণের অর্থ ভোক্তাদের কাছ থেকেই তুলে নেবেন আমদানিকারকরা। ফলে বাজারে ভোজ্য তেলের দাম কেজিতে পাঁচ টাকা পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আবার জ্বালানি তেলের জন্য বিকল জেটি দুটি কবে নাগাদ চালু হবে, সেটিও অনিশ্চিত। তাই শিগগিরই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আশাও নেই।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জ্বালানি তেল সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ভোজ্য তেলের জন্য নির্ধারিত দুটি জেটিতেই জ্বালানি তেল খালাস করা হচ্ছে। বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে খালাসের অপেক্ষায় আছে ভোজ্য তেলবাহী পাঁচটি মাদার ভেসেল।

ভোজ্য তেল আমদানিকারক এসএ গ্রুপের (মুসকান ব্র্যান্ড) চেয়ারম্যান শাহাব উদ্দিন আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘জেটিসংকটের কারণে ভোজ্য তেল জাহাজ থেকে যথাসময়ে খালাস করতে পারছি না। তেলের জাহাজ বন্দরে ডেমারেজ দিচ্ছে। আমরা যে হারে জাহাজের ডেমারেজ দিচ্ছি, তাতে ভোজ্য তেলের দাম আরো বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’ তিনি আরো বলেন, জ্বালানি তেল খালাসের জেটিগুলো দ্রুত মেরামত করা না হলে আগামী দিনে এই সংকট আরো জটিল আকার ধারণ করতে পারে। এ ব্যাপারে সরকারি সংস্থাগুলোর দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

জানা গছে, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) নিয়ন্ত্রণাধীন পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েল কম্পানির জন্য আমদানি করা জ্বালানি তেল খালাসের নির্ধারিত জেটিগুলো হলো ডজ (ডলফিন জেটি)-৫, ডজ-৬ ও ডজ-৭। গত জুলাই মাসে দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় পদ্মা অয়েলের ডলফিন জেটি-৬। এরপর গত ৩০ সেপ্টেম্বর সকালে মেঘনা পেট্রোলিয়ামের ঘাট হিসেবে পরিচিত ডলফিন জেটি-৫-এ ডিজেলবোঝাই মাদার ভেসেল নোঙর করার সময় নিয়ন্ত্রণ হারালে জেটির চারটি পিলার ভেঙে যায়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় জেটির তেল খালাসের যন্ত্রপাতি ও পাইপলাইন। এর পর থেকে এই দুটি জেটিতে তেল খালাস বন্ধ রয়েছে।

পরে জ্বালানি তেল সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার জন্য ভোজ্য তেলের জন্য নির্ধারিত ডলফিন জেটি-৩ ও ডলফিন জেটি-৪-এ জ্বালানি তেল খালাস করা শুরু করে বিপিসি।

বেসরকারিভাবে আমদানি করা ভোজ্য তেল খালাসের জন্য ওই দুটি মাত্র জেটিই নির্ধারিত। এই দুটি জেটি থেকে লাইটার জাহাজে ভোজ্য তেল ডেলিভারিও দেওয়া হয়। অর্থাৎ দুটি জেটিতে ভোজ্য তেল লোড ও আনলোডের দুটি কাজই করা হয়।

ভোজ্য তেলের জন্য নির্ধারিত ডলফিন জেটি-৪ ব্যবহার করা প্রসঙ্গে মেঘনা পেট্রোলিয়ামের মহাব্যবস্থাপক আবদুল মোতালেব কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘যেহেতু এই জেটিটি ভোজ্য তেলের, তাই আমরা বিকল্প পাইপলাইন টেনে জ্বালানি তেল খালাস করছি। বিপিসি ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ আমাদের এই জেটি ব্যবহার করার অনুমতি দিয়েছে।’

বেসরকারি ট্যাংক টার্মিনাল সাউথ এশিয়ান ট্যাংক টার্মিনালের (এসএটিটি) ব্যবস্থাপক মো. মহিউদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, টিকে গ্রুপ, সিটি গ্রুপ ও বাংলাদেশ এডিবল অয়েল কম্পানির তিনটি বড় জাহাজ ভোজ্য তেল খালাসের জন্য চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে অপেক্ষা করছে। এসব জাহাজে ৪০ হাজার মেট্রিক টনের বেশি ভোজ্য তেল রয়েছে। নির্ধারিত সময়ে তেল খালাস করতে না পারায় জাহাজগুলোকে দৈনিক ক্ষতিপূরণ গুনতে হচ্ছে ২০ হাজার ডলার করে।

মো. মহিউদ্দিন বলেন, ‘বেসরকারি ট্যাংক টার্মিনাল থেকে ভোজ্য তেল যথাসময়ে জাহাজে লোড-আনলোড করতে না পারলে দেশের বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। গত কয়েক দিনে জাহাজভাড়া বাবদ যে পরিমান ক্ষতিপূরণ দিতে হয়েছে তাতে খুচরা পর্যায়ে সয়াবিন তেলের দাম লিটারপ্রতি পাঁচ টাকা বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছি।’

জেটি দুটি কবে নাগাদ চালু করা সম্ভব হবে, সে বিষয়ে জানতে চাইলে বিপিসির পরিচালক (অপারেশন) সৈয়দ মেহেদী হাসান গত সোমবার কালের কণ্ঠকে বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত জেটি ডলফিন-৫ সংস্কারের জন্য শিপিং কম্পানির কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ নেওয়ার বিষয়ে ওই কম্পানির স্থানীয় এজেন্টদের সঙ্গে সমঝোতা হয়েছে। বিপিসির পক্ষ থেকে ওই জেটি সংস্কারের জন্য আনুমানিক খরচ ধরা হয়েছে ১৬ কোটি টাকা। বিষয়টি নিয়ে আরো আলোচনা এবং ক্ষতিপূরণ পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডলফিন জেটি-৬ সংস্কারের প্রসঙ্গে মেহেদী হাসান বলেন, ‘বাংলাদেশ নৌবাহিনী, খুলনা, ডকইয়ার্ড ও ড্রাই ডক এই তিনটি প্রতিষ্ঠানকে আমরা সংস্কারের জন্য চিঠি দিয়েছি। কেউ এখন পর্যন্ত (গতকাল) সাড়া দেয়নি। আমরা তাঁদের সঙ্গে আবার যোগাযোগ করব।’

এদিকে জেটির সংকটের কারণে বেসরকারি বিদ্যু কেন্দ্রের জন্য আমদানি করা ফার্নেস অয়েল খালাস করা হচ্ছে না। বন্দর কর্মকর্তারা জানান, ২০ হাজার মেট্রিক টন নিয়ে সিটি গ্রুপের একটি জাহাজ, ১০ হাজার মেট্রিক টন নিয়ে টিকে গ্রুপের একটি জাহাজ, ১০ হাজার মেট্রিক টন নিয়ে বাংলাদেশ এডিবল অয়েল কম্পানির (রূপচাঁদা) একটি জাহাজ, আট হাজার মেট্রিক টন নিয়ে এমটি নর্থ ভ্যানগার্ড নামের একটি জাহাজ এবং আরো আট হাজার মেট্রিক টন ভোজ্য তেল নিয়ে ডাব্লিউ ব্লসম নামের একটি জাহাজ সাগরে অপেক্ষা করছে। জেটি খালি না পাওয়ায় পণ্য খালাস করতে পারছে না জাহাজগুলো।

Latest

For Advertisement

সম্পাদক ও প্রকাশক:- এ এফ এম রিজাউর রহমান (রুমেল), এডভোকেট- বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট
  • সহযোগী-সম্পাদক: হাসিনা রহমান শিপন
  • সহ -সম্পাদক: রাশিকুর রহমান রিফাত
  • নিউজ রুম ইনচার্জ : তাসফিয়া রহমান সিনথিয়া
© সকল স্বত্ব প্রতিচ্ছবি ডটকম ২০১৫ - ২০২২ অফিস: ৭২/২ উত্তর মুগদাপাড়া, ঢাকা ই-মেইল: dailyprotichhobi@gmail.com | মোবাইল: ০১৮১৮০৯৩১৩৭ ফোন:+৮৮০২৭২৭৭১৪৭

Developed by WebsXplore