আজ কিংবদন্তি শিল্পী ভূপেন হাজারিকার ৯ম মৃত্যুবার্ষিকী

মানুষ মানুষের জন্য জীবন জীবনের জন্য’, ‘আজ জীবন খুঁজে পাবি রে.. ছুটে ছুটে আয়’, ‘শরৎ বাবু খোলা চিঠি দিলাম তোমার কাছে’, ‘আমি এক যাযাবর’- কিংবদন্তি শিল্পী ভূপেন হাজারিকার গানে গানে ছিল এমনই আকুতির কথা ।

গানের এই প্রবাদপুরুষের ৯ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০১১ সালের ৫ নভেম্বর সুরেলা কণ্ঠের জাদুকর হয়ে যান অনন্ত পথের যাযাবর।

তিনি আজীবন মানুষের জন্য গেয়েছেন। বাংলা ও হিন্দি দু’ভাষাতেই আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা পায় ভূপেনের গান। বারবার ভীষণভাবে সময়কে ছুঁয়ে দিয়েছেন কিংবদন্তি এই গায়ক।

বাংলাদেশের সঙ্গে আত্মিক সম্পর্কের বাঁধন ছিল তার। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় এই শিল্পীর গান স্বাধীনতাকামী জনগণের মাঝে আশার আলো জাগিয়েছিল। মৃত্যুর কয়েক বছর আগে ঢাকায় এসেও ভক্ত শ্রোতাদের মাতিয়ে যান তিনি। ভূপেনের গান মানুষকে অধিকার আদায়ের সংগ্রামে উদ্দীপ্ত করে আজো।

‘মেঘ থম থম করে’, ‘মোরা যাত্রী একই তরণীর সহযাত্রী একই তরণীর’, ‘মোর গায়ের সীমানার পাহাড়ের ওপারে’, ‘বিস্তীর্ণ দু’ পাড়ে’, ‘সাগর সঙ্গমে’, দোলা হে দোলা’, ‘প্রতিধ্বনি শুনি’, ‘আমায় একটা সাদা মানুষ দাও’, ‘গঙ্গা আমার মা-পদ্মা আমার মা’, ‘জীবন নাটকের নাট্যকার কি বিধাতা পুরুষ’-এসব গানগুলো ভূপেন হাজারিকাকে বারবার মনে করিয়ে দেয় আমাদের।

১৯২৬ সালের ৮ সেপ্টেম্বর আসামের সাদিয়া গ্রামে জন্ম তার। একাধারে তিনি ছিলেন গীতিকার, সুরকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা, সাংবাদিক ও সাহিত্যিক। মানুষকে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহবান জানিয়ে গেয়েছেন অসংখ্য গান। মন্ত্রমুগ্ধের মতো তার গানে আকৃষ্ট হয়েছেন শ্রোতারা।

তিনি ৩৩টি চলচ্চিত্রে কণ্ঠ দেন। সুর ও সংগীত পরিচালনা করেন একাধিক ছবিতে। তার গান গাওয়া ও সংগীত পরিচালনায় বিখ্যাত ছবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘রুদালী’, ‘দামান’, ‘দারমিয়া’, ‘গজগামিনী’ প্রভৃতি। সর্বশেষ ২০০৬ সালে ‘চিঙ্গারী’ চলচ্চিত্রে কণ্ঠ দেন তিনি। বাংলাদেশে ১৯৭৩ সালে ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ নামে যৌথ প্রযোজনায় ছবিতে কণ্ঠ এবং ১৯৭৭ সালে ‘সীমানা পেরিয়ে’ ছবির সংগীত পরিচালনা করেন।

কিংবদন্তি এই শিল্পীর প্রতিটি গানই যেন উদ্বুদ্ধ হওয়ার মন্ত্র। ভূপেন শুধু গায়ক ছিলেন না, ছিলেন একজন মহান সমাজসংস্কারকও।