ইন্টারনেটে প্রচারণা চালাচ্ছে জঙ্গিরা : ডিএমপি কমিশনার

গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারিতে নৃশংস হামলার চার বছর পালনে’ বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঘটনাস্থলে এসে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম। এ সময় তিনি বলেন, বৈশ্বিক মহামারি করোনার পরিস্থিতিতে জঙ্গি সংগঠনগুলো লোন-উলফ (একাকি) হামলার জন্য সদস্যদের উদ্বুদ্ব করার চেষ্টা করছে। ইন্টারনেট ব্যবহার করে তারা ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছে বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, বৈশ্বিক মহামারি করোনার পরিস্থিতিতে মানুষ ধর্মীয় সাইটগুলোতে বেশি ভিজিট করছেন। এটার সুযোগ নিয়ে জঙ্গি সংগঠনগুলোর সদস্যরা ইন্টারনেট ব্যবহার করে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছে। লোন-উলফ হামলার জন্য তারা সংগঠনের সদস্যদের উদ্বুদ্ধ করার চেষ্টা করছে।

আল্লার রহমতে এখন পর্যন্ত আমরা জঙ্গিবাদকে প্রতিহত করতে পেরেছি উল্লেখ তিনি বলেন, আশা করা যায় যে তারা ছোটখাটো কিছু সক্ষমতা তাদের থাকতে পারে কিন্তু বড় ধরনের কিছু করার ঘটনা সক্ষমতা তাদের নেই।

কমিশনার বলেন, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় যে জঙ্গি হামলার মুখোমুখি হয়েছিলাম সেটি ছিল হলি আর্টিজান হামলা। আজ ঘটনার চার বছরপূর্তি হলো। আমরা এখানে যে দুইজন সহকর্মীকে হারিয়েছিলাম তাদের প্রতি শ্রদ্ধা। যেসব দেশি-বিদেশি নাগরিক, নিরীহ মানুষ এই নৃশংসতার বলি হয়েছিলেন তাদের আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা ও মাগফেরাত কামনা করছি।

ডিএমপি কমিশনারের সঙ্গে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম, অতিরিক্ত কমিশনার কৃষ্ণপদ রায়। এছাড়াও ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছিলেন।

এরপর চীন, জাপান ও আমেরিকার এম্বাসেডররা এসে হলি আর্টিজান বেকারিতে নৃশংস হামলার ঘটনায় নিহতদের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

২০১৬ সালের ১ জুলাই পাঁচ অস্ত্রধারী জঙ্গি রাজধানীর গুলশানে অবস্থিত হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা করে। সেখানে অবস্থানরত দেশি-বিদেশি ব্যক্তিদের জিম্মি করে। পরে তাদের মধ্যে ২০ জনকে নির্মমভাবে হত্যা করে জঙ্গি সদস্যরা। এদের মধ্যে তিনজন বাংলাদেশি, সাতজন জাপানি, নয়জন ইতালিয়ান এবং একজন ভারতীয় নাগরিক ছিলেন।