নিউজিল্যান্ডের মানুষের ভালোবাসায় তামিমের কৃতজ্ঞতা

গত বছরের মার্চে নিউজিল্যান্ডে ঘটেছিল আকস্মিক ঘটনা। ক্রাইস্টচার্চের আল নূর নামের মসজিদে বন্দুকধারীরা হামলা চালায়। ওই ঘটনায় অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা।

হামলার পরদিনই বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ডের টেস্ট ম্যাচ খেলার কথা ছিল। কিন্তু টেস্ট ম্যাচ বাতিল করে একদিন পরই দেশে বিমান ধরেন ক্রিকেটাররা।  অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক ব্রেন্টন ট্যারেন্ট গুলি করে ৫১ জনকে হত্যা করেছিল। জুমার নামাজ পড়তে যেতে একটু দেরি হওয়ায় অল্পের জন্য ক্রিকেটারদের বিপদে পড়তে হয়নি। তবে সেদিনের লোকমর্ষক ঘটনা একেবারে সামনে থেকে টের পেয়েছিলেন তামিম, মুশফিক, মাহমুদউল্লাহরা।

ঘটনার পর নিউজিল্যান্ড সরকার সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেয় বাংলাদেশ দলকে। দেশের বিমানে উঠার আগ পর্যন্ত নিউজিল্যান্ডের মানুষ মুশফিক, তাইজুল, মিরাজদের ভালোবাসায় আগলে রাখেন। যে কোনও প্রয়োজনে এগিয়ে এসেছিলেন তারা। খুব বেশিদিন আগের ঘটনা না হওয়ায় সেসব স্মৃতি আজও তরতাজা তামিমের মনে। তাইতো বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক দলের পক্ষ থেকে নিউজিল্যান্ডের সবার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন কেন উইলিয়ামসনের মাধ্যমে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে তামিমের লাইভ আড্ডায় অতিথি হয়ে এসেছিলেন কেন উইলিয়ামসন। নিজেদের আড্ডার শেষ দিকে তামিম ক্রাইস্টচার্চের ভয়াবহ দিনগুলোর স্মৃতি চারণ করে বলেন,‘২০১৯ সালে ক্রাইস্টচার্চে যা হয়েছে…আমি গভীরে যেতে চাই না তবে ওই ঘটনার পর নিউজিল্যান্ডের সবাই আমাদের যেভাবে আগলে রেখেছে তা সত্যিই আমাদের জন্য ছিল অনেক পাওয়া। জিনিসগুলো ছোট ছোট কিন্তু সেগুলো ওই সময়ে আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল।’

‘হোটেলের প্রত্যেকে আমাদের জিজ্ঞেস করেছে আমাদের কিছু লাগবে কিনা। নিউজিল্যান্ডের মানুষ যে ভালোবাসা দেখিয়েছে, আমাদের দলের প্রত্যেকে আজীবন মনে রাখবে।’

তামিম ধন্যবাদ জানান নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীকেও, ‘তোমাদের প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সবাই আমাদের সর্বোচ্চ সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করেছিল। ওই সময়টায় আমাদের দলের জন্য নিউজিল্যান্ডের প্রত্যেকের নিবেদন…সব কিছুর জন্য বাংলাদেশ দলের পক্ষ থেকে আমি তোমাদের জানাই আন্তরিক কৃতজ্ঞতা।’

ক্রাইস্টচার্চের ঘটনা খুব কাছ থেকে দেখেছেন তামিমরা। তাইতো বাংলাদেশ দলের দুঃস্মৃতি টের পেয়েছিলেন কেন উইলিয়ামসও। বাংলাদেশ দলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে উইলিয়ামস বলেছেন,‘ঘটনাটা খুবই ভয়ংকর ছিল। বাংলাদেশ দল তখন ঘটনার কাছাকাছি ছিল। তোমাদের অভিজ্ঞতা হয়েছিল খুব কাছ থেকে। তোমাদের প্রত্যেকের কঠিন সময়ের ভেতরে যেতে হয়েছে। ওই ঘটনা আমাদের দেশকেও নাড়িয়ে দিয়েছিল। আমাদের জন্য খুবই দুঃখজনক ঘটনা ছিল।’