১১টা ২৩ মিনিটে শুরু, দেখা যাবে ১টা ১২ মিনিটে

আজ ২১ জুন। বছরের দীর্ঘতম দিন বা কর্কটক্রান্তি দিবস। এই দীর্ঘতম দিনে আকাশ মেঘমুক্ত থাকা সাপেক্ষে সারা দেশ থেকে আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে।

তবে বাংলাদেশ থেকে পূর্ণ গ্রহণ দেখা না গেলেও বিশ্বের বহু দেশ থেকে দেখা মিলবে ‘রিং অব ফায়ার’ বা আগুনের বৃত্ত বা বলয় সদৃশ সূর্যগ্রহণের। বাংলাদেশে এ গ্রহণ শুরু হবে সকাল ১১টা ২৩ মিনিটে। সর্বোচ্চ গ্রহণ দেখা যাবে দুপুর ১টা ১২ মিনিটে। আর গ্রহণ শেষ হবে ২টা ১৪ মিনিটে। প্রায় একই সময়ে দেশের অন্য বিভাগীয় শহরগুলোতে এ গ্রহণ দেখা যাবে। তবে মিনিটের হিসাবে কিছুটা কমবেশি হবে। যদিও এ সময়টায় দেশের কয়েকটি অঞ্চলে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

বিজ্ঞান সংগঠন অনুসন্ধিত্সু চক্র জানিয়েছে, বাংলাদেশে আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখা গেলেও উত্তর ভারত, পাকিস্তানের দক্ষিণ ভাগ, চীন, তাইওয়ান, মধ্য আফ্রিকা থেকে বলয় গ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে। আর বাংলাদেশ থেকে পরবর্তী সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে ২০২২ সালের ২৫ অক্টোবর। সূর্যগ্রহণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অনুসন্ধিত্সু চক্র জানায়, সূর্যকে কেন্দ্র করে পৃথিবী তার নিজ কক্ষপথে ঘুরছে। একই সঙ্গে চাঁদ ঘুরছে পৃথিবীর চারদিকে।

সূর্য ও পৃথিবীকে নিয়ে একটি তল কল্পনা করলে চাঁদ সাধারণত সেই তলে থাকে না। কিন্তু কোনো কোনো অমাবস্যায়, পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে চাঁদ সেই তলে একই সরল রেখায় চলে আসে। এর ফলে সূর্য চাঁদের আড়ালে চলে যায় এবং চাঁদের সংকীর্ণ ছায়া তখন পৃথিবীর বুকে ভ্রমণ করে। সেই ছায়া যেসব জায়গার ওপর দিয়ে যায়, সেখান থেকে মনে হয় সূর্য ধীরে ধীরে ঢেকে যাচ্ছে। ছায়ার কেন্দ্রে যেসব অঞ্চল পড়বে সেখান থেকে পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখা যায়। কেন্দ্রের বাইরে আংশিক গ্রহণ দেখা যাবে। বলয় গ্রাস সূর্যগ্রহণের সময় চাঁদ তুলনামূলকভাবে পৃথিবীর কাছে থাকায় চাঁদের কৌণিক ব্যাস সূর্যের কৌণিক ব্যাসের চেয়ে কম থাকে। ফলে পূর্ণ গ্রহণ হলেও সূর্যকে পুরো ঢাকতে পারে না চাঁদ, সূর্য বলয় আকারে চাঁদের ছায়ার চারদিকে দেখা দেয়।

অনুসন্ধিৎসু চক্রের জ্যোতির্বিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি শাহজাহান মৃধা জানান, সূর্যগ্রহণ খালি চোখে দেখা অত্যন্ত ক্ষতিকর। এক্স-রে ফিল্ম, নেগেটিভ, ভিডিও-অডিও ক্যাসেটের ফিতা, সানগ্লাস, ঘোলা বা রঙিন কাচেও এসব ক্ষতিকর অতিবেগুনি ও অবলোহিত রশ্মি আটকায় না। তাই কোনোভাবেই এগুলো দিয়ে সূর্যগ্রহণ পর্যবেক্ষণ করা যাবে না।