২ মালবাহী ট্রেনের সংঘর্ষে ৫ ট্যাংকার লাইনচ্যুত, রেলযোগাযোগ বন্ধ

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর সাফদালপুর স্টেশনে দুটি মালবাহী ট্রেনের সংঘর্ষে ৫টি ট্যাংকার লাইনচ্যুত হয়েছে। এ দুর্ঘটনায় খুলনার সঙ্গে সারা দেশের রেলযোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।

সোমবার দিবাগত রাত পৌনে ২টার দিকে উপজেলার সাফদালপুর রেলস্টেশনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তবে এ দুর্ঘটনায় কারও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

সংশ্লিষ্ট কোটচাঁদপুর স্টেশনমাস্টার গোলাম মোস্তফা জানান, দর্শনা থেকে পাথরবোঝাই ও যশোর নোয়াপাড়া থেকে মালবাহী ডিজেল তেলবোঝাই ট্রেন দুটি সিগন্যাল অমান্য করে একই লাইনে ঢুকে পড়ে।

এ সময় বিকট শব্দে দুটি ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এ সময় ৫টি ট্যাংকার লাইনচ্যুত হয়।

বগি লাইন থেকে পড়ে যাওয়ার ফলে বিপুল পরিমাণ ডিজেল তেল এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

ইতোমধ্যে ঈশ্বরদী থেকে রিলিফ ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছিয়েছে। সকাল ৮টা থেকে উদ্ধারকাজ শুরু করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, চালকের অসতর্কতার কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।

কোটচাঁদপুর ফায়ার স্টেশনের অফিসার আবদুর রাজ্জাক যুগান্তরকে জানান, দর্শনা থেকে খুলনাগামী পাথরবোঝাই (মালবাহি) ট্রেনটি স্টেশনে অপেক্ষায় ছিল। বিপরীত দিক থেকে আসা তেলবোঝাই মালবাহী ট্রেনটি ওই ট্রেনে আঘাত করে। এ সময় তেলবোঝাই ট্রেনের ৫টি ট্যাংকার লাইনচ্যুত হয় এবং তিনটি ফেটে তেল বের হতে থাকে।

খবর পেয়ে রাত ৩টার দিকে দমকল বাহিনীর সদস্যরা সেখানে আসেন। এর পর থেকে এলাকার সব ধরনের দোকানপাট বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এ সময় ধূমপান ও আশপাশের বাড়ি ঘরে আগুন জ্বালানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে মাইকিং করা হচ্ছে। বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কায় এ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, রেললাইনের ধারের খানাগর্ত তেলে ভর্তি হয়ে গেছে। দ্রুত ছড়িয়ে পড়া তেল অপসারণ না করা হলে পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে। সাধারণ মানুষ ছড়িয়ে পড়া তেল লুটে নিচ্ছে বলেও জানান ওই কর্মকর্তা।

এ বিষয়ে প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে দায়িত্বশীল একটি সূত্র বলেছে, সিগন্যাল পরিবর্তন না করার কারণে যশোর নোয়াপাড়া থেকে আসা তেল ট্যাংকার ট্রেনটি স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা অপর ট্রেনে আঘাত করে। এতে তেল বোঝাই কেপি ট্রেনের তিন বগি ছিটকে পড়ে এবং দুটি লাইনের ওপর থেকে যায়। পড়ে যাওয়া তেল ট্যাংকারগুলো ফেটে তেল বের হতে থাকে। সূত্রটি এ দুর্ঘটনার জন্য স্টেশন সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব অবহেলা রয়েছে বলে দাবি করেছেন।

এদিকে ঈশ্বরদী রেলওয়ে কন্ট্রোলরুম থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনাস্থলে কর্মকর্তারা অবস্থান করছেন এবং তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটির প্রধান করা হয়েছে সহকারী পরিবহন কর্মকর্তা আবদুস সোবহানকে।