সাত মাস পর খুলছে চিড়িয়াখানা

দীর্ঘ সাত মাস পর স্বাস্থ্যবিধি মেনে শর্তসাপেক্ষে জাতীয় চিড়িয়াখানা খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ১ নভেম্বর থেকে দর্শনার্থীরা চিড়িয়াখানা পরিদর্শন করতে পারবে। এটি সকাল নয়টা থেকে বিকাল তিনটা পর্যন্ত খোলা থাকবে।

সম্প্রতি বেশকিছু শর্ত প্রতিপালন নিশ্চিত করাসাপেক্ষে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরকে চিড়িয়াখানা খোলার এই অনুমতি দেয় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়।

বৃহস্পতিবার দুপুরে মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. ইফতেখার হোসেন চিড়িয়াখানা খুলে দেয়ার বিষয়টি জানিয়েছেন।

করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে গত ২০ মার্চ জাতীয় চিড়িয়াখানা বন্ধ ঘোষণা করে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়।

তবে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষকে এটি খোলা রাখার আগে করোনার সংক্রমণ এড়াতে বেশ কিছু নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে। সেগুলো হলো-

চিড়িয়াখানায় প্রবেশের ক্ষেত্রে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার লক্ষ্যে অমোচনীয় রং দিয়ে বৃত্তাকার স্থান চিহ্নিত করতে হবে। প্রবেশ গেইটসমূহে জীবাণুনাশক টানেল ও ফুটবাথ স্থাপন করতে হবে। প্রবেশ গেইটে থার্মাল স্ক্যানারের সাহায্যে দর্শনার্থীর দৈহিক তাপমাত্রা চেক করার ব্যবস্থা করতে হবে। চিড়িয়াখানার অভ্যন্তরে গুরুত্বপূর্ণ স্থানসমূহে হাত ধোয়ার জন্য বেসিন ও সাবানের ব্যবস্থা রাখতে হবে। দর্শনার্থীদের জন্য হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা রাখতে হবে। দর্শনার্থীর সংখ্যা দৈনিক সর্বোচ্চ দুই হাজারের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। প্রতিদিন গুরুত্বপূর্ণ প্রাণির এনক্লোজারের চারপাশে জীবাণুনাশক স্প্রে করতে হবে। পরিদর্শন সময় সকাল ৯টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত নির্ধারিত রাখতে হবে। ডিজিটাল ডিসপ্লের মাধ্যমে কোভিড-১৯ সংক্রান্ত সতর্কতামূলক প্রচারণা চালাতে হবে এবং ষাটোর্ধ্ব বয়সের ব্যক্তিদের চিড়িয়াখানায় প্রবেশাধিকার বন্ধ রাখতে হবে।

দর্শনার্থীদের মানতে হবে যেসব নিয়ম

চিড়িয়াখানায় প্রবেশের ক্ষেত্রে অমোচনীয় রং দিয়ে চিহ্নিত বৃত্তাকার স্থানে অবস্থান করতে হবে। প্রবেশ গেইটসমূহে স্থাপিত জীবাণুনাশক টানেল ও ফুটবাথ ব্যবহার করতে হবে। চিড়িখানার ভেতর প্রবেশের পর দিক নির্দেশক অনুসরণ করে একমুখী পথ ব্যবহার করতে হবে। বাধ্যতামূলকভাবে ফেস মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। চিড়িয়াখানায় খাবার নিয়ে প্রবেশ করা যাবে না এবং চিড়িয়াখানার ভেতরে এক জায়গায় ভিড় বা জটলা করা যাবে না।

এ বিষয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেন, ‘করোনা ক্রান্তিকালে ঢাকা শহরবাসীর বিনোদনের উল্লেখযোগ্য বিকল্প না থাকায় তাদের বিনোদন এবং শারীরিক ও মানসিক উৎকর্ষের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চিড়িয়াখানা খোলার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে চিড়িয়াখানায় থাকা প্রাণীদের খাদ্য, নিয়মিত পরিচর্যা ও স্বাস্থ্যসুরক্ষা এবং সরকারের রাজস্ব ক্ষতির বিষয়টিও বিবেচনায় নেয়া হয়েছে।’

চিড়িয়াখানায় প্রবেশ ও অবস্থানের সময় সর্বোচ্চ সতর্ক থেকে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ এবং শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য দর্শনার্থীদের অনুরোধ জানান মন্ত্রী।