ওই নারীর প্রতি কুনজর ছিল বখাটেদের

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের আলোচিত গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে নির্মম নির্যাতনের উৎসবে মেতে উঠা মূল হোতা দেলোয়ার ও বাদলকে গ্রেফতার করেছের‌্যাব-১১।

এদিকে র‌্যাব-১১ এর একটি সূত্র জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে, ওই গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে মোবাইলে নির্যাতনের দৃশ্য ধারণ করে টাকা দাবি করেছিল আসামিরা। টাকা না দেয়ার কারণেই সেই ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে দেয়া হয়।

আগে থেকেই ওই নারীর প্রতি কুনজর ছিল

অপরদিকে র‌্যাব-১১ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন জানান, আমরা নোয়াখালী বেগমগঞ্জ এলাকার একলাসপুর এলাকায় খোঁজখবর নিয়ে জেনেছি, নির্যাতনের শিকার ওই নারীর প্রায় ১৫ বছর আগে বিয়ে হয়। তার স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করার কারণে স্বামীর সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করেছিলেন ওই নারী এবং তিনি তার বাবার বাড়িতেই থাকতেন। কিন্তু কয়েক মাস আগে থেকে স্বামীর সঙ্গে সম্পর্কের উন্নতি হওয়ায় ওই নারীর বাড়িতে স্বামীর আসা যাওয়া শুরু হয়।

গ্রেফতারকৃত বাদল ও দেলোয়ার প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে, ওই নারীর প্রতি আগে থেকেই কুনজর ছিল তাদের। কিন্তু স্বামীর আসা যাওয়া শুরু হওয়ায় বিষয়টি তারা মেনে নিতে পারেনি। ফলে পরিকল্পনামাফিক তারা ঘটনাটি ঘটানোর একটি ছক আঁকে।

গত ২ সেপ্টেম্বর ওই গৃহবধূর সঙ্গে তার স্বামী দেখা করতে আসলে তাকে অপরিচিত লোক দাবি করে ব্যাভিচারের মিথ্যা অভিযোগ তোলে দেলোয়ার বাহিনী। তার স্বামীকে বেঁধে রেখেই চলে সেই পাশবিক নির্যাতন ও ভিডিও ধারণ।

বিষয়টি জানাজানি যাতে না হয় সেজন্য ওই নারীর পুরো পরিবারকে দেলোয়ার বাহিনী ওই বাসাতেই পরের দিন আটকে রাখে এবং ভিডিও ছড়িয়ে দেয়া ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়। কিছুদিন পর তারা ওই নারীর পরিবারের কাছ থেকে টাকাও দাবি করা শুরু করে। পাশাপাশি গত এক মাস ধরে তারা এ ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার কথা বলে তাকে অনৈতিক প্রস্তাব দিচ্ছিল। অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় একপর্যায়ে সেই ভিডিও ছড়িয়ে দেয়া হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন জানান, নির্যাতনের ঘটনার ৩৩ দিন পর ১৯ জনকে আসামি করে ৪ অক্টোবর রাত ১টার দিকে ধর্যণের চেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন নির্যাতিতা গৃহবধূ। পাশাপাশি ভিডিও ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগে আরও একটি মামলা হয়েছে।