ঈদের আগে বেশিরভাগ সবজির দাম চড়া

করোনা সংকটের মধ্যে আসছে ঈদ। এর মধ্যে উপকূলীয় এলাকাসহ দেশের উত্তরের বেশ কয়েকটি জেলায় তাণ্ডব চালিয়েছে আম্ফান।

এ সংকটের মধ্যেও বাজারে সবজিসহ বেশিরভাগই নিত্যপণ্যের দাম চড়া। গত এক সপ্তাহে সবজি যে দামে বিক্রি হচ্ছিল, সেটি এই সপ্তাহের শুরুতে দ্বিগুণে দাঁড়িয়েছে। গরু ও খাসির মাংস নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি হলেও কেজিতে ২০ টাকার বেশি দাম বেড়েছে ব্রয়লার মুরগির। মাছের দাম স্থিতিশীল হলেও বাজারে সরবরাহ কম।

শুক্রবার (২২ মে) রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, পটল ৪০-৫০ টাকা, করলা ৩০-৪৫ টাকা, বরবটি ৬৫-৭০ টাকা, ঝিঙা ৫৫-৬৫ টাকা, চিচিংগা ৬০ টাকা, কচুর লতি ৬৫ টাকা, গাজর ১০০ টাকা, শশা ৪৫-৫০ টাকা কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে। এসব সবজি গত সপ্তাহেও অর্ধেক দামে বিক্রি হচ্ছিল।

সবজির দাম বাড়ার কারণ জানতে চাইলে মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের ব্যবসায়ী সাদিক মিয়া বলেন, আড়তে গাড়ি ঠিকমতো আসছে না। এ কারণে কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা করে পাইকারি বাজারেই দাম বেড়েছে।

কারওয়ান বাজারের আড়তদার মোইমিন হোসেন বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের কারণে অনেক ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। কৃষকরা ফসল তুলতে পারছেন না। আবার যা আছে করোনার কারণে পরিবহনও ঠিকমতো হচ্ছে না। সবকিছু মিলিয়ে একটা সংকট তৈরি হয়েছে। এজন্য দাম কিছুটা বেড়েছে।

কৃষি মার্কেটের ব্যবসায়ী রুমেল বলেন, পাইকারি বাজারে সবজি কম। দাম বেশি। চাহিদা মতো আনতে পারিনি। এই সমস্যা ঈদ পর্যন্ত থাকতে পারে। ঈদের পর আবার স্বাভাবিক হবে।

সম্প্রতি বয়লার মুরগির দামও ক্রমান্বয়ে বাড়ছিল। এ সপ্তাহেও দাম বেড়েছে। গত সপ্তাহে সাদা ব্রয়লার ১৫০ থেকে ১৭০ টাকা করে বিক্রি হলেও এ সপ্তাহে ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। লাল লেয়ার মুরগি ২১৫ থেকে ২২৫ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস (হাড়সহ) ৫৫০, গরুর মাংস (হাড় ছাড়া) ৬৫০ এবং খাসির মাংস ৭৫০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে।

শ্যামলী এলাকার মুরগি ব্যবসায়ী ওবায়দুল্লাহ বলেন, রোজার আগে ১০৫ থেকে ১১৫ টাকা কেজি বিক্রি করেছি। এখন সাপ্লাই কমের কারণে দাম বেড়েছে। তবে লেয়ার মুরগির দাম আগের মতোই আছে।

যাত্রাবাড়ী মাছের আড়তের ব্যবসায়ী জুয়েল জানান, মাছের দাম এ সপ্তাহে বাড়েনি। রুই (ছোট) ২২০ থেকে ২৫০টাকা কেজি, রুই (বড়) ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি, তেলাপিয়া ১৩০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি, পাঙাস ১৩৫ থেকে ১৬৫ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

তিনি বলেন, আম্ফানের কারণে অনেক মাছের খামারে ক্ষতি হয়েছে। এই সপ্তাহে মাছের সাপ্লাই ঠিকমতো না হলে পরে দাম বাড়তে পারে।

এদিকে, সয়াবিন তেল ৯০-৯৫ টাকা, পাম অয়েল ৭৫-৮০ টাকা, মশুরের ডাল ৮০-৯০ টাকা, ছোট দানার মশুরের ডাল ১২০-১৪০ টাকা, দেশি রসুন ৮০-১০০ টাকা এবং আমদানি করা রসুন ১৩০-১৫০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

সার্বিক বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সরকারী পরিচালক আব্দুল জব্বার মণ্ডল বলেন, করোনার মধ্যে আমরা ঝুঁকি নিয়ে নিয়মিত বাজার তদারকি করছি যেন কেউ পণ্যে বাড়তি মূল্য নিতে না পারে। কোথাও বাড়তি মূল্য পণ্য বিক্রি হলে বা কৃষক থেকে শুরু করে পাইকারি ও খুচরা বাজারে দামের বড় ধরনের পার্থক্য থাকলে অভিযান পরিচালনা করে জরিমানা করা হবে।