ইন্টারনেট ও ক্যাবল সচল থাকে তা মেয়ররা যেন বিবেচনা করেনঃ টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী

রাজধানীতে পরিকল্পনাহীন তার অপসারণ নিয়ে দুই মেয়রকে সতর্ক করেছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। সমন্বয়হীন এমন উদ্যোগে শুধু অর্থনীতি নয়, দাফতরিক কার্যক্রমও স্থবির হয়ে পড়ার শঙ্কা তার। আর প্রযুক্তিবিদরা বলছেন, ক্যাবল অপারেটররা ধর্মঘট শুরু করলে বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারে বাংলাদেশ। আলোচনার মাধ্যমে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে সব পক্ষ।

নানা আপত্তি, অসুবিধা জানানোর পরও থেমে নেই রাজধানীতে চলছে ঝুলন্ত তার অপসারণ অভিযান। করা হয়নি বিকল্প কোনো ব্যবস্থাও। ইন্টারনেট কিংবা স্যাটেলাইট সংযোগ সেবা পেতে চরম ভোগান্তি পড়েছেন রাজধানীর লাখ লাখ মানুষ। লোকসানে পড়ে রোববার থেকে প্রতিদিন তিন ঘণ্টা করে সারাদেশে ইন্টারনেট ও ক্যাবল টিভি সেবা বন্ধের হুঁশিয়ারি দিয়েছে সেবাদাতারা।

করোনা সংকট মোকাবিলা করে দেশের অর্থনীতির স্বাভাবিক গতি ধরে রাখতে সারাবিশ্বই নির্ভর করছে অনলাইন যোগাযোগের ওপর। এই অবস্থায় হঠাৎ করে তার অপসারণে স্থবির হয়ে পরছে অর্থনৈতিক ও দাফতরিক নানা কাজকর্ম। দেশের দুই শেয়ারবাজারের লেনদেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক এমনকি বাণিজ্যিক ব্যাংকের কার্যক্রমও হচ্ছে বাধাগ্রস্ত। নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট না পেলে বন্ধ থাকবে এটিএম সেবাও। এতে শত শত কোটি টাকা লোকসানের আশঙ্কা করছেন প্রযুক্তিবিদরা।

প্রযুক্তিবিদ সালাউদ্দিন সেলিম বলেন, কোটি কোটি টাকার কমিউনিকেশন হচ্ছে এই একটি ফাইবার একটিভ ক্যাবল দিয়ে। প্রত্যেকেরই ইন্টারনেট দিয়েই মাত্র তিন মাসে একটি ইন্ডাস্ট্রি দাঁড়িয়ে গেছে। হঠাৎ করে এই ইন্ডাস্ট্রির তিন ঘণ্টার বিনোদন না থাকলে থমকে পড়বে।

আর পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়রের প্রতি অনুরোধ জানালেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার বলেন, গায়ের জোরে চাপিয়ে দিয়ে যদি কিছু করা হয়, তাহলে এর পরিণতি খারাপ হবে। এই মুহূর্তে যেন ইন্টারনেট ও ক্যাবল সচল থাকে তা মেয়ররা যেন বিবেচনা করেন।

১৭ অক্টোবরের মধ্যে চলমান সমস্যা সমাধানের সিটি করপোরেশন সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন, ইন্টারনেট ও ডিস সেবা প্রদানকারী দুটি সংগঠনের নেতারা।