আদালত খুলে দেওয়া প্রসঙ্গে

সুপ্রীম কোর্টের ক্যালেন্ডার মোতাবেক আগামী ১৫ ই মে থেকে ৩০শে মে পর্যন্ত সুপ্রীম কোর্টের  অবকাশকালীন ছুটি।
এদিকে সরকারী ছুটি বাড়ল আগামী ১৫ ই মে পর্যন্ত।সারা বাংলাদেশে গত ৪ঠা এপ্রিল থেকে সকল আদালত বন্ধ আছে।সরকারী চাকুরীজীবিদের চিন্তার কোন কারন নেই।তাদের সরকারী বেতন তো আছেই।সরকারী আইন কর্মকর্তাগন ও সম্মানী পাবেন।কিন্তু সারাদেশের আইনজীবি সমাজ পড়েছেন বিপাকে।আদালত বন্ধ থাকায় তাদের রুটি রুজির কোন সুযোগ নেই।অন্যদিকে বিচারের আশায় ফরিয়াদী ও ক্ষতিগ্রস্থ লোকজনদের বলতে গেলে করুণ দশা।আইনের শাসন নিশ্চিতের পথে এ এক ধরনের বড় বাঁধা।কারো কোন কথা বলার সুযোগ নেই।
সাংবিধানিক অধিকার রক্ষার মত কোন সুযোগ নেই।তারপরও সারাদেশের আইনজীবিদের কথা না ভেবে কতিপয় আইনজীবি ভার্চুয়াল কোর্ট চালু করার জন্য করছেন দৌড়ঝাঁপ।সকল আইনজীবিদের সমান অধিকার নিশ্চিত করে ব্যবস্থা গ্রহন না করলে ক্ষতিগ্রস্থ হবেন আইনজীবি সমাজ।কিছু আইনজীবি এর সুবিধা হয়ত: পাবেন।কিন্তু তাতেই কি কোন সমাধান হবে?প্রশ্ন বিশ্লেষকদের।
আমরা যারা সর্বোচ্চ আদালতে প্র্যাক্টিস করছি,তারা না হয় এ নিয়ে ভাবাভাবির প্রয়োজন মনে করব না।কিন্তু সারাদেশে আদালত বন্ধ থাকার কুফল পড়ছে সারাদেশের আইনজীবিদের উপর।পড়ছে বিচারপ্রার্থী সাধারন মানুষের উপর।এটা এ মুহুর্তে মারাত্মকভাবে ভাবিয়ে তোলার বিষয়।থানায় সব মামলা আমলে নেয় না।সেক্ষেত্রে ফরিয়াদী বিচারপ্রার্থীর যাবার জায়গা কোথায়?আদালতই একমাত্র পরিত্রানের স্থান।
কিন্তু তা ও বন্ধ।তবে চিন্তা করে দেখুন তারা কত অসহায়?আমরা হয়তঃ উচ্চ আদালতে প্র্যাক্টিস করি বিধায় নিম্ন আদালতে প্র্যাক্টিস করা আইনজীবিদের দুঃখ দূর্দশা অনুভব করতে পারি না।ঢাকা আইনজীবি সমিতি ও সুপ্রীম কোর্ট বার এসোসিয়েশন আইনজীবিদের লোন প্রদানের ব্যবস্থা করেছেন।বাংলাদেশ বার কাউন্সিলও প্রায় ৪ কোটি টাকা লোন বরাদ্দের ঘোষনা দিয়েছে।এজন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানাই।
কিন্তু লোনের মাত্রা বিবেচনায় আইনজীবিদের জীবন মানের তুলনায় লোনের পরিমান অপ্রতুল।একথা অস্বীকার করার উপায় নেই।বাংলাদেশ বার কাউন্সিল ঘোষিত ৪লক্ষ টাকাই শুধুমাত্র ঢাকা আইনজীবি সমিতির নিকট পাওনা।যারা হাজত বাস করছেন,তাদের ন্যায় বিচার পাওয়ার জায়গাও নেই।অনেক ক্ষেত্রে জামিনের হকদার ব্যক্তিরাও পড়ে আছেন জেল হাজতে।জামিন শুনানীর সুযোগ পাচ্ছেন না।
সরকার মানবতা বিবেচনায় অনেক আসামীকে জেল থেকে মুক্তি দিচ্ছেন।কিন্তু তাও প্রয়োজন ও আইনী বিবেচনায় অপ্রতুল।কেননা আদালত ছাড়া গুরুতর অপরাধে অভিযুক্তদের জামিনের পথ রূদ্ধ।চলমান পরিস্থিতিতে এর আশু সমাধান আবশ্যক।নতুবা আমাদের মানবতার বড় বড় কথা ব্যর্থতার আবরনে আচ্ছাদিত হয়ে যাবে।যদিও বিপরীতে অনেকে করোনা’র ভয়াবহ পরিস্থিতির কথা ভাবছেন।তারা কি কখনও ভেবে দেখেছেন?গার্মেন্টস ফ্যাক্টরী খুলে দেবার কথা বলে ১-২ এপ্রিলে কত শ্রমিক ঢাকায় এসেছেন।
গত দুইদিনে কত হাজার হাজার গার্মেন্টস শ্রমিক ঢাকায় এসেছেন?তারা কোথায় থাকছেন?কারা আক্রান্ত,তার কোন পরীক্ষা করা হয়েছে?নিশ্চয়ই না।সবাইকে সাবধান থাকতে বলা হয়েছে।ঈদ উপলক্ষে দোকান পাট,শপিং মল খুলে দেওয়া হয়েছে।কিন্তু বন্ধ শুধুমাত্র আইনজীবিদের রুটি রুজির পথ।
তাই সারা বাংলাদেশের আইনজীবিদের স্বার্থ বিবেচনায় ন্যায় বিচার নিশ্চিত করার বৃহত্তর স্বার্থে সারা বাংলাদেশে নিম্ন আদালত খুলে দেওয়াই বাঞ্চনীয়।অন্যথায় যারা ন্যায় বিচার নিশ্চিত করার জন্য লড়ছেন,তারা হবেন পরাজিত।ন্যায়বিচার হবে প্রশ্নবিদ্ধ।বিষয়টি নিয়ে ভাববেন বিচারবিভাগ ও নির্বাহী বিভাগের প্রধান।এমনটাই আশা আইনজীবিদের।
ডঃ মোঃ কুতুব উদ্দীন চৌধুরী।
এডভোকেট,বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।