ফেইসবুকে হাহা রিয়েক্ট, নোংরা কমেন্ট এবং আমাদের মানসিকতা!

ভীষণ এলোমেলো একটা সময় চলছে এখন। করোনা আতঙ্ক, অর্থনৈতিক টানাপোড়েন, পারিবারিক, মানসিক, বিভিন্নরকম সমস্যা আমাদের চারপাশে ছড়িয়ে আছে। বিগত কিছু দিনে অনেকগুলো উল্লেখযোগ্য ঘটনার মধ্যে দিয়ে গিয়েছি আমরা। এর একটা বড় অংশই শোকের।

অনলাইন প্লাটফর্ম যারা নিয়মিত ব্যবহার করেন এবং কিছুটা হলেও সচেতন তারা প্রায় সবাই খেয়াল করেছেন বিভিন্ন ইস্যু ভিত্তিক লেখাগুলোতে একদল মানুষ নেগেটিভ কমেন্ট করছে। মৃত্যু সংবাদ গুলোতে আসছে ‘হাহা রিয়েক্ট’!

অনলাইন ক্লাসগুলোতে কমেন্ট সেকশনে মহিলা শিক্ষিকাদের হ্যারাসমেন্ট করা হচ্ছে।

কোনো ধরনের ট্যাবু নিয়ে লেখালেখি/সচেতনতা বৃদ্ধির কথা হলেই সেখানে ধর্মীয় গোঁড়ামি আঁকড়ে চলছে ব্যক্তিগত আক্রমণ। পাল্টাপাল্টি মন্তব্যে নাস্তিক ট্যাগ দেয়া হচ্ছে মুহূর্তেই!

এইযে অনলাইন ক্লাসগুলোতে হ্যারাসমেন্টের ঘটনা, এর জন্য আপনি কাকে দায়ী করবেন? এখানে হ্যারাসমেন্ট করা ব্যক্তিটি কিন্তু একজন ছাত্র। যে কি না ভবিষ্যতে কোনো বড় অবস্থানে যাবে। তাকে এখনই শুধরে না দিলে ভবিষ্যতে হয়তো আরো খারাপ কিছু ঘটতে পারে।

সেনোরার এডে নোংরা কমেন্ট করা ব্যক্তিটি কিন্তু আপনার-আমার পরিচিত কেউ। তার কাছে সচেতনতা বা যৌক্তিক আলোচনার চেয়ে গালাগাল করা বেশি আনন্দের, বেশি সাচ্ছন্দ্যের!

কোন ট্যাবু নিয়ে আলোচনা করাটা এরা ভীষণ অপছন্দ করে।

তাদের যদি এখন বুঝিয়ে বা অন্য ভাবে না মানানো যায় তাহলে এর প্রভাব ব্যক্তি জীবন থেকে সমাজের সর্বস্তরে পড়বে।

রাজনৈতিক নেতাদের মৃত্যুর পোস্টে হাহা রিয়েক্ট দেয়া, অন্য ধর্মের কারো মৃত্যুতে ‘RIP’ লেখা নিয়ে আপত্তি তোলা, ‘আলহামদুলিল্লাহ’, ‘ভালো হইছে’, কিংবা ‘ও তো জাহান্নামী’ টাইপ কমেন্ট করা মানুষগুলো সবাই কি অশিক্ষিত? কিংবা ব্যক্তিগত আক্রোশের কারনে এমন করছে? উত্তর হলো “না”…

অনেকটা রাজনৈতিক মতাদর্শ, অনেকটা ধর্ম সম্পর্কে না জানা, এবং একটা বড় অংশই হলো আমাদের নোংরা মানসিকতার প্রকাশ।

বাঙালী জাজমেন্টাল জাতি। আমরা নিজেদের অবস্থান থেকে অন্যকে বিচার করতে ভালোবাসি। নিজের সচেতন না, কিন্তু অন্যকে গালাগালি করতে উস্তাদ! মানুষের মঙ্গলে নিজের কোনো অবদান নাই, কিন্তু অন্যের ভালো কাজের সমালোচনা করা চাই!

আমরা আসলে একটা মেন্টাললি সিক জাতি…

আমরা যদি এসব নোংরা মানসিকতার বিরুদ্ধে এখনই ব্যবস্থা না নেই তাহলে অন্ধকার ভবিষ্যতের দায়টাও আমাদের কাঁধেই বর্তাবে।